‘ভাত খেলেও থালা ধোয়ার সময় দেন না’


প্রকাশিত: ০৬:৪৫ এএম, ০১ মে ২০১৭

রাজধানীর সদরঘাট ও এর আশপাশের নৌ টার্মিনালগুলো শত শত শ্রমিকের কর্মস্থল। দিনরাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা লঞ্চে কাজ করেন। তাদের মধ্যে দিনমজুর হিসেবে কর্মরত শ্রমিকদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ওইসব শ্রমিকদের সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়। নামাজের সময় দেয়া হয় না। এমনকি ভাত খাবার সময় মালিকপক্ষ এমন তাড়া দেয় অনেকে প্লেট ধোয়ার সময় পান না।

সোমবার (১ মে) মহান মে দিবসে সকালে সদরঘাট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।

সেখানে কথা হয় ভোলা থেকে আসা ফজলুর রহমানের সঙ্গে। ২৮ বছর বয়সী ফজলু জানান, মে দিবসসহ তাদের দিয়ে প্রতিদিন কাজ করিয়ে নেয়া হয়। আমরা চুক্তি ভিক্তিক কাজ করি। লঞ্চ থেকে বিভিন্ন মালামাল নামাই। কিন্তু একদিন কোনো কারণে কাজে আসতে না পারলে পরদিন অন্য লোক নেয়। আর আমাদের বকেয়াও পরিশোধ করা হয় না। এ কারণে অসুস্থ্যতা নিয়েও কাজ করতে হয়।

Sodorgat

লঞ্চ থেকে রড নামানোর কাজ করছিলেন জহুরুল ইসলাম। বরিশাল থেকে আসা এ শ্রমিক কাজ করেন দৈনিক মজুরিতে। তিনি জানান, মালিকপক্ষ তাকে খাওয়ার সময়টা পর্যন্ত দেন না! ভাত খাওয়ার সময় মাথার উপর একজন দাঁড়িয়ে থাকেন। থালা ধোয়ার সময়ও দেন না তারা।

তাদের কোনো শ্রমিক সংগঠন নেই বলে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেন না বলেনও জানান তিনি।

সদরঘাটে বিভিন্ন শ্রমিকদের দালাল হিসেবে কাজ করেন সাতক্ষীরার বশির আলী। তিনি জানান, মালিকপক্ষ যেভাবে চায় আমাদের সেভাবেই কাজ করতে হয়। নতুবা অন্য লোক দেখে। তাই কাজে যাতে ফাঁকিবাজি না হয় তার খেয়াল রাখি আমরা।

সদরঘাটের গুদাম মালিক মোজাফফর আলী জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকদের এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা এখানে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পান।

এইচএস/আরএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।