যে সব আলেমকে হারিয়েছে জাতি


প্রকাশিত: ১০:৫৫ এএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

বিদায়ের পথে ২০১৬ ইংরেজি বর্ষ। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বছর আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় আমাদের অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং অনেক প্রিয়জন। ২০১৬ সালে আমরা অনেক ইসলামি ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছি। জাতির মাথার মুকুট শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিয়ে জাগো নিউজের ধর্ম ডেস্ক-এর প্রতিবেদন-

ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (১১ মে ২০১৬)
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আ ন ম খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (৫৫) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন।

১৯৬১ সালে ঝিনাইদহ জেলার ধোপডাঙ্গা গোবিন্দপুর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি ঝিনাইদহ আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৭৩ সালে দাখিল, ১৯৭৫ সালে আলিম ও ১৯৭৭ সালে ফাজিল এবং ১৯৭৯ সালে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে আল-হাদিস বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে কামিল পাস করেন।

১৯৮৬ সালে সৌদি আরবের আল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের ওপর বিএ অনার্স শেষ করেন। ১৯৯২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ব্যাকরণের ওপর এমএ পাস করেন এবং ১৯৯৮ সালে আরবি ব্যাকরণের ওপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৯ সালে তিনি ওই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।

তিনি দেশব্যাপী ইসলামের প্রচার ও প্রসারে সফরের পাশাপাশি পিস টিভি, ইসলামিক টিভি, এটিএন ও এনটিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে ইসলামি আলোচনায় অংশ নিয়ে মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত ও সঠিক তথ্য প্রচারে আমৃত্যু নিয়োজিত রেখেছিলেন।

আরবি, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দুতে পারদর্শী এ শীর্ষস্থানীয় আলেম মিডিয়াব্যক্তিত্ব ইলমে দ্বীনের সুবক্তা এবং গবেষক ছিলেন। তিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়ের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী বই রচনা করেন। যার মৃত্যুতে ইসলামি দুনিয়া একজন ধর্মীয় অভিভাবককে হারালো।

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (২৫ জুন ২০১৬)
শীর্ষস্থানীয় আলেম, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (৮০) ২৫ জুন রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ১৩৪২ বাংলা সনের ৭ বৈশাখ শুক্রবার ময়মনসিংহের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এ ক্ষণজন্মা মনীষী ইসলামি সাহিত্য সাংবাদিকতার জগতে এক জীবন্ত কিংবদন্তি ছিলেন।

বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা প্রবর্তন, মাআরেফুল কুরআনের অনুবাদ, ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো দুষ্প্রাপ্য ও উচ্চাঙ্গের কিতাবাদি সহজ-সরল, সাবলীল ভাষায় সবার বোধগম্য করে প্রকাশ করে তিনি ইসলামি দুনিয়ায় চির অম্লান হয়ে থাকবেন।

মাওলানা আবদুল জব্বার (১৮ নভেম্বর ২০১৬)
বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী (৭৯) ১৮ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী ১৯৩৭ সালের ২৯ আগস্ট বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানার সহবতকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ সালে রাজধানীর বড়কাটারা আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওই মাদরাসায়ই শিক্ষকতা শুরু করেন।

এ শীর্ষস্থানীয় আলেম যাত্রাবাড়ী জামিয়া মাদানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শিক্ষক প্রায় ২৭ বছর ধরে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি অনেক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সাথে জড়িত ছিলেন। ইসলামি গবেষণাধর্মী লেখা ও সমকালীন বিষয়ের লেখক হিসেবেও তার বেশ সুনাম ও সুখ্যাতি বিদ্যমান।

আল্লামা জালালুদ্দীন আলকাদেরী (২৬ নভেম্বর ২০১৬)
‘খতিবে বাঙাল’ খ্যাত বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন সর্বজন শ্রদ্ধেয় বরেণ্য আলেম, বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদাররেছীনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক সভাপতি, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর আল্লামা জালালুদ্দীন আলকাদেরী (৬৭) ২৬ নভেম্বর শনিবার রাত সোয়া ১০টায় ঢাকা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ছনহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৪৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি ১০ বছর মুহাদ্দিস এবং ৩৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

আল্লামা মোস্তফা হামিদী (২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬)
উপমহাদেশের অন্যতম প্রবীণ আলেমে দ্বীন, হাজার হাজার আলিমদের উস্তাদ, ছারছীনা দারুসসুন্নাত আলীয়া মাদরাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল আল্লামা মোস্তফা হামিদী (৮৭) ২৭ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।

আল্লামা মোস্তফা হামিদী কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার চারিজানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন আল্লামা মোস্তফা হামিদী। চাকরি থেকে অবসরের পরও থেমে থাকেনি তার দারসে হাদীসের শিক্ষাদান।

তিনি ইলমে দ্বীনের প্রচারও প্রসারে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন অনেক মাদ্রাসা, মসজিদ, ইবাদত খানা, খানকাহ্ ইত্যাদি ৷ তার নিকট থেকে হাদীছ শিক্ষাপ্রাপ্ত ওলামায়ে কেরামগণ আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইলমে দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন।

