বাকিতে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে কি সুদ হবে?

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মূল্য পরিশাধে ব্যর্থ হলে মূল্য বৃদ্ধির শর্ত থাকলে বাকিতে বেচাকেনা নাজায়েজ

বিভিন্ন কোম্পানি বাকিতে পণ্য বিক্রি করে। বাকিতে কিনলে নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়। সুদের সাথে কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় এ ধরনের বেচাকেনা জায়েজ কি না এ প্রশ্ন জাগে অনেকের মনে।

এ প্রশ্নের উত্তর হলো, বাকিতে পণ্য বেচাকেনা করা জায়েজ। নগদ মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য যা, বাকিতে বেচাকেনার ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য তার চেয়ে বেশি হলেও তা জায়েজ হবে। মূল্য পরিশোধের সময়সীমা কমবেশি অনুযায়ী মূল্য কমবেশি করাও জায়েজ।

তবে শর্ত হলো, বেচাকেনার সময় যে কোনো একটি মেয়াদ চূড়ান্ত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী একটা মূল্য চূড়ান্ত করে দিতে হবে। অর্থাৎ গ্রাহক যদি পণ্যটি কিস্তিতে নেয় তবে তা কত মাসে পরিশোধ করবে এবং মোট কত টাকা পরিশোধ করবে তা চুক্তির সময়ই নির্ধারণ করে নিতে হবে।

বেচাকেনা সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো মূল্য আদায়ে বিলম্ব হলেও মূল্য বাড়ানোর শর্ত থাকতে পারবে না। পূর্ব নির্ধারিত মূল্য অপরিবর্তিত থাকতে হবে। গ্রাহকের দায়িত্ব হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাকি থাকা মূল্য আদায় করে দেওয়া। যেন বিলম্বের কারণে বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বাকি থাকা মূল্য নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আদায় না করলে যদি মূল্য বৃদ্ধির শর্ত থাকে, তাহলে তা সুদি কারবারের অন্তর্ভুক্ত ও হারাম হবে। কোনো কোম্পানি বা ব্যবসায়ী না জেনে এ রকম বেশি মূল্য আদায় করলে তাদের দায়িত্ব ক্রেতাদের ওই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া। সেটা অসম্ভব হলে ওই টাকা তাদের পক্ষ থেকে গরিব-মিসকীনদের সদকা করে দিতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

ওএফএফ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।