নামাজের পর মোনাজাত কতটা জরুরি


প্রকাশিত: ০৩:২৪ পিএম, ০২ মে ২০১৫

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে - নামাজের পর মোনাজাত কতটা জরুরি? হাদিসে এনিয়ে নানা রকম মতবাদ রয়েছে।

তবে অধিকাংশদের মতে নামাযের পর মোনাজাত কবূল হয়। এসময় মেহেরবান রবের কাছে যে কোনো মোনাজাত করা যায়। আরবিতে বা নিজ নিজ মাতৃভাষায় ইখলাস ও মনোযোগের সঙ্গে মোনাজাত করা উচিত। এসময় মোনাজাত করা মুস্তাহাব, তবে তা নামাযের অংশ নয়।

১নং হাদিস
হাযরত সালমান ফারসী রাযিয়াল্লাহু তা`আলা আন্‌হু হতে বর্ণিত,

ان اللہ حی کریم، یستحی ان یرفع الرجل الیہ یدیہ ان یردھما صِفراً خائِبیْن۔

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা দয়ালু, দাতা। যখন বান্দা তাঁর সামনে প্রার্থনার হাত প্রসারিত করে তখন তা শূন্য ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জ্বাবোধ করেন। (জামি’ তিরমিযী, ২/১৯৫)

২নং হাদিস
আবূ মুহাম্মাদ ইবনু আবি ইয়াহইয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

رایت عبد اللہ بن الزبیر و رئیٰ رجلا رافعا یدیہ قبل ان یفرغ من صلاتہ، فلما فرغ منھا قال: ان رسول اللہ صلی اللہ علیہ و سلم لم یکن یرفع یدیہ حتی یفرغ من صلاتہ۔

আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর রাযিয়াল্লাহু তা`আলা আনহু একজন নামাযীকে দেখলেন, সে নামায শেষ করার আগেই হাত তুলে মোনাজাত করছে। তিনি তাকে বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায সমাপ্ত হওয়ার আগে হাত তুলে মোনাজাত করতেন না। (মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১৬৯)

৩নং হাদিস
হাযরাত সালমান রাযিয়াল্লাহু তা`আলা আনহু থেকে বর্ণিত,

قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم: ما رفع قوم اکفھم الی اللہ عز و جل یسئلونہ شیئا الا کان حقا علی اللہ ان یضع فی ایدیھم الذی سئلوا۔

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কিছু মানুষ হাত উঠিয়ে আল্লাহর কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করে তখন অবশ্যই আল্লাহ তাদের প্রার্থিত বিষয় দান করেন। (মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১৬৯)

৪নং হাদিস
হাযরাত আবূ উমামাহ রাযিয়াল্লাহু তা`আলা আনহু হতে বর্ণিত,

قیل لرسول اللہ صلی اللہ علیہ و سلم، ای الدعاء اسمع؟ قال: جوف اللیل الآخر، و دبر الصلوات المکتوبات

সাহাবীগণ রাযিয়াল্লাহু তা`আলা আনহুম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন মোনাজাত বেশি কবূল হয়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শেষ রাতের মোনাজাত ও ফরয নামাযের শেষের মোনাজাত। (জামি’ তিরমিযী, ২/১৮৮)

উপরোক্ত চার হাদীসের মধ্যে
প্রথম হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে, হাত তুলে মোনাজাত করলে তা কবূলের সম্ভাবনা বেশি।
দ্বিতীয় হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের পর হাত তুলে মোনাজাত করতেন।
তৃতীয় হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে যে, কিছু মানুষ যখন আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন তখন তা কবূল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে।
চতুর্থ হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে যে, নামায শেষে মোনাজাত কবূল হয়।

ফরয নামাযের পর হাত তুলে মোনাজাত করার বিষয়ে দু’ধরণের প্রান্তিকতা রয়েছে। কেউ একে নামাযের অংশ মনে করেন। আর কেউ একে নাজায়িয ও বিদআত বলেন। (অথচ দুটিই ধারণাই ভুল, এটা কেবল মুস্তাহাব আমল, যেমনটি শুরুতে বলা হয়েছে)

সূত্র: নবীজির নামায

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।