সুরা শামস: ৪টি শিক্ষা ও নির্দেশনা

ওমর ফারুক ফেরদৌস
ওমর ফারুক ফেরদৌস ওমর ফারুক ফেরদৌস , আলেম ও লেখক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সুরা শামস কোরআনের ৯১তম সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরাটির আয়াত ১৫টি, রুকু ১টি। শামস অর্থ সূর্য। সুরা শামসের শুরুতে আল্লাহ সূর্য ও চাঁদসহ তার ক্ষমতা ও সৃষ্টির ৯টি নিদর্শনের শপথ করেছেন। তারপর বলেছেন, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সে সফল হয়, যে নিজেকে কলুষিত করে সে ব্যর্থ হয়। উদাহরণ হিসেবে আল্লাহর শাস্তিপ্রাপ্ত সামুদ জাতির কথা আলোচনা করা হয়েছে এ সুরায়। সামুদ আরবের একটি প্রাচীন জাতি। আল্লাহ তার নবি সালেহকে (আ.) সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন। কিছু মানুষ তার দাওয়াতে সাড়া দিলেও বেশিরভাগই অবিশ্বাসী থেকে যায় এবং আল্লাহর অবাধ্যতা করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা অলৌকিক কোনো নিদর্শন চাইলে আল্লাহ একটি উষ্ট্রী পাঠান এবং সেটার বিশেষ যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেন। সামুদ জাতি স্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরও আল্লাহর অবাধ্য হয় এবং উষ্ট্রীটিকে হত্যা করে। ফলে আল্লাহর শাস্তিতে সামুদ জাতির অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হয়ে যায়।

সুরা শামস
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
(১)
وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا
ওয়াশ শামছি ওয়াদু হা-হা-।
শপথ সূর্যের ও তার কিরণের,
(২)
وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَا
ওয়াল কামারি ইযা-তালা-হা-।
শপথ চাঁদের যখন তা সূর্যের পর আবির্ভুত হয়,
(৩)
وَالنَّهَارِ إِذَا جَلَّاهَا
ওয়ান্নাহা-রি ইযা জাল্লা-হা-।
শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে,
(৪)
وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَاهَا
ওয়াল্লাইলি ইযা-ইয়াগশা-হা-।
শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে,
(৫)
وَالسَّمَاء وَمَا بَنَاهَا
ওয়াস-সামাই ওয়ামা-বানা-হা-।
শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর।
(৬)
وَالْأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا
ওয়াল আরদিওয়ামা-তাহা-হা-।
শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর,
(৭)
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا
ওয়া নাফসিওঁ ওয়া মা-ছাওওয়া-হা-।
শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর,
(৮)
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا
ফাআলহামাহা-ফুজূরাহা-ওয়া তাকওয়া-হা-।
তারপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন,
(৯)
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
কাদ আফলাহা মান ঝাক্কা-হা-।
যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়।
(১০)
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
ওয়া কাদ খা-বা মান দাস-স-হা-।
এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ হয়।
(১১)
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَاهَا
কাযযাবাত সামূদুবিতাগওয়া-হা।
সামুদ সম্প্রদায় অবাধ্যতাবশত মিথ্যারোপ করেছিল।
(১২)
إِذِ انبَعَثَ أَشْقَاهَا
ইযিম বাআসা আশকা-হা-।
যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল।
(১৩)
فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا
ফাকা-লা লাহুম রাসূলুল্লা-হি না-কাতাল্লা-হি ওয়া ছুকইয়া-হা-।
আল্লাহর রাসুল তাদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক।
(১৪)
فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنبِهِمْ فَسَوَّاهَا
ফাকাযযাবূহু ফাআকারূহা- ফাদামদামা আলাইহিম রাব্বুহুম বিযামবিহিম ফাছাওওয়াহা-।
ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা আজাব নাজিল করে তাদের একাকার করে দিলেন।
(১৫)
وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا
ওয়ালা-ইয়াখা-ফু উকবা-হা-।
তিনি এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির ভয় করেন না।

৪টি শিক্ষা ও নির্দেশনা
১. আল্লাহর বহু বিস্ময়কর সৃষ্টি ও নিদর্শন আমাদের ঘিরে রেখেছে। এগুলো দেখে করে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তার ক্ষমতার বিশালতা অনুভব করা এবং স্রষ্টার পরিচয় অনুসন্ধান করা ও তার আনুগত্য করা আমাদের কর্তব্য।

২. এ জীবনে সে-ই সফল যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে। যে নিজেকে আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপাচারে কলুষিত করে, বাহ্যত সফল মনে হলেও সে ব্যর্থ ও দুর্ভাগা।

৩. চূড়ান্ত সফলতা পাওয়ার উপায় ইমান ও নেক আমল, আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যর্থতা ও হতাশা ছাড়া কিছু নেই। তাই আমরা যেন যথাযথভাবে ইমান আনি, নেক আমল করি এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকি।

৪. আল্লাহ অতীতে পৃথিবীর বহু উন্নত ও শক্তিশালী জাতিকে তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের ধ্বংসাবশেষ এখনও রয়ে গেছে দৃষ্টান্ত হিসেবে। আমরা যেন তাদের পরিণতি দেখে শিক্ষা অর্জন করি ও নিজেদের পরিশুদ্ধ করি। আল্লাহর অবাধ্যতা, জুলুম, বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকি।

ওএফএফ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।