বছরজুড়ে আলোচিত জঙ্গি অভিযান

জসীম উদ্দীন
জসীম উদ্দীন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৪ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৩:২৬ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

চলতি বছরের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গিদের হামলার চেষ্টা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর জঙ্গি আস্তানা আবিষ্কার ও অভিযান। গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি (নব্য জেএমবি) হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ দেশি-বিদেশি ২০ জন নিহত হন। প্রায় ১২ ঘণ্টার ওই ‘জিম্মি সংকট’ শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ দিয়ে। নব্য জেএমবি’র ওই হামলার পর নড়েচড়ে বসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুরু হয় জঙ্গিবিরোধী অভিযান। একে এক গুঁড়িয়ে দেয়া হয় দেশের বেশ ক’টি জঙ্গি আস্তানা। ২০১৭ সালেও সে অভিযান অব্যাহত থাকে। এ বছরের আলোচিত কিছু জঙ্গি হামলা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান তুলে ধরা হলো।

militant

সীতাকুণ্ডে ‘অপারেশন অ্যাসল্ট ১৬’
বছরের বড় ধরনের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জেএমবি আস্তানা ‘ছায়ানীড়ে’ অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, শক্তিশালী বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। ১৫ মার্চ বিকেলে ৪টায় বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। এর পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকাল প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের দুটি জঙ্গি আস্তানায় শ্বাসরূদ্ধকর অভিযান সফল হয়। ‘ছায়ানীড়ে’ মূল অপারেশন চলে ভোর ৬টা ২০ থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। অপারেশনে ওই বাড়িতে আটকেপড়া ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়। আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয় এক নারীসহ ৫ জঙ্গি।

পুলিশ-র‌্যাব, সিএমপির সোয়াট টিমের সঙ্গে ঢাকা থেকে সোয়াট টিম এবং পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি দলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল ‘অপারেশন অ্যাসল্ট-১৬’ অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের ব্যাপক গোলাগুলি হয় এবং ওই আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা আস্তানার ভেতর থেকে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযানে সোয়াট টিমের আহত দুই সদস্যকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। এলাকায় ‘সাধন কুটির’ নামে একটি বাড়ি থেকে জঙ্গি দম্পতিকে আটক ও তাদের চার মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা জয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজের পেছনে প্রেমতলা চৌধুরী পাড়ার ‘ছায়ানীড়’ নামে অপর একটি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে বাড়ির ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হকসহ দুজন আহত হন। গুলিতে এক জঙ্গি নিহত হয় ও অপর জঙ্গি আত্মঘাতী হয়ে জীবন দেন। আত্মঘাতী দুই জঙ্গির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ ফুট দূরে ছিঁটকে পড়ে। ছায়ানীড় ভবনের সিঁড়িতে এক নারী জঙ্গির মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরে সুইসাইডাল বেল্ট ও অবিস্ফোরিত একটি গ্রেনেড বাঁধা ছিল।

militant

আশকোনায় র‌্যাব ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা
রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাব নির্মাণাধীন কার্যালয়ে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৭ মার্চ। হামলায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন। প্রাণ যায় হামলাকারীরও। তার বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন কার্যালয়ে একজন দেয়াল টপকে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। তখন গোসলে থাকা র‌্যাব সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে ওই ব্যক্তি নিজের সঙ্গে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণকারী নিহত হয়। র‌্যাবের দুই সদস্যও আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, র‌্যাবের অস্থায়ী ব্যারাকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গির নাম জুয়েল রানা। তার বাড়ি ফরিদপুরে।

militant

খিলগাঁও র‌্যাবের চেকপোস্টে হামলা
আশকোনায় র‌্যাব ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার একদিন (১৮ মার্চ) পরই ভোর পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও নন্দীপাড়ার শেখের জায়গা নামক স্থানে র‌্যাবের চেকপোস্টে হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন। র‌্যাবের গুলিতে হামলাকারী নিহত হন। ওই সময় র‌্যাবের ডেপুটি কমান্ডিং অফিসার মেজর মারুফ হোসেন জানান, ভোরে সন্দেহভাজন এক মোটরসাইকেল আরোহীকে চেকপোস্ট এলাকায় থামার জন্য বলে র‌্যাব। এতে ওই ব্যক্তি র‌্যাব সদস্যদের দিকে এগিয়ে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিলে র‌্যাব সদস্যদের দিকে তিনি গুলিবর্ষণ করেন। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

militant

বিমানবন্দর গোল চত্বরে আত্মঘাতী হামলা
আশকোনায় র‌্যাব ক্যাম্প ও খিলগাঁওয়ে র‌্যাব চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলার সাতদিনের (২৪ মার্চ) মাথায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় হামলাকারী। তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, লোকটি ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে ফুটপাত ধরে যাচ্ছিল। চেকপোস্টের কিছুটা দূরে থাকতেই লোকটির সঙ্গে থাকার বোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লোকটি বোমা বহন করে কোথাও নেয়ার চেষ্টা করছিল। তার বয়স আনুমানিক ৩০/৩২। জিন্সের প্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট পরিহিত ছিল।

militant

সিলেটের আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’
বিমানবন্দরের চেকপোস্টে হামলার দিন দিবাগত রাত সাড়ে ৪টায় সিলেটের শিববাড়িতে ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিচতলার দুটি ফ্ল্যাটে জঙ্গি অবস্থান করছে নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। পাঁচতলা বাড়িটির প্রতিটি তলায় ছয়টি করে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট। ঘটনার সময় ২৮টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করছিল। জঙ্গিরা পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। সিলেট পুলিশ জঙ্গিদের সক্ষমতা ও ২৮টি পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে সোয়াটের সহায়তা কামনা করে। পরে ২৪ মার্চ বিকেল ৪টায় ঘটনাস্থলে সোয়াট আসে।

