পুনঃতফসিল চান চামড়া খাতের ঋণ খেলাপিরা


প্রকাশিত: ০৭:০০ এএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ফাইল ছবি

বিশ্ব বাজারে চামড়ার দরপতন, ব্যবসায় মন্দা, ট্যানারি স্থানান্তরসহ নানা সংকটের কারণে বেড়েই চলছে চামড়া খাতের ঋণ খেলাপির পরিমাণ। যে কারণে নতুন করে এ খাতে ঋণ দিতে চাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। ফলে আসন্ন কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে অর্থ সংকটে পড়েছেন ট্যানারি মালিকরা। তাই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল চান চামড়া ব্যবসায়ীরা।

চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের সংগৃহীত চামড়ার বেশিরভাগই বিক্রি হয়নি। আর বিশ্ব বাজারে চামড়ার দরপতনের কারণে যেসব চামড়া বিক্রি হয়েছে তার সঠিক মূল্য পাওয়া যায়নি। ফলে লোকসান গুণতে হয়েছে এ খাতে ব্যবসায়ীদের। ধারাবাহিক লোকসানে ঋণের অর্থ সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে না পারায় চামড়া খাতে বেড়েছে ঋণ খেলাপি। তাই একদিকে ব্যাংকগুলো এখন ঋণ প্রদানে আগ্রহ হারিয়েছে। অন্যদিকে অর্থ সংকটে এবার কাঁচা চামড়া কেনা নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির ঈদের আগে বিশেষভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কাঁচা চামড়া সংগ্রহে ঋণ প্রদান করে থাকে। এসব ঋণ মূলত এক বছরের জন্য দিয়ে থাকে তারা। অর্থাৎ গত বছর যেসব ব্যবসায়ী ঋণ নিয়েছেন তারা এ বছর কোরবারির আগে ঋণ পরিশোধ করে আবার ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু গতবারের ঋণ গ্রহীতাদের সিংহভাগই পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এবার এ খাতে ঋণ দিতে চাচ্ছে না ব্যাংকগুলো।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চামড়া খাতে গত কোরবানি ঈদে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে সোনালী ব্যাংক। যার তিনভাগের একভাগ টাকাও ফেরত আসেনি। গতবার যারা ঋণ নিয়েছেন তা সমন্বয় করতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী ঋণ সমন্বয় করতে না পারবেন তাদের ঋণ দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার কারণে বাংলাদেশেও চামড়ার বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। ফলে তেমন ব্যবসা হয়নি। গতবারের অনেক চামড়া এখনো বিক্রি হয়নি। এছাড়াও সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ট্যানারি মালিকদের হাতে চামড়া কেনার মতো অর্থ নেই। তাই এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে কোরবানির আগে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আরোচনা করে এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেবে।

হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষটি এখন শিথিল রয়েছে। যারা সাভারে যেতে পারেননি তারা হাজারীবাগ ও পোস্তায় চামড়া কেনাবেচা করবেন। আর যারা সাভারে চলে গেছেন তারা সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে বেচাকেনার কাজটি করবেন বলে জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিক চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা। যার ঋণের খেলাপির পরিমাণ এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আদায় করতে না পেরে ব্যাংক অবলোপন করেছে। নিয়মিত হিসাবে যে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা রয়েছে সেগুলোর বিপরীতে ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত জামানত নেই। এ গুলোর একটি বড় অংশ মাঝেমধ্যে খেলাপি হলেও বারবার নবায়ন করে নিয়মিত হিসাবে রাখা হচ্ছে।

এসআই/বিএ/এমএস