প্রতিদিন ৩ হাজার বুকিং বাতিল, সংকটে মালদ্বীপের পর্যটন খাত

মোহাম্মদ মাহামুদুল
মোহাম্মদ মাহামুদুল মোহাম্মদ মাহামুদুল
প্রকাশিত: ১২:৩৫ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে মালদ্বীপের পর্যটন খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ পর্যটকের বুকিং বাতিল হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে- এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফোরকান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাবগুলোর মাধ্যমে ইউরোপ থেকে মালদ্বীপে আসা পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতার কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বহু পর্যটক তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন। ফলে পর্যটননির্ভর মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ পর্যটকের বুকিং বাতিল হচ্ছে। এর ফলে শুধু রিসোর্ট নয়, বরং পর্যটন সংশ্লিষ্ট পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, স্থানীয় গেস্টহাউসসহ বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি ব্যবসাও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল ব্যবস্থায় হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে মালদ্বীপে আসার পরিকল্পনা করা হাজারো পর্যটকের যাত্রা স্থগিত হয়ে গেছে। কারণ ইউরোপ থেকে মালদ্বীপে আসা অনেক পর্যটকই দুবাই, দোহা বা আবুধাবির মতো মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাব ব্যবহার করেন।

পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি মাসে মালদ্বীপে আসা ২ লাখ ২৫ হাজার পর্যটকের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজারই ছিলেন ইউরোপ থেকে আগত। এদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ভ্রমণ করেন। তাই ওই অঞ্চলের অস্থিরতা ইউরোপীয় বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়- পর্যটনমন্ত্রী ইব্রাহিম জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মালদ্বীপে আসা এয়ারলাইন্সগুলোর আসন সক্ষমতা প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া আগে বুকিং করা পর্যটকদের প্রায় ৩৫ শতাংশের মালদ্বীপে না আসার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার এয়ারওয়েজ ও গালফ এয়ারসহ বড় এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইটেও বিঘ্ন ঘটছে।

এরই মধ্যে ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রায় ৪৯০০ পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেননি মালদ্বীপে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছেন, যা দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছে।

পর্যটন মন্ত্রণালয় এখন বিকল্প বাজারের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন, ভারত ও রাশিয়া থেকে পর্যটক বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব দেশে বিশেষ প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার অ্যারোফ্লোট এবং ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এয়ার এশিয়া থেকেও মালদ্বীপে ওয়াইড-বডি বিমান চালুর প্রস্তুতি চলছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে মালদ্বীপে আটকেপড়া ১৬৮০-এর বেশি পর্যটককে এরই মধ্যে সহায়তা দিয়েছে সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তাই এই সময় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করে মালদ্বীপকে নিরাপদ ও সহজ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]