তবে অবস্থা দেখার পর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর সহায়তা কামনা করা হয়। এরপর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা অভিযান শুরু করে। পরে ৭৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। জঙ্গিদের বিস্ফোরণে ‘আতিয়া মহলে’ ভবনটি পুরো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ২৮ তারিখ (মঙ্গলবার) বিকেলে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সমাপ্ত ঘোষণা করেন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি আনোয়ারুল মোমেন।

জঙ্গি আস্তানায় প্যারা কমান্ডো দলের অভিযানের মধ্যেই ২৪ মার্চ রাতে ভবনের অদূরে দুটি বোমা বিস্ফোরণে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হন। আহত হন আইন-শৃঙ্লা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ অর্ধশত। বিস্ফোরণে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ গুরুতর আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

militant

মৌলভীবাজারে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’
সিলেটের আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শেষ হওয়ার ছয় ঘণ্টার মাথায় ২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) গভীর রাতে পাশের জেলা মৌলভীবাজারে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে। সেখানে অভিযান শুরু করে সোয়াট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নামের দুই দিনের অভিযানে নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হয়। ৩০ তারিখে রাতে অভিযান শেষ হয়।

militant

কুমিল্লায় ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী এলাকার গন্ধমতী বড় কবরস্থানের পাশে সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি আস্তানা’র খোঁজ পেয়ে ৩১ মার্চ অভিযান শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব ও সিটিটিসি ইউনিট। অভিযান শেষে জানা গেছে, তিনতলা বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় পাওয়া তিনটি ১০ কেজি ওজনের বোমা, ছয়টি হ্যান্ডগ্রেনেড ও দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট নিষ্ক্রিয় করে বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিট। জঙ্গিরা ১১টি বিস্ফোরণ ঘটায়।

militant

অপারেশন ‘সাউথ প’ (দক্ষিণে থাবা)
গত ২২ এপ্রিল সকালে ঝিনাইদহের সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু হরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ওইদিন সকাল সোয়া ৯টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় বেলা ২টায়। অভিযানে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান
গত ৭ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। অভিযান চলাকালে ‘আত্মঘাতী’ হামলায় দুই জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে সিসিটিসি’র এডিসি এস এম নাজমুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন আলী এবং মজিবুর রহমান আহত হন। এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম উদ্দিন, ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেনসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।

ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা গ্রামে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান
গত ১৬ মে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে দুটি ‘জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় এলিটফোর্স র‌্যাব। পরদিন সকালে ওই আস্তানা ঘেরাও করে দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযানে ওই দুই আস্তানার পাঁচটি স্থান থেকে দুটি সুইসাইড ভেস্ট (আত্মঘাতী বন্ধনী), পাঁচটি শক্তিশালী বোমা, ১৮টি ডিনামাইট স্টিক, বোমা তৈরির ১৮৬টি পিভিসি সার্কিট, চার ড্রাম রাসায়নিক দ্রব্য ও একটি অ্যান্টিমাইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেলিম হোসেন (৪০) ও প্রান্ত বিশ্বাস (১৭) নামের দুই ব্যক্তিকে ওই গ্রামের ওহাব বিশ্বাসের বাড়ির পাশ থেকে আটক করে র‌্যাব। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই বাড়ি দুটিতে অভিযান চালানো হয়।

militant

জাতীয় শোক দিবসে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ
গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল নব্য জেএমবির। পুলিশের যৌথ টিমের অভিযানে (অগাস্ট বাইট) সেই পরিকল্পনা নসাৎ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনায় পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে আত্মঘাতী হয়ে মারা যায় জঙ্গি সাইফুল ইসলাম নিলয়।

সাইফুলের বাবার নাম আবুল খায়ের। তার বাড়িও আকরামের নোয়াকাঠি গ্রামে। এ ঘটনার পরদিন (১৬ আগস্ট) কলাবাগান থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় নিলয়ের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্তকালে বের হয়ে আসে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারীর নাম আকরাম হোসেন খান নিলয়। তিনি নব্য জেএমবি’র শীর্ষস্থানীয় নেতা। ওই আত্মঘাতী হামলার পেছনে অর্থ যোগানোর অভিযোগে গুলশান-১ এর ১২৭ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনকে পরবর্তীতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আবু তুরাব খান (৫৬), তার স্ত্রী সাদিয়া হোসনা লাকী (৪৬) ও মেয়ে তাজরীন খানম শুভ (২৯)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবু তুরাব খান গত ১৫ আগস্ট ‘জাতীয় শোক’ দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার সিদ্ধান্তের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারী নব্য জেএমবি’র নেতা আকরাম হোসেন খান নিলয়ের বাবা। নিলয়ের মাধ্যমেই পুরো পরিবারটি নব্য জেএমবি’র বায়াত (অর্থ) গ্রহণ করে বলেও জানায় পুলিশ।এছাড়া দেশের বেশ ক’টি জেলায় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

জেইউ/বিএ/জেআইএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :