ও রূপ যেন ধরে না


প্রকাশিত: ০৯:৪০ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

চিড়িয়াখানা নিয়ে মানুষের উৎসাহের যেন কমতি নেই। সৃষ্টির রূপ খোঁজার পিপাসা নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিড়িখানায় ভিড় জমায়। খাঁচায় বন্দি প্রাণীদের খুব কাছ থেকে দেখার বাসনা মানুষের স্বভাবজাত। জাতীয় চিড়িয়াখানা আধুনিকতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও আয়তনে বিশ্বের চতুর্থ। তবে সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তনও এসেছে বেশ। বিশ্বমানের করে তুলতে নেয়া হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা। সম্প্রতি সরেজমিনে জাতীয় চিড়িয়াখানার চিত্র তুলে এনেছেন জাগো নিউজ-এর প্রতিবেদকরা। প্রতিবেদনে চিড়িয়াখানার হালচাল, পরিবর্ধন-পরিবর্তন ও প্রাণীকূলের নানা দিক উঠে এসেছে। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সায়েম সাবু, মামুন আব্দুল্লাহ ও আবু সালেহ সায়াদাত। ছবি তুলেছেন মাহবুব আলম।

রূপ থাকলে তা মেলে ধরাই উত্তম। তাই করছে ওরা। পেখম খুলে নাচছে। আবার মেলানো পেখম নিয়ে ঘুরছে। গাছের ডালে বসেও খেলছে পেখম খেলা। এ ডাল থেকে ও ডালে। গাছ থেকে লুটে পড়ছে মাটিতে। শীত তাড়াতে উষ্ণ ধুলায় মাখামাখিও করছে। আর তাতেই রূপ যেন ফেটে পড়ছে।

pic

রূপের রাণী মযূরের রূপমাধুর্যের কথা কে না জানে? জাতীয় চিড়িয়াখানার মাঝখানে যেন আরেক চিড়িয়াখানা। সেথায় রূপের ডালি নিয়ে বসেছে ময়ূররা। এ যেন ভুবন ভুলানো রূপের মেলা। সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্যের সবটুকুই মিলছে ওদের রূপ দর্শনে। বুক থেকে গলা অবধি গাঢ় নীলে শৈল্পিক কারুকার্য। লম্বা পেখম দেখে মনে হবে গ্রাম্য কোনো নারীর সৃজনশীল হাতে ফুলতলা আবেগী নকশা। কানের লতির কাছে লোমগুলো কৃষ্ণকায়। লজ্জাভরা চোখে তাকালেও দর্শক মাতাতে দুষ্টুমিও করছে। ময়ূর নাচে। নাচছে তার মাথার ছোট্ট ঝুটিও।

অমন রূপ দর্শনে দর্শকও যেন মাতোয়ারা। যত দেখছে রূপের অমন রঙ্গলীলা তৃষ্ণা ততোই বাড়ছে। সময় গড়ায় কিন্তু ময়ূর গ্যালারিতে মন ভরে না। আবাল-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই এসে সেখানে থমকে দাঁড়ায়।

pic

কথা হয়, চিড়িয়াখানা ঘুরতে আসা হাসনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসে ময়ূরের সৌন্দর্য না দেখলে অপূর্ণতা থেকে যায়। ছবিতে দেখি, টিভিতে দেখি ময়ূরের রূপ। কিন্তু এখনও মনে হচ্ছে যেন ছবি দেখছি। খুবই ভালো লাগছে। পেখম মেলছে। নাচছে। ময়ূর যে স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টি, তা এখানে আরও গভীরভাবে মনে হলো।

বৃদ্ধ ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ময়ূরের রূপ নিয়ে গল্পকথা জনমুখে। এর আগে কখনও চিড়িয়াখানায় আসিনি। নাতিদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ময়ূর দেখে নাতিরা সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছে। আমি নিজেও বেশ সময় নিয়ে ময়ূরের রূপ দেখেছি। চিড়িয়াখানার কিউরেটর বলেন, প্রতি বছর ময়ূরের সংখ্যা বাড়ছে। বেশ কয়েক প্রজাতির ময়ূর রয়েছে এখানে, যার বেশ কয়েকটি বিরল প্রজাতির। ময়ূর গ্যালারির সৌন্দর্য বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

এএসএস/এমএ/এএস/এমআরএম/আরআইপি