বিয়ের পর নব দম্পতির প্রথম আমল ও দোয়া

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৮ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিয়ের পর নব দম্পতির প্রথম মধুময় সময়কে বাসর বলা হয়। এ সময়টিতে দুই জন নতুন মানুষ বৈধভাবে একে অপরের কাছাকাছি আসে। এ সময়ে উভয়ের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়।

এ সময়ে নব দম্পতির করণীয় সম্পর্কে অনেকেই অনেক বিষণ্নতা বা দ্বিধায় ভোগেন। এ সময়ের নানা বিষয় সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ইসলাম এ সমস্পর্কে সুন্দর ও উত্তম সমাধান দিয়েছে।

বিয়ের পর নব দম্পতির করণীয়
>> বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী প্রথম সাক্ষাতে দুই রাকাআত নাফল একসঙ্গে আগ-পিছ দাঁড়িয়ে আদায় করবে। নামাজ সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা-

- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘স্ত্রী স্বামীর কাছে গেলে স্বামী দাঁড়িয়ে যাবে এবং স্ত্রী তার পেছনে দাঁড়াবে। অতঃপর তারা একসঙ্গে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবে। নামাজের সময়টি যদি রাতের বেলা হয় তবে কেরাত একটু উচ্চ স্বরে পড়বে আর যদি দিনের বেলা হয় তবে নিম্ন স্বরে পড়বে।

- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বর্ণনা করেন, ‘ভালবাসা ও সুসম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। আর ঘৃণা বা রাগ-গোস্বা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কারণ সে আল্লাহর হালাল করা বিষয়ে (শয়তান) তোমাদের মাঝে ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। সুতরাং তোমার স্ত্রী তোমার কাছে আসলে তাকে বল, সে যেন তোমার পেছনে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ও তাবারানি)

>> নামাজের পর দোয়া পড়া
নামাজের পর পরিবারের বরকত ও কল্যাণে উভয়ে এ দোয়া করবে। কিংবা স্বামী দোয়া করবে আর স্ত্রী আমিন আমিন বলবে-
اَللّهُمَّ بَارِكْ لِىْ فِىْ أَهْلِىْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِىَّ، اَللّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ بِخَيْرٍ و فَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিকলি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিইয়্যা; আল্লাহুম্মাজমাঅ বাইনানা মা জামাতা বিখাইরিন ওয়া ওয়া ফাররিক বাইনানা ইজা ফাররাক্বতা ইলা খাইরিন।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন এবং আমার ভিতরেও বরকত দিন পরিবারের জন্য। হে আল্লাহ! আপনি তাদের থেকে আমাকে রিজিক দিন আর আমার থেকে তাদেরকেও রিজিক দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যতদিন একত্রে রাখেন কল্যাণের সঙ্গেই একত্রে রাখুন। আর আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলে কল্যাণের পথেই বিচ্ছেদ ঘটান।’ (তাবারানি)

>> নববধূর কপালে হাত রেখে স্বামীর দোয়া
বিয়ের পর উভয়ে একত্রে নামাজ আদায় করে দোয়া করবে এবং স্বামী তার স্ত্রীর কপালে হাত রেখে এ দোয়া করবে। এভাবে দোয়া করা সুন্নাত। আর তাহলো-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ،
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা; ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা আলাইহি; ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা; ওয়া শাররি মা জাবালতাহা আলাইহি।’ (আবু দাউদ)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি এর যত কল্যাণ রয়েছে এবং যত কল্যাণ তার স্বভাবে আপনি দিয়েছেন তা চাই। আর এর যত অকল্যাণ রয়েছে এবং যত অকল্যাণ ওর স্বভাব-চরিত্রে আপনি রেখেছেন তা থেকেও আপনার আশ্রয় চাই।’ অতপর-

>> দোয়ার পর সম্ভব হলে একে অপরকে দুধ অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়াবে।
>> একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসাপূর্ণ কথাবার্তা বিনিময় করবে।
>> পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হবে।
>> উভয়ের মনের ভয়-ভীতি, সংকোচ, হতাশ কিংবা বিষন্নতা দূর করবে।
>> আন্তরিকতা ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে-
বিয়ের পর প্রথম সাক্ষাতেই কি স্বামী-স্ত্রী পরস্পর মিলিত হতে পারবে?
‘হ্যাঁ’, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী ইচ্ছা করলে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে। এতে ইসলামের কোনো বাঁধা নেই। কেননা বিয়ের মাধ্যমে তারা উভয়ে একে অপরের জন্য হালাল হয়েছেন। তবে উভয়ে নতুন হওয়াতে তাদের মাঝে জড়তা কিংবা দ্বিধা থাকতে পারে। সে কারণে পারস্পরিক ভালোবাসাপূর্ণ ভাববিনিময়ের মাধ্যমে উভয়কেই স্বাভাবিক হতে হবে।

তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পাদনের পর পারস্পরিক আন্তরিকতাপূর্ণ সুসর্ম্পক তৈরি করে যদি তারা উভয়ে স্বাভাবিক হতে পারেন তবে সহবাসে কোনো অসুবিধা নেই।

>> সহবাসের সময় যে দোয়া পড়া সুন্নাত
সবহাসের সময় তারা উভয়ে তাদের উভয়ের কল্যাণের জন্য এ দোয়াটি পড়বে। যাতে রয়েছে শয়তানের আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার আবেদন। তখন এ দোয়াটি পড়া সুন্নাত। আর তাহলো-
ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺟَﻨِّﺒْﻨَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ، ﻭَﺟَﻨِّﺐْ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﺭَﺯَﻗْﺘَﻨَﺎ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা।’ (বুখারি, মুসলিম)

অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদের উভয়কে শয়তানের হাত (কুনজর-আক্রমণ) থেকে রক্ষা করুন। আমাদের (এ মিলনে) যদি কোনো সন্তান দান করেন তাকেও শয়তানের হাত (কুনজর-আক্রমণ) থেকে রক্ষা করুন।’

উল্লেখ্য যে, নব দম্পতির প্রথম দেখায় এ দোয়াগুলো ছাড়াও তারা নিজেদের দাম্পত্য জীবনের কল্যাণ ও বরকত কামনায় মহান রবের কাছে মন খুলে দোয়অ করতে পারেন। উভয়ে এক সঙ্গে কিংবা আলাদা দোয়া করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নব দম্পতিকে জীবনের প্রথম রাত কিংবা দিনের বাসর সময়ে উল্লেখিত নিয়মগুলো যথাযথ মেনে চলার মাধ্যমে পরবর্তী জীবনের জন্য আল্লাহর কাছে বরকত ও কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/জেআইএম