মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

‘মোহামেডান-আবাহনী খেলছে, আমরা বাইরে মারামারি করছি- এ দৃশ্য দেখতে চাই’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬

দেশের ফুটবলে এক সময় আবাহনী-মোহামেডানের দ্বৈরথের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে অনেকেই এখনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সে সব এখন অতীত! দেশের ঘরোয়া ফুটবল অনেকদিন ধরেই দর্শক টানতে পারছে না। সম্প্রতি নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের।

এই নতুন পর্ষদের অভিষেক এবং ক্লাবের স্থায়ী সদস্য, বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্লাব পরিদর্শন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তিনি চান আবাহনী-মোহামেডান সেই পুরোনো দ্বৈরথ ফিরে আসুক।

রাজনীতি আর ক্রীড়াঙ্গনের মেলবন্ধনে আজ মঙ্গলবার এক অন্যরকম রূপ পেয়েছিল মতিঝিলের মোহামেডান ক্লাব প্রাঙ্গণ। ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সৌজন্য সফরকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন সরকারের একঝাঁক প্রভাবশালী সদস্য। যে তালিকায় ছিলেন এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ফুটবলার ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খেলাধুলার অঙ্গনে আসলে মনে হয় আমি নিজের ঘরে এসেছি। আমি মফস্বলের লোক ছিলাম, খেলাধুলা করেছি। আমরা অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা নতুন স্বপ্ন দেখি, নতুন আলো দেখি। নতুন সূর্যের মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে সাজিয়ে নেই।’

সম্প্রতি ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু হওয়া ‘ক্রীড়া ভাতা’ ও ‘কার্ড’ প্রদান কার্যক্রমের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে নামার পর আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় বলেছিলেন তার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনায় ক্রীড়া রয়েছে। ক্রীড়াবিদদের ভাতা ও কার্ড দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের খেলোয়াড়দের জন্যও অনুপ্রেরণা।’

মোহামেডানের বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘মোহামেডান শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি বড় অংশ। দেশের ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির বহু গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সঙ্গে এই ক্লাব জড়িয়ে আছে।’ ক্রীড়াঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত করার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অরাজনৈতিক ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং মেধার মূল্যায়ন।’

গ্যালারির সেই চিরচেনা উন্মাদনা ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমি ক্রিকেট দেখতে যাই। মোহামেডান-আবাহনীর ফুটবল দেখতে চাই। আমি সেই দৃশ্য দেখতে চাই যে, জাতীয় স্টেডিয়ামের মধ্যে মোহামেডান-আবাহনী খেলছে। আমরা বাইরে মারামারি করছি।’

অনুষ্ঠানে মোহামেডানের পাশাপাশি আবাহনীসহ সব ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক। মজার ব্যাপার হলো, মোহামেডানের এই অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন আবাহনীর পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আমাদের ঈদের আনন্দ মনে হচ্ছে। সুন্দর এক মিলনমেলা।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী শরিফুল আলম, সড়ক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদ উজ-জামান মিল্লাত, মোহামেডানের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলুসহ অনেক সংসদ সদস্য ও সাবেক তারকা খেলোয়াড়।

এসকেডি/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।