মনের ভেতরের প্রশ্ন?


প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ২৫ মার্চ ২০১৬

ছোটবেলায় মনের ভেতর প্রশ্ন জাগত, যদি নামাজ না পড়ি, আমল না করি, তবে কি হবে পাঞ্জাবি টুপি পরিধান করে? কী হবে দাড়ি রেখে? একদিন এক ওস্তাদ মনের ভেতর জাগ্রত হওয়া প্রশ্নের উত্তর দিলেন- এগুলো তোমাকে ভালো পথে রাখার অনুষঙ্গ। তুমি নামাজ না পড়লেও, রোজা না রাখলেও এই পোশাক, এই দাড়ি তোমাকে নৈতিকভাবে ভালো রাখবে। যা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে।

বাস্তবেও দেখেছি তাই। থুতনির নিচে সামান্য কয়টা দাড়ি আছে, বিধায় এখনো অনেক সম্মান পাই। রাস্তা ঘাটে দেখা হলে মানুষ সালাম দেন। মুচকি হেসে বিনয়ীভাবে পথ অতিক্রম করেন।

আবার এই পোশাক-দাড়ি আছে বলেই খারাপ কাজ করতে পারি না। বিবেকে বাঁধে। এক হাত এগুই তো দশহাত পিছিয়ে যাই।

ইচ্ছে হলেই রাস্তার চলা ফেরা করা মা-বোনদের দিকে ওমন কুকুরের মতো লেজ ঝুলিয়ে নরপশুদের মতো তাকিয়ে থাকতে পারি না।

কোনো বন্ধু বা পরিচিত কারো সঙ্গে সবার সামনে হাতাহাতি করতে পারি না। জুয়ার আসর কিংবা অশ্লীল পাড়ায় ঢুকতে পারি না।

বিবেকে বাঁধে, আত্মসম্মানবোধ আমাকে তাড়িত করে। অদৃশ্য কেউ ইশারা করে বলে, না ওগুলো তোমার জন্য নয়।

রাষ্ট্রের ধর্মটাও এমন। কুরআন দেশের সংবিধান না হলেও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম অনেক গর্হিত কাজ থেকে মুক্ত রাখবে দেশকে। বহির্বিশ্বে অন্যরকম সম্মান বয়ে আনবে। পরিচয় করিয়ে দেবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ শান্তিপ্রিয় মুসলিম। আর সমাজে যে হারে অশ্লীলতার আবহ তৈরি হচ্ছে সে দিকে থেকেও রাষ্ট্রকে রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম।

দেশে এখন খুন, ধর্ষণ পানির মতো। এই যে তনু নামের মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো, এই নিয়ে কেউ খুব চিন্তিত নয়, রিজার্ভ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ডলার চুরি হচ্ছে, উল্লেখ করার মতো কারো কোনো মাথাব্যথা নেই, নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করছে মা, আবার বাবা-মাকে খুন করছে সন্তান, এসব সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্র সমাজ চিন্তিত নয়। রবং সব অনৈতিক কাজ-কর্মকে সমাজ থেকে উৎখাত করতে যে ধর্ম সদা প্রস্তুত, সে ধর্মকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রের মাথা থেকে।

তার মানে কি? আরো অবৈধ হও, আরো বেপরোয়া হও, দিন দিন অধপতনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাও। এটাই হচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষীদের টার্গেট?

যদি তাই না হয়, তবে কেন দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ-কর্ম ফেলে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্য ওঠে পড়ে লাগতে হবে।

বিবেকের কাছে প্রশ্ন? রাষ্ট্রের যদি ধর্মেরই প্রয়োজন না হয়, তবে ফেলে দেয়ার প্রয়োজনটা কিসে? অযথা সময় নষ্ট করে কি লাভ?

যে ধর্ম হত্যা ধর্ষণ খুন রাহাজানি থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দিবে, সে ধর্মকে অক্ষুন্ন রেখে তনুদের ধর্ষণ রোধে উদ্যোগ নিন, কামরুল, শরীফ, জুনায়েদদের বেপরোয়া সন্ত্রাসী বন্ধে আইন করুন, দেশের সম্পদ ও পাচার হওয়া টাকা কিভাবে ফেরানো যায় খোঁজ করুন, আইসিসির অন্যায় হস্তক্ষেপে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যা দেশের কাজে আসবে, সমাজের উন্নতি হবে, দরিদ্র অসহায় মানুষ দুমুঠো ভাত পাবে। মুক্তি পাবে মানুষ। ফিরে আসবে ইসলামের সোনালী দিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দান করুন। বাংলাদেশকে সকল প্রকার ইসলাম বিদ্বেষী আগ্রাসন থেকে হিফাজত করুন। আল্লাহ তাআলা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।