ইবলিসকে সৃষ্টি করা হয়েছে কেন?

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২

ইবলিস আল্লাহর সৃষ্টি। একসময় সে অনেক বড় আবেদও ছিল। অহংকারের আগুনে তার সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যায়। জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়। আল্লাহর কাছ থেকে দীর্ঘ হায়াত চেয়ে নেয়। কিন্তু কেন ইবলিসকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তার দীর্ঘ হায়াত চেয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যই বা কী?

দুনিয়া পরকালের পরীক্ষার ঘর। দুনিয়ার এ পরীক্ষা গ্রহণে শয়তান হচ্ছে সবচেয়ে বড় ফেতনা। মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য শয়তানকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য পরীক্ষার জন্য ইবলিসকে সৃষ্টি করেন এবং তাকে কেয়ামত পর্যন্ত হায়াত দেন। তাহলে ইবলিসের কাজ কী?

ইবলিসের প্রধান কাজ
মানুষকে গোমরাহ করা; আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুৎ করে দেওয়া। ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের সব কাজকে ব্যর্থ করে দেওয়া। ছলে-বলে; কলে-কৌশলে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করা। ইবলিস মানুষকে কুমন্ত্রণা দেওয়ার সময় এ কৌশল অবলম্বন করে-
اِذۡ قَالَ لِلۡاِنۡسَانِ اکۡفُرۡ ۚ فَلَمَّا کَفَرَ قَالَ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّنۡکَ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ
‘সে মানুষকে বলে- ‘কুফুরি কর’। এরপর মানুষ যখন কুফুরি করে তখন শয়তান বলে- ‘তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১৬)

অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা বলেন-
کَانَ النَّاسُ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً ۟ فَبَعَثَ اللّٰهُ النَّبِیّٖنَ مُبَشِّرِیۡنَ وَ مُنۡذِرِیۡنَ ۪ وَ اَنۡزَلَ مَعَهُمُ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ لِیَحۡکُمَ بَیۡنَ النَّاسِ فِیۡمَا اخۡتَلَفُوۡا فِیۡهِ ؕ
আল্লাহ যুগে যুগে নবি-রাসুল ও কিতাব পাঠিয়ে মানুষকে সত্য পথ প্রদর্শনের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন। এবং সত্যসহ তাদের সঙ্গে কিতাব নাজিল করলেন, যাতে মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করতো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২১৩)

মানুষের মুক্তি
হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষনবি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত লক্ষাধিক পয়গাম্বর দুনিয়াতে এসেছেন। বর্তমানে সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ কোরআনের ধারক ও বাহক মুসলিম ওলামায়ে কেরাম শেষনবির (ওয়ারিশ) উত্তরসূরীরা আল্লাহ দেওয়া বিধানসমূহ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংস তথা কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এ নিয়ম জারি থাকবে। নবিজী ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে- ‘পৃথিবীর এমন কোনো বস্তি ও ঝুপড়ি ঘরও থাকবে না, যেখানে আল্লাহ ইসলামের বাণী পৌঁছে দেবেন না।’ (মুসনাদে আহমাদ)

অবশেষে পৃথিবীতে যখন ‘আল্লাহ’ বলার মতো কোনো লোক থাকবে না; প্রকৃত তাওহিদের অনুসারী কোনো মুমিন বাকী থাকবে না, তখন আল্লাহর হুকুমে কেয়ামত ঘনিয়ে আসবে এবং কেয়ামত সংঘটিত হবে। মানুষের দেহগুলো মৃত্যুর পর মাটিতে মিশে যাবে। কিন্তু রূহগুলো নিজ নিজ ভালো বা মন্দ আমল অনুযায়ী ‘ইল্লিন’ বা ‘সিজ্জিনে’ অবস্থান করবে।

এ রূহগুলো কেয়ামতের পরপরই আল্লাহর হুকুমে নিজ নিজ দেহে পুনরায় প্রবেশ করবে। এবং চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের জন্য সব মানুষ সশরীরে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে।

মানুষের ঠিকানা কী হবে?
চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের পর মানুষের হবে- ‘দারুল কারার’-এ। দারুল কারার হলো- কেয়ামতের দিন শেষ বিচার শেষে জান্নাত বা জাহান্নামের চিরস্থায়ী ঠিকানা। যারা ভালো কাজ করবে তারা জান্নাতে যাবে। আর যারা দুনিয়ার পরীক্ষায় অকৃতার্য হয়ে যাবে; তাদের ঠিকানা হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।

এর আগে মানুষের আরও দুটি ঠিকানা হবে-
১. দারুদ দুনিয়া। দুনিয়ার জীবন। যে জীবনে মানুষ ইবলিসের ধোঁকা ও প্রতারণার পরীক্ষাগারে অবস্থান করছে।
২. দারুল বরযাখ। মৃত্যু পরবর্তী জীবন। কবরের জীবন।

সুতরাং দুনিয়া হলো পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে মানুষের সুখ-শান্তির জন্য সাময়িক পরীক্ষাগার মাত্র। ইবলিস (শয়তান) এখানে মানুষকে ধোঁকা ও প্রতারণায় ফেলার জন্য কাজ করে। যারা শয়তানের ধোঁকায় পড়বে; তারাই হবে ব্যর্থ। তারা অবস্থান করবে চিরস্থায়ী জাহান্নামে।
আর যারা কোরআনের আহ্বানে নবি-রাসুলদের দেখানো পথে চলবে; শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকবে; তারাই চূড়ান্ত সফলতা পাওয়া বান্দা। যাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত।

মানুষের সতর্কবার্তা
আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ কথাগুলো স্মরণ করে দেওয়ার জন্য কোরআনে ঘোষণা করেছেন- (হে দুনিয়ার মানুষ!) ‘মাটি থেকেই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি। আর এই মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর সেই মাটি থেকেই আমরা তোমাদের পুনরায় বের করে আনবো।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ৫৫)

দুনিয়াতে শয়তান যাদের প্রতি ধোঁকা ও প্রতারণায় সফল হবে। ‘এরপর বিচার শেষে (সেসব) কাফেরদের হাঁকিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামের দিকে। আর যারা ইবলিসের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা থেকে বেঁচে থাকবে তারাই মুত্তাকি বান্দা। ‘আর মুত্তাকিদের নেওয়া হবে জান্নাতে।’

এভাবেই দুনিয়ার পরীক্ষাগারে ইবলিসের প্ররোচনায় পড়া ব্যক্তিরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করবে এবং ইবলিস থেকে বেঁচে থাকা মজলুম বান্দার পাবে তাদের যথাযথ প্রতিদান। সে দিন মহান আল্লাহ কারো প্রতি অবিচার করবেন না বলে এভাবে ঘোষণা দিয়েছেন-
وَ اتَّقُوۡا یَوۡمًا تُرۡجَعُوۡنَ فِیۡهِ اِلَی اللّٰهِ ٭۟ ثُمَّ تُوَفّٰی کُلُّ نَفۡسٍ مَّا کَسَبَتۡ وَ هُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ
‘আর তোমরা সে দিনের ভয় কর, যে দিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। এরপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা উপার্জন করেছে, তা পুরোপুরি দেওয়া হবে। আর তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৮১)
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার সাময়িক পরীক্ষাগারে শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে বেঁচে থেকে চিরস্থায়ী জান্নাতের ঠিকানা বেচে নেওয়া। শয়তান থেকে হেফাজত থাকা। কোরআন সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শয়তানের ধোঁকা থেকে হেফাজত করুন। দুনিয়ার সাময়িক পরীক্ষাগারে সফল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]