নবী জীবনের গল্প

রাসুলের (সা.) মানবিক ও সংবেদনশীল চরিত্র

মওলবি আশরাফ
মওলবি আশরাফ মওলবি আশরাফ , আলেম ও লেখক
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬
রাসুলের (সা.) মানবিক ও সংবেদনশীল চরিত্র ছবি: জেমিনি এআই

রাসুল (সা.) ছিলেন অত্যন্ত মানবিক, সহানুভূতিশীল ও সংবেদনশীল মানুষ। মানুষের সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারে তিনি খুব সতর্ক ও সচেতন থাকতেন। এখানে আমরা তার সংবেদনশীলতার কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি।

একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.) ফজরের নামাজ পড়াচ্ছিলেন। ফজর নামাজ সাধারণত লম্বা কেরাত দিয়ে পড়া হয়। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) খুব দ্রুত নামাজ শেষ করে ফেলেন। নামাজ শেষে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আজকে এত তাড়াতাড়ি নামাজ শেষ করে ফেললেন যে?

উত্তরে তিনি বললেন, নামাজের সময় আমি এক শিশুর কান্নার আওয়াজ পেলাম। আমার মনে হলো সেই শিশুর কান্নার কারণে তার নামাজরত মা খুব পেরেশানিতে পড়বে। (আখলাকুন নবী: ১৫৭)

অর্থাৎ মাত্র একজন মুসুল্লির পেরেশানির কথা চিন্তা করে তিনি সাধারণ নিয়ম ভঙ্গ করে দ্রুত নামাজ শেষ করে ফেললেন! মানুষের সুবিধা-অসুবিধার দিকে তিনি এতটাই খেয়াল রাখতেন।

রাসুলের (সা.) সময়ে কিছু লোক ছিল যারা মদিনার মসজিদে ঘুমাতেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) মসজিদে ঢুকে কাউকে সালাম দিলে এত আস্তে সালাম দিতেন যেন শুধু ওই ব্যক্তিই শোনে, অন্যরা যেন জেগে না যায়। (সহিহ মুসলিম: ২০৫৫)

একবার মদিনা থেকে অনেক দূরের এক অঞ্চল থেকে সাহাবি মালিক বিন হুওয়াইরিস (রা.) তার গোত্রের কিছু মানুষের সাথে আল্লাহর রাসুলের (সা.) কাছে এসেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাসুল (সা.) থেকে ইসলাম শিখে নিজের গোত্রের মানুষকে তা শেখানো। তারা মদিনায় বিশ দিন থাকার পর আল্লাহর রাসুলের (সা.) মনে হলো—তাদের নিশ্চয় এখন বাড়িতে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সাধারণত বাড়ি থেকে দূরে থাকলে সবারই বাড়ি যেতে মন কামড়ায়। মা-বাবা, সন্তানাদি ও আপনজনের চেহারা দেখতে ইচ্ছা করে। কাজেই রাসুল (সা.) তাদের ডাকলেন এবং বাড়িতে কারা কারা আছে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা সব খুলে বললেন। এরপর তিনি বললেন, এবার তোমরা নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাও, এবং তাদের সাথে থাকো। (আখলাকুন নবী: ১৫৮, সহিহ মুসলিম: ৬৭৪)

শুধু বড়দের নয়, বাচ্চাদের মন-মানসিকতার দিকেও তিনি লক্ষ্য রাখতেন। তাদের সাথে তাদের মতো করেই আচরণ করতেন। তাদের মধ্যে যে চপলতা ও খেলাধূলার আগ্রহ আছে, একে গুরুত্ব দিতেন।

রাসুলের (সা.) খাদেম হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের মানুষ এবং তার হৃদয় ছিল সবার চেয়ে উদার। তিনি আমাকে একদিন এক কাজে পাঠিয়েছিলেন, আমি বের হয়ে দেখি শিশুরা খেলছে, আমিও তাদের সঙ্গে খেলতে শুরু করি। হঠাৎ আমার মনে হলো একজন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তাকিয়ে দেখলাম আল্লাহর রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন। বললেন, কী ব্যাপার ছোট্ট আনাস, তোমাকে যেখানে যেতে বলেছি সেখানে গিয়েছ? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.) এক্ষুণি যাচ্ছি!

আল্লাহর কসম! আমি ৯ বছর তার খেদমত করেছি, এর মাঝে আমি কোনো কাজ করলে তিনি কখনও বলেননি, এই কাজ করেছো কেন আর কোনো কাজ না করলে তিনি কখনও বলেননি এই কাজটা করোনি কেন। (সহিহ মুসলিম: ২৩০৯, ২৩১০)

রাসুলের (সা.) জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তার মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার এই ঘটনাগুলো থেকে আমরা যেন শিক্ষা গ্রহণ করি। নিজেদের জীবনে মানবিক হই, সংবেদনশীল হই। অন্যের সুবিধা-অসুবিধা, সুখ-দুঃখ বোঝার চেষ্টা করি।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।