সেই বৃদ্ধকে নিতে এসেছেন স্বজনরা
রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করা ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল খালেককে বাড়ি নিয়ে যেতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে এসেছেন তার ৪ সন্তান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিন বোনকে নিয়ে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ দেওপাড়া গ্রাম থেকে হাসপাতালে এসেছেন বড় ছেলে বেলাল হোসেন।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর সকালে বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে বৃদ্ধ আব্দুল খালেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন রেজাউল করিম নামে এক যুবক। এরপর তিনি সেই বৃদ্ধের ছবিসহ Desperately Seeking-Explicit (DSE) নামের ফেসবুক গ্রুপে একটি হৃদয়বিদারক পোস্ট দেন। এরপর ওই গ্রুপের সদস্যরা আব্দুল খালেকের নিয়মিত সেবা করে সুস্থ করে তোলেন।
গ্রুপের অ্যাডমিন জেবিন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৃদ্ধ বাবার সেবা করতে গিয়ে আমরা উনার মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি। আমরা মূলত বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধদের নিয়ে কাজ করি। এসব কাজে আমাদের গ্রুপের প্রায় দুই লাখ সদস্যের কেউ না কেউ অনেক বেশি আন্তরিক।
তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর থেকে বৃদ্ধ এই বাবার জন্য সবচেয়ে বেশি শ্রম দিয়ে রেজাউল করিম ভাই। মূল তিনিই এই ঘটনার মূল নায়ক। এছাড়াও এ কাজে বিপ্লব, তিন্নী, শিফা, সাজিদ, সাফাসহ অনেকে অনেক কষ্ট করেছেন। বিশেষ কৃতজ্ঞতা ইমরান ভাইয়ের প্রতি।
আব্দুল খালেককে উদ্ধারকারী রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, বৃদ্ধ চাচা (আব্দুল খালেক) প্রথম অবস্থায় বেশ অসুস্থ ছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন কিছুদিন আগে তিনি বাড়ি থেকে চলে এসেছেন। এরই প্রেক্ষিতে আমরা জিডিতে সেটাই উল্লেখ করেছি। এখন তার স্বজনদের কাছে শুনেছি তিনি ১০ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ে তারা জিডিও নাকি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রুপের সদস্যরা সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের ওসির সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়াও কয়েকজন তাদের এলাকায় যাবেন। স্বজনদের কথা সঙ্গে যদি কথা মিল পাওয়া যায় তাহলে আমরা আজ (শুক্রবার) বিকেলেই আব্দুল খালেককে হস্তান্তর করা হবে।
এ ব্যাপারে আব্দুল খালেকের ২য় সন্তান বেলাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বাবার শারীরিক অবস্থার যতই উন্নতি হচ্ছে ততই তিনি পুরনো স্মৃতি ফিরে পাচ্ছেন। তিনি আমাকে ও আমার তিনবোনকে চিনতে পেরেছেন। আইনি পক্রিয়া শেষ হলেই তাকে আমরা বাড়ি নিয়ে যেতে যাই। তাছাড়া তিনিও বাড়ি যাওয়ার জন্য বেকুল হয়ে আছেন।
এমএএস/পিআর