পিলখানা ট্র্যাজেডির ৮ বছর : বিচার না পেয়ে হতাশ স্বজনরা


প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

পিলখানার দরবার হলে এখন আর ভয়াবহতার চিহ্ন না থাকলেও স্বজনদের হৃদয়ের ক্ষতটা এখনও শুকায়নি। আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৮ বছর আগে এই দিনটিতেই প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। তবে একে একে ৮ বছর কেটে গেলেও ইতিহাসের নিকৃষ্টতম এই হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। শাস্তি কার্যকর হয়নি দোষীদের। যা হতাশ করেছে নিহতের স্বজনদের।

স্বজনরা বলছেন, ধীর গতির কারণে আজও শেষ হয় নি বিচার প্রক্রিয়া। বিচার প্রক্রিয়াই যদি শেষ না হয় তবে কার্যকর হবে কবে?

এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় এই হত্যাযজ্ঞ ঘটে। একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। এই দুই মামলার রায়ে তৎকালীন বিডিআরের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়াও বিএনপির প্রয়াত সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। তবে ৮ বছরেও উচ্চ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়নি, কার্যকর হয়নি ফাঁসির দণ্ডাদেশ।

pill

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেজর মো. মমিনুল ইসলাম সরকারের স্ত্রী সানজানা সোনিয়া জাগো নিউজকে বলেন, দেখতে দেখতে ৮ বছর কেটে গেলো। আমরা শুধু দেখে গেলাম, শুনে গেলাম। দোষীদের ফাঁসি দেখতে পারিনি। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের দুর্বলতা রয়েছে বলেই বিচারে এতো সময় লাগছে।

তিনি বলেন, পিলখানা হত্যার পর হয়তো রাষ্ট্র থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। কিন্তু হৃদয়ের ক্ষত তো আর যায়নি। বিচার বেগবান করা সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার। ডেথ রেফারেন্স শেষ হচ্ছেই না। সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ ও রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

নিহত কর্নেল কুদরত এলাহী রহমান শফিকের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমার জানতে ইচ্ছে করে এতো দিনেও কেন দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে না, কেন বা বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগছে?

পিলখানায় নিহত সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এতো টা সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার দেখতে পাবো না তা আশা করিনি। বিচারই শুধু নয়, পিলখানায় ঘটনায় নিহত অধিকাংশরাই ফ্ল্যাট পেলেও আমাদের পরিবার কোন ফ্ল্যাট পাইনি। রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে সব কিছু দ্রুতই সব বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আদালতের রায় ঘোষণার পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আসামিরা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন। এর মধ্যে ৬৯ জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিমকোর্ট বিশেষ উদ্যোগ নেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন।

এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম জাহিদ সারওয়ার বলেন, পিলখানা হত্যা মামলায় ১৫২ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ৩৫৯তম দিনের কার্যদিবসের শুনানিতে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মুলতবির আদেশ দেন।

শুনানির এই পর্যায়ে আইনি যুক্তি উপস্থাপন চলছে। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অন্য মামলায় নিয়োজিত থাকায় এক মাসের সময়ের আবেদন করা হয়।

জেইউ/জেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :