দৌড় দিয়েও রক্ষা পেলেন না বাংলাদেশিরা

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের বিশেষ অভিযানে ২৩ বাংলাদেশিসহ ৪১ প্রবাসী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ইমিগ্রেশনের পরিচালিত অভিযানে সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলম অভিযানে সেকশন ২৩ এলাকার একটি ব্যাটারি গুদামে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে কয়েকজন শ্রমিক খালি পায়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ দৌড়াতে গিয়ে হোঁচটও খান। তবে তারা বাইরে অপেক্ষমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় গুদামের ভেতরে অন্য কিছু বিদেশি শ্রমিক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং খাবার খাচ্ছিলেন।

দৌড় দিয়েও রক্ষা পেলেন না বাংলাদেশিরা

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক খাইররুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, কাগজপত্রবিহীন সন্দেহে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ জন বাংলাদেশি, ৯ জন পাকিস্তানি, সাতজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয়।

তিনি বলেন, আটকদের ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করা এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণ ও বাগান খাতের জন্য ইস্যুকৃত ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে ব্যাটারি গুদামে কাজ করছিলেন।

দৌড় দিয়েও রক্ষা পেলেন না বাংলাদেশিরা

তাদের বিরুদ্ধে ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালার রেগুলেশন ৩৯(বি) এবং ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গুদামটির নিয়োগকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে বলে জানান পরিচালক। আটক সবাইকে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।

দৌড় দিয়েও রক্ষা পেলেন না বাংলাদেশিরা

এদিকে একই সমন্বিত অভিযানে সকাল ১০টা থেকে কুয়ালা লাংগাটের একটি বাক্স কারখানা এবং শাহ আলমের একটি লোহার গুদামেও অভিযান চালানো হয়। ওই দুই স্থানে মোট ১২১ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং সবাই বৈধ নথিপত্রসহ পাসের শর্ত মেনে কাজ করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

খাইররুল বলেন, এ ধরনের নিয়োগকর্তাদের আমি সাধুবাদ জানাই। তাদের শ্রমিকরা যথাযথভাবে নিবন্ধিত। এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

দৌড় দিয়েও রক্ষা পেলেন না বাংলাদেশিরা

শাহ আলমের একটি ইস্পাত কারখানায় পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, বিরতির মধ্যে কয়েকজন শ্রমিক ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ অভিযানে তারা কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেও পরে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র প্রদর্শন করেন।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]