আল্লাহর সঙ্গে বান্দার আদব


প্রকাশিত: ০৯:০০ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৫

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক কেমন হওয়া চাই। তাঁর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা চাই। তা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি লক্ষ্য করলেই অনুধাবন করা যায়। মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে শুরু করে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ (মৃত্যু) করা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তাকে রহমত বরকত দ্বারা প্রতিপালন করে থাকেন। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার আদব সম্পর্কের ধরণ জাগো নিউজে তুলে ধরা হলো-

আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া…
ঈমানের দাবি হচ্ছে যে, বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করবে, জবান ও অঙ্গপতঙ্গ দ্বারা আনুগত্যের মাধ্যমে। কেননা, নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহকে অস্বীকার করা, তাকে এবং তার ইহসান ও অবদানকে অবজ্ঞা করা কোনোভাবেই আদব বা শিষ্টাচরের মধ্যে পড়ে না।

আল্লাহ বলেন- “তোমাদের নিকট যেসব নিয়ামত রয়েছে, তা তো আল্লাহর নিকট থেকেই (এসেছে)।’ (সূরা নহল : আয়াত ৫৩) তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না।’ (সূরা নহল : আয়াত ১৮)
 আল্লাহ অন্যত্র বলেন- ‘কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা বাক্বারা : আয়াত ১৫২)

আল্লাহর ভয় ও লজ্জায়...
আল্লাহ তাআলা বান্দার সব অবস্থা অবলোকন করেন এবং জানেন ফলে বান্দার হৃদয়-মন আল্লাহর ভয় ও ভক্তি-শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে, তাঁর অবাধ্যতায় লজ্জিত হয়, তাই আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ ও আনুগত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাকে রীতিমত অপমান মনে করে। সুতরাং এটাও বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ সঙ্গে আদব। তাই আল্লাহর সঙ্গে অবাধ্য আচরণ করা অথবা মন্দ ও ঘৃণ্য বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হওয়া, যা তিনি সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন, তা কোনো ভাবেই আদবের মধ্যে পড়ে না।

আল্লাহ বলেন- ‘তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহ‌র শ্রেষ্ঠত্বের পরওয়া করছ না। অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। (সূরা নূহ : আয়াত ১৩-১৪)
তিনি আরো বলেন- আর তিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর এবং তোমরা যা প্রকাশ কর। (সূরা তাগাবুন : আয়াত ৪)

আল্লাহর নিকট অত্মসমর্পণে...
আল্লাহ তার বান্দার উপর ক্ষমতাবান,  বান্দা তাঁর অধীন এবং তাঁর দিকে ছাড়া বান্দার পালানোর, মুক্তির ও আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং বান্দা আল্লাহর দিকে ধাবিত হবে, অত্মসমর্পণ করবে, তাঁর ওপর ভরসা করবে। যা আল্লাহর প্রতি বান্দার আদব বলে গণ্য হবে। বান্দার পালিয়ে বেড়ানো, অন্যের শক্তি ও ক্ষমতার ওপর নির্ভর ও ভরসা করা আল্লাহর সামনে কোনো আদবের মধ্যে পড়ে না।

আল্লাহ বলেন- ‘এমন কোন জীব-জন্তু নেই, যে তাঁর পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়।’ (সূরা হুদ : আয়াত ৫৬)
কুরআনে অন্যত্র এসেছে- ‘এবং আল্লাহর উপরই তোমরা নির্ভর কর, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সূরা মায়েদা : আয়াত ২৩)

আল্লাহর অনুগ্রহ ও মুখাপেক্ষীতায়...
আল্লাহ তার সব বিষয়ে বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করেন। তিনি মানুষসহ সব সৃষ্টির প্রতি দয়া ও করুণা করেন, যার কারণে মানুষসহ সব সৃষ্টি আল্লাহর কাছে আশা করে, ফলে মানুষ একনিষ্ঠভাবে অনুনয়, বিনয় ও নিবেদন করে এবং ভালো কথা ও কাজের ওছিলা ধরে তাঁর নিকট প্রার্থনা করে। যা বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর সঙ্গে আদব বলে গণ্য হয়।
আল্লাহর রহমত, বরকত, ইহসান, দয়া ও অনুগ্রহসহ সবকিছুই সমগ্র সৃষ্টিকে আঁকড়িয়ে রেখেছে, তাই এ থেকে বের হওয়ায় কোনো আদব বা শিষ্টাচার নেই। সূরা যুমারের ৫৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন- ‘তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না।’
তাইতো আল্লাহ বলেন- ‘আর আমার দয়া তো প্রত্যেক বস্তুকে ঘিরে রয়েছে।’ (সূরা আরাফ : আয়াত ১৫২)
তিনি আরও বলেন- ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত কোমল।’ (সূরা শুয়ারা : আয়াত ১৯)

আল্লাহর ক্ষমতা স্বীকারে...
নিতান্ত দুর্বল, অক্ষম বান্দা কর্তৃক মহাপরাক্রমশালী প্রবল শক্তিধর আল্লাহর মুখোমুখী হওয়া বা বিরোধীতা করা আদব নয়। বরং আল্লাহর শাস্তি বড় কঠিন, তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন। ফলে যে বান্দা তাঁর আনুগত্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করে, তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে, এটাও আল্লাহর সঙ্গে বান্দার আদব।
আল্লাহ বলেন- ‘আর কোনো সম্প্রদায়ের জন্য যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছে করেন, তবে তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই। (সূরা রাদ : আয়াত ১১)
আল্লাহ আরো বলেন- ‘নিশ্চয় আপনার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন।’ সূরা বুরুজ : আয়াত ১২)

আল্লাহর প্রতি আশা এবং ভয়ে...
বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়, তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন আল্লাহর দেয়া হুমকি বা আজাব তাকে চেপে ধরেছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করে অনুসরণ করে, তাঁর হুকুম-আহকাম পালন করে, মনে হয় যেন সে ব্যক্তি আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতিকে সত্যে পরিণত করছে। আল্লাহ তাকে রহমতের চাদরে ঢেকে দিয়েছেন। এটাই হলো কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি সুধারণা। আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করাটাই আদব বা শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ, তাঁর অবাধ্য হয়ে চলা, এবং তাঁর আনুগত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইত্যাদি অনুচিত। কেননা তিনি সব অবগত এবং এর ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
আল্লাহ বলেন- আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তাহলে তারাই কৃতকার্য।’ (সূরা নুর : আয়াত ৫২)

আল্লাহ আরো বলোন- ‘কেউ কোনো সৎকাজ করলে সে তার দশ গুণ পাবে। আর কেউ কোনো অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তার অনুরূপ প্রতিফলই দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। (সূরা আনআম : আয়াত ১৬০)

পরিশেষে....
প্রত্যেক বান্দাকে তার প্রতিপালকের দেয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার, সত্যিকার অর্থে তাওবা করার, তাঁর উপর ভরসা করার, তাঁর রহমতের প্রত্যাশা করার, তাঁর আজাবকে ভয় করার এবং তাঁর হুকুম-আহকাম বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আদব বা শিষ্টাচার পোষণ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর তত্ত্ববধানে থাকার, রহমত, বরকত ও নিয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনাকে আমাদের অভিভাবক হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমাদেরকে আপনার তত্ত্ববধান রাখুন। আমাদেরকে আপনার প্রিয় বান্দাগণের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের আবেদন কবুল করুন। আমিন।

জাগো ইসলামে লেখা পাঠাতে ই-মেইল : [email protected]

জাগোনিউজ২৪.কমের সঙ্গে থাকুন। কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

এমএমএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :