ফোনের স্ক্রলিংয়ের নেশা কাটানোর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই

 

বর্তমান সময়ে অবসর সময় কাটানো অনেকের জন্য মোবাইল ফোনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘরে বসে থাকুন বা বাইরে, অফিসে বিরতিতে হোক, খেতে বসার সময় বা সফরের সময়-প্রায় সবক্ষেত্রে চোখ ঠিকই মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে আটকে থাকে। আধুনিক যুগে এই অবসরের একঘেয়েমি কাটানোর জনপ্রিয় উপায় হলো ডুম স্ক্রলিং।

ডুম স্ক্রলিং বলতে বোঝানো হয় ফোনের সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাপের ফিড অনবরত স্ক্রল করা। কখনো কোনো লক্ষ্য ছাড়াই, শুধুই সময় কাটানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে স্ক্রল করা। প্রথমদিকে এটি মনে হয় বিনোদন বা অবসর কাটানোর সহজ উপায়, কিন্তু আসলে এটি অনেকের জন্য এক প্রকার নেশায় পরিণত হয়েছে।

কেন হয় ডুম স্ক্রলিং?
মস্তিষ্কে নতুন বা আনন্দদায়ক কিছু দেখলে সেরোটোনিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়। যেভাবে প্রিয় গান শোনা বা চকলেট খেলে আনন্দ আসে, ঠিক তেমনই ফোনে মজার কনটেন্ট দেখাও মস্তিষ্কে সুখানুভূতি তৈরি করে। এই অনুভূতি বারবার পুনরায় খোঁজার প্রবণতা আমাদের ডুম স্ক্রলিংয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

তবে মস্তিষ্কের আরেক অংশ আমাদের কাজে মনোযোগ দিতে চায়, কিন্তু তা সবসময় কার্যকর হয় না। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি লক্ষ্য করা যায়। একঘেয়ে সময় কাটানোর জন্য ফোনে চোখ আটকে থাকা এক ধরনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়।

তবে এই অভ্যাস কাটানো অসম্ভব নয়। কিছু কার্যকর কৌশল মানলে ধীরে ধীরে ফোনের নেশা কমানো সম্ভব-

১. ফোন থেকে কিছুটা সময় দূরে থাকুন
নিয়মিত বিরতি নিন। ফোন পাশের টেবিলেই থাকলে সেখান থেকে দূরে সরিয়ে ফেলুন। বাইরে হাঁটুন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন বা ব্যায়াম করুন। মস্তিষ্ককে বিশ্রামের সুযোগ দিন, এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

২. বাস্তব জীবনের জিনিসে মনোযোগ দিন
ডুম স্ক্রলিং মূলত একঘেয়েমি কাটানোর জন্য। পকেট বই বা প্রিন্টেড বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, নাচ করা-ছোটবেলার অভ্যাসগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনুন। যে কাজগুলো ফোনে করতেন, তা কি অফলাইনে করা যায়? সময় দেখা, খবর দেখা বা অর্ডার দেওয়া, এগুলো বাস্তব জীবনে করার চেষ্টা করুন।

৩. নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হোন
ফোন হাতে নেওয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আমি এটা কেন ধরলাম? প্রয়োজনীয়তা যাচাই করুন। ক্ষুধা বা সময় কাটানোর জন্য অযাচিত স্ক্রলিং করা কমানো যায় সচেতন মনোভাবের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস পরিবর্তন সম্ভব।

৪. ফোন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে নিন
দিনের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ফোন ব্যবহার করবেন না। ঘরে ‘মোবাইল ফ্রি জোন’ নির্ধারণ করুন-যেমন খাওয়ার টেবিল, বাথরুম বা শোয়ার ঘর। ঘুমের আগে ফোন শোয়ার ঘরের বাইরে রাখুন। প্রয়োজনে অ্যালার্মের জন্য টেবিল ঘড়ি ব্যবহার করুন।

৫. নোটিফিকেশন ও ডিসপ্লের রং বদলান
সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। ফোনের ডিসপ্লে রং পরিবর্তন করুন, যাতে আকর্ষণ কমে। দেখবেন ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য অ্যাপের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে।

ডুম স্ক্রলিং কাটানো সহজ নয়, কিন্তু সম্ভব। সময়, সচেতনতা এবং নিজের প্রতি মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে ফোনের নেশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অল্প অল্প চেষ্টা, নিয়মিত বিরতি এবং বাস্তব জীবনের অভ্যাসগুলো পুনঃস্থাপন-এই তিনটি উপায়ে অবসর সময়কে মানসিকভাবে ফলপ্রসূ এবং আনন্দদায়ক করা যায়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, বিবিসি, মেডিকেল নিউজ টুডে, ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
সাদা পোশাক আপনাকে অজান্তেই যেসব বার্তা দেয় 
গান গেয়ে বাড়ান আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা 

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।