‘আমাগো রাজনীতি ক্ষুর-কেচির সঙ্গে’


প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৬

‘দেশের বয়স ৪৫। আমার বয়স ৭০। অনেক কিছুই তো দেখলাম। যুদ্ধ দেখলাম। স্বাধীনতা দেখলাম। উন্নয়নও দেখলাম। কিন্তু নিজের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন তো করতে পারলাম না। সেই ১৫ বছর আগে ক্ষুর-কেচি হাতে ধরেছি। এখনও তাই হাতে নিয়েই দিন পার করছি। মরণের আগেও হয়ত তাই থাকব।’

সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ নগরীতে যখন মাইকে প্রার্থীদের গুণকীর্তণ করে ক্যানভাস হচ্ছিল, তখন দেবকের অাখড়ায় সেলুন ব্যবসায়ী (নাপিত) গণেশ চন্দ্র শীল এমন অাক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন।

গণেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের নন্দীবাড়ি। নারায়ণগঞ্জ এসেছেন প্রায় ৪০ বছর আগে। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এখন থাকেন নগরীর পাল পাড়ায়। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন বেশ আগেই। তিন ছেলের একজন গণেশের সঙ্গেই সেলুনে কাজ করেন। বাকি দুই ছেলে টেইলারিংয়ে কাজ করেন। ছেলেরা থাকেন বাবার সঙ্গেই।

napit

গণেশের সঙ্গে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রসঙ্গে। সংক্ষিপ্ত জীবন কথা তুলে ধরে এই বৃদ্ধা বলেন, ‘আমাগো রাজনীতি ক্ষুর-কেচির সঙ্গে। নির্বাচন, ভোট, রাজনীতি নিয়ে ভাবলে আমাগো পেটে তো আর ভাত যাইব না। সবই দেখতেছি। চুপ কইরা অাছি। পরিবেশ ভালো থাকলে ভোট কেন্দ্র যামু। নইলে সকাল থেকেই দোকানে কাজ করুম।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সংখ্যালঘুরা তো বরাবরই রাজনীতির শিকার। যাদের বিশ্বাস করি, তারাই তো ভিটে ছাড়া করে। আমরা ভোট দিলেও দোষ, না দিলেও দোষ। অাগে মিছিল, মিটিংয়ে যাইতাম। এখন ভয় পাই। কখন কি হয়, তা তো আর বলা যায় না।

ভোটের ফলাফল কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে ভালো কাজ করবে, সেই ভোট পাবে। মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে তো আর ভুল করে না। সাধারণ মানুষ শান্তির পক্ষে। যে শান্তি দিতে পারবে, সেই ভোট পাবে।

এএসএস/জেএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।