‘স্যার আমরা লজ্জিত, ক্ষমা করবেন আমাদের’


প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৬

ড. আতিউর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগকারী গর্ভনর। রাখাল বালক থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনর হয়ে উঠার পেছনে রয়েছে দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত জীবনের সম্মৃদ্ধ ইতিহাস। জামালপুরের ভূমিহীন কৃষক বাবার সন্তান আতিউর জানেন টাকার অভাবে কিভাবে ঝড়ে পড়ে অজস্র স্বপ্নবাজ গোলাপেরা। যার সাক্ষী নিজের সংগ্রামী জীবনই।

নানার কাছ থেকে মায়ের পাওয়া চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত তিন বিঘা জমিই তাদের একমাত্র সম্বল ছিল। যে জমিতে পরিবারের জন্য বছরে ৫ থেকে ৬ মাসের খাবার জুটতো। তাই তরুণ প্রজন্মমকে প্রেরণা দিতে ‘দারিদ্র্যতা কী জিনিস, তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি’ বলে নিজের দেয়া অসংখ্য বক্তৃতায় বলেছেন।

শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না দেশ সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক। নিজের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে তরুণদের জানানোর পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও মেধাবীর জন্য কাজও করেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে তাদের বার্ষিক লভ্যাংশের একটি অংশ গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিতে বাধ্য করেছেন। কৃষকদের জন্য দশ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাকালে দু’দুইবার জিতেছেন এশিয়ার সেরা গর্ভনরের মুকুট। লাগাতার ৯৩ দিন দেশের অভ্যন্তরে চলমান পেট্রোলবোমার আগুনের মধ্যেও অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে তার অবদান কম কিসের!

তাইতো স্বভাবসুলভ জীবন-যাপন ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কাজ করে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ের মণিকোঠায় নিজেকে স্থান করে নিয়েছেন। লাখো তরুণ-তরুণীর প্রেরণার উৎস ড. আতিউর রহমান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভের ৮শ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ মাথায় নিয়ে গর্ভনরের পদ ছাড়লেন দেশের সফল এ গর্ভনর। সাত বছরের গর্ভনরের দায়িত্বে থেকে দেশের অর্থনীতিতে যে আমুল পরিবরতন এনেছেন তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তরুণ প্রজন্ম। তবে তাঁর পদত্যাগকে কোন ভাবেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না তরুণার। তাই দেশের অর্থনীতিতে সফল এ গর্ভনরের কাছে ‘স্যার, আমরা লজ্জিত ও আমাদের ক্ষমা করবেন’ লেখে তরুণরা নিজেদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। একই সাথে অর্থমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

ছাত্রলীগ নেতা সাদ বিন কাদের সাদী তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সরি ড. আতিউর রহমান। আপনার সততা নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। যা ক্ষতি হল দেশেরই হল। দেশ টাকার পাশাপাশি একজন সৎ লোককেও হারাল।’’

atiur

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘‘পদত্যাগ করার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার দোষ নেই বলেই আমি বিশ্বাস করি ৯৯.৯৯ ভাগ। তবুও আপনি পদত্যাগ করার সংস্কৃতি চালু করলেন। অনেক বেহায়াদের শিক্ষা হবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কেউ এতে জড়িত। সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এটা রাষ্ট্রের সাথে বেইমানি। প্রয়োজনে এদের ফাঁসি দেয়া হোক। পদত্যাগ করা মানে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। `দোষী হলে` আপনারও বিচার চাই আবার নির্দোষ হলে আপনাকে `অর্থমন্ত্রী` হিসেবে দেখতে চাই। এটাই সরকারের প্রতি চাওয়া......’’

আরেকজন লিখেছেন, ‘‘রাখাল বালক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়ে আপনি ছিলেন আমাদের গরিব ছাত্রদের প্রেরণা। আপনি পদত্যাগ করে বাঙালি জাতিকে শিক্ষা দিয়ে গেলেন যে ভুল না করে ও বিদায়। আপনার মত সৎ, দক্ষ, নীতিবান মানুষ কে হারিয়ে আমরা ব্যথিত। আপনি আজীবন স্বরনীয় হয়ে থাকবেন ছাত্র সমাজের সফলতার প্রেরণা হয়ে। জয়তু আতিউর রহমান।’

‘‘সরি স্যার, শেষ পর্যন্ত এটা আপনাকে শুনতে হল, আমরা পারি আসলে বাঙালি। ১০০% সৎ থেকেও আপনি চোর, ঘরের ধন ঘরে আসুন, ঢাবি প্রস্তুত আপনাকে স্বাগত জানাতে,!’’

atiur

তরুণ সাংবাদিক লিংকন মাহমুদ লিখেছেন, ‘‘এবার অর্থমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কি? .....আর্থিক খাতের এত বড় ক্ষতির দায়ভার তিনি এভাবেই এড়িয়ে যাবেন? আর সোনালী ব্যাংকের ইতিহাস তো সবারই জানা। সেখান থেকে আবার শুরু .........।’’

ক্যাম্পাস সাংবাদিক আহমেদ নয়ন লিখেছেন, ‘‘ভালো থাকবেন স্যার। এদেশ আপনার অবদান স্মরণ করবে যুগের পর যুগ।’’

ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ নাজিম লিখেছেন, ‘‘যে জাতি তাদের জাতির পিতাকে হত্যা করতে একটুও বুক কাঁপেনি, সে জাতির কাছে আপনার মতো ভালো লোকের কোন মূল্য নেই। আমরা সত্যি লজ্জিত…।’’

তরুণ সাংবাদিক ইকরাম হোসেন লেখেন, ‘‘ষড়যন্ত্রের বলি হলেন আতিউর রহমান স্যার। টাকাও গেলো সততাও গেলো। আসল চোরদের কিছুই হবে না।’’

atiur

আপনার পদত্যাগ মানতে পারছিনা স্যার, আপনি সরে গেলেন এবং সরে গেল অনেকের পথের কাঁটা.. এদেশে হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কোরির বিচার হয় না, নিরবে চলে যেতে হয় আপনার মত আতিউর রহমানদের। সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই, গভর্নর না থাকলেও চিরকাল মানুষের মনের মনিকোঠায় থাকবেন স্যার... স্যালুট আপনাকে......।’’

এমএইচ/এসকেডি/এবিএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]