ব্রিটিশ মুসলিম নারী পুলিশের জন্য হিজাবের অনুমোদন!

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

মুসলিম নারীদের জন্য হিজাব ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। ব্রিটেনের নর্থ ইয়র্কশায়ারে মুসলিম নারী পুলিশেরে জন্য ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে হিজাবের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ। উজমা আমিরেড্ডি ও আরফান রাউফ নামে দুই মুসলিম নারী-পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তাই নারী পুলিশের হিজাবের ডিজাইন করেছেন। খবর বিবিসি।

নর্থ ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানায়, প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার কাজের জন্য উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে জানান নর্থ ইয়র্কশায়ার পুলিশ। তারা আরও জানায, আমরা যাদের সেবা দিয়ে থাকি তাদের প্রতিনিধিত্ব করাটাও জরুরি।

জানা যায, ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম ব্রিটিশ হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারী পুলিশ উজমা আমিরেড্ডি আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আরফান রাউফ-এর সঙ্গে নতুন এই হিজাবের ডিজাইন করেন।

নারী পুলিশ কর্মকর্তা উজমা আমিরেড্ডি বলেন, আমি ব্রিটিশ মুসলিম। ব্রিটেনের সেবায় কাজ করতে চাই। পেশা হিসেবে পুলিশের কাজ আমার দারুণ পছন্দের। কিন্তু হিজাববিহীন এই পেশা পূর্ণ মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে ছিল প্রতিবন্ধকতা।

নারী এ পুলিশ কর্মকর্তা নিজের ডিজাইন করা হিজাব সম্পর্কে আরও জানান, মুসলিম নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে হিজাব আমাকে পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে। নতুন এই হিজাবে রয়েছে দুইটি অংশ। এক অংশ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা যায় আর অপর অংশ দিয়ে গলাও ঢেকে রাখা যায়। সংঘাতের সময় এ হিজাব সুরক্ষা দিতে পারবে বলেও জানান তিনি।

হিজাবের ডিজাইনার আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আরফান রাউফ বলেন, নারী পুলিশের জন্য নতুন ডিজাইনের এ হিজাব নিয়ে আমরা দারুণ খুশি। এটি মানানসই। পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং সমাজকে সঠিক বার্তা দিতে প্রতিবন্ধকতা হবে এ হিজাব। সেই সঙ্গে মুসলিম নারীদের মূলবোধও বজায় থাকবে।

উল্লেখ্য ২০০৬ সালে প্রথম ব্রিটেনের লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিফর্মে হিজাব যুক্ত হয়। ২০১৬ সালে স্কটল্যান্ড পুলিশ বিভাগও একই পথ অনুসরণ করে। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া পুলিশের সদস্য মাহা সুক্কার ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরতেন। ২০১৪ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর নারী পুলিশরাও হিজাবের অনুমতি পায়। ২০১৬ সাল থেকে কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড নারী পুলিশের সদস্যরা ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে হিজাব ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে নিউজিল্যান্ড পুলিশেও হিজাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]