আল্লামা মোস্তফা হামিদী শত ব্যস্ততার মাঝেও মুসলিম জাতির জন্য তিনি বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর রচনা করে গিয়েছেন অসংখ্য কিতাব-পুস্তক। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ইসলামী সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি করতেন ৷

কারী মো. ওবায়দুল্লাহ (২০ ডিসেম্বর ২০১৬)
বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত কারী ও রাজধানীর ঐতিহাসিক চকবাজার শাহী জামে মসজিদের সাবেক খতিব ক্বারী উবায়দুল্লাহ (৭২) ২০ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে ধানমন্ডিতে ইন্তেকাল করেন।

এ খ্যাতিমান ক্বারীর রেকর্ড করা আজান দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হয়েছে সরকারি প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এছাড়াও তিনি জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করতেন।

ক্বারী মো. ওবায়দুল্লাহ ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার শাহী মসজিদের খতিবের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন। তিনি ২০০৬ সাল থেকে অসুস্থ ছিলেন।

তিনি সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, লিবিয়া, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বারবার প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন বিরল মর্যাদা ও সম্মান। সৌদি বাদশাহ ফয়সাল ও খালেদ দুইবার তাকে কুরআনের শিল্পী বা কারী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

মাওলানা আবদুর রহীম (২০ আগস্ট ২০১৬)
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, দায়ী ও সমাজসেবক ড. মাওলানা এএসএম আবদুর রহীম (৮০) ২০ আগস্ট শনিবার লন্ডনে ইন্তেকাল করেছেন।

ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম ১৯৪৩ সালের অক্টোবরে নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

ড. মাওলানা আবদুর রহীম যুক্তরাজ্যসহ মুসলিম বিশ্বের পরিচিত মুখ। তিনি দীনের খেদমতের পাশাপাশি দেশটির প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দারুল উলুম ইসলামিক কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তিনি বার্মিংহাম জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।

মাওলানা সৈয়দ আহমদ (৪ ডিসেম্বর ২০১৬)
বিখ্যাত আালেম ফেনীর ওলামাবাজার দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম হজরত মাওলানা সৈয়দ আহামদ (৯৩) ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

এ নিভৃতচারী শীর্ষস্থানীয় আলেম শায়খুল ইসলাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির বিশিষ্ট ছাত্র, মুরিদ এবং হজরত মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর রাহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রধান খলিফা ছিলেন।

আল্লামা আবদুল হাই পাহাড়পুরী (২৯ আগস্ট ২০১৬)
শায়খুল হাদিস হজরত মাওলানা আবদুল হাই পাহাড়পুরী (৭০) ২৯ আগস্ট রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি শীর্ষস্থানীয় আলেম হজরত হাফেজ্জি হুজুর রাহমাতুল্লাহি আলাইহির জামাতা।

কুমিল্লা জেলার পাহাড়পুরে জন্ম নেয়া মাওলানা আবদুল হাই পাহাড়পুরি হাফেজ্জি হুজুরের ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। এছাড়া তিনি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকেরও ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন।

কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় শিক্ষকতায় অতিবাহিত করেন। জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গীচর, জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ ও জামিয়া রাহমানিয়া মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন মাদরাসায় তিনি বুখারি শরিফের দারস প্রদান করতেন।

শায়েখ আবদুল গণী (১৯ এপ্রিল ২০১৬)
সিলেটের প্রখ্যাত আলেম শায়েখ আবদুল গণী (৭৩) ১৯ এপ্রিল সিলেট নগরীর পুর্ব জিন্দাবাজার বাসায় ইন্তেকাল করেন।

শায়েখ আবদুল গণী ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ জকিগঞ্জ উপজেলার জামুরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম ইনছান আলী। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৬১ সালে ইছামতি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১ম বিভাগে আলিম, জামেউল উলুম গাছবাড়ী মাদরাসা থেকে ১৯৬৩ সালে ফাজিল ও ১৯৬৫ সালে কামিল পাস করেন তিনি।

কর্মজীবনে গাছবাড়ি মাদরাসা, সুজাউল আলীয়া মাদরাসা ও বিয়ানীবাজার সিনিয়র মাদরাসায় ১৮ বছর শিক্ষকতা করেন শায়েখ আবুদল গণী। শিক্ষার প্রচার-প্রসারে তার অসামান্য অবদান রয়েছে।

মাওলানা মো. তৈয়্যবুর রহমান (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)
ছারছিনা দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া মাদরাসার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা মো. তৈয়্যবুর রহমান ১৬ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেছেন।

ইলমে শরিয়ত ও তরিকতের অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন মাওলানা তৈয়বুর রহামান। তার মৃত্যুতে ইলমে দ্বীনের একজন মহান খাদেমকে হারাল এই জাতি।

ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া থানায় জন্ম নেয়া মাওলানা তৈয়বুর রহমান ১৯৮৯ সালে ছারছিনা দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া মাদরাসার প্রধান মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন। প্রায় দেড় যুগ ইলমে দীন ও শরিয়তের খেদমত করেন তিনি।

পরিশেষে...
বছরের শেষ প্রান্তে এসে তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। দেশের জানা-অজানা যত ইসলামি ব্যক্তি ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে দান করুন জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম। আমিন।

এমএমএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :