দেশে এখনও পরিপূর্ণ আইনের শাসন বাস্তবায়ন হয়নি

আমানউল্লাহ আমান
আমানউল্লাহ আমান আমানউল্লাহ আমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৭

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা ও এক-এগারোর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। কথা বলেন ষোড়শ সংশোধনী, আইনি জটিলতা ও সম-সাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। দুই পর্বের ধারাবাহিকের শেষটি আজ প্রকাশিত হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমানউল্লাহ আমান

জাগো নিউজ : বিএনপির পক্ষ থেকে সহায়ক সরকারের একটি প্রস্তাবনার কথা বলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অসাংবিধানিক কোনো প্রস্তাব মেনে নেয়া হবে না। সংবিধানের ভেতর থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার সুযোগ আছে কি?

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম : সংবিধানেই সকল দলের যারা আইনানুগভাবে নির্বাচন করতে পারবেন তাদের নির্বাচনের অধিকারের কথা বলা আছে। এটা বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত আইনে। মূল সংবিধানে কিন্তু সবকিছু বলা নেই। সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচনের জন্য একটা কমিশন গঠিত হবে। ওই কমিশন আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। যে কমিশন গঠিত হয়েছে, কমিশন কিভাবে কাজ করবে সেখানেও আইন আছে। কে প্রার্থী হতে পারবেন, কত তারিখে নির্বাচন হবে, বিস্তারিত বলা আছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন যতক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপিসহ সকল পার্টি যারা আইনানুগভাবে বৈধ সংগঠন তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

আওয়ামী লীগ মনে করে, আইনের অধীনে সকলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। যদি নির্বাচনকালীন সময়ে সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ব্যতয় ঘটে, সরকারি দলকে বেশি সুযোগ দেয়া হচ্ছে অন্যদের দেয়া হচ্ছে না- এ রকম পরিস্থিতি হলে মাঠের সমতার জন্য কী কী করা দরকার; যেমন কোনো মাঠে যদি পুলিশ পাহারা দিয়ে আওয়ামী লীগ জনসভা করে সেখানে বিএনপিও দাবি করতে পারে আমাদেরও পুলিশ পাহারা দেয়া হোক- এ রকম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ সহযোগিতা করবে।

তবে এর সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন যদি আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগিতা চায় আওয়ামী লীগ তা করবে। আমি মনে করি বিদ্যমান আইনের আওতায় বড় বড় দলগুলোর আসার সুযোগ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আমার দল (আওয়ামী লীগ) তাদের (বিরোধী দল) নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা যেন না হয় সে বিষয়ে সহযোগিতা করবে।

জাগো নিউজ : কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি জানানো হচ্ছে। দাবিটির বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম : বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ। এখানে এককক্ষ বিশিষ্ট সংসদের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে বলা হয় শ্বেতহস্তি পালা হচ্ছে। প্রতি মিনিটে পার্লামেন্টে কত টাকা ব্যয় হয়? পার্লামেন্ট মেম্বারদের কত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়? ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি দিতে হয়, তার প্রটোকল দিতে হয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ও পার্লামেন্টে তার অফিস দিতে হয়। এ ব্যয়ভার বাংলাদেশের মানুষ বহন করতে পারে না। বাংলাদেশ এত বড় দেশ নয় যে স্তরভিত্তিক সংসদ প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, যদি প্রস্তাবটা আমরা কথার কথা হিসেবে ভাবতে চাই তাহলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে সর্বসম্মতিক্রমে করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সরকার ব্যবস্থা নেই। সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট, প্রাদেশিক গর্ভমেন্ট নেই। ফলে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এটা আসবে তখনই যখন সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট থাকবে। পাকিস্তানে সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট ছিল। এজন্য এমএনএ ও এমপি হতো। ভারতে রাজ্যসভা ও বিধান সভা আছে। বাংলাদেশে ও-রকম সুযোগ নেই। কোন কোন স্তরে কে কে থাকবে- এটা যারা বলেন, আমার ধারণা তারা রাজনীতিতে কিছু কথা বলার জন্য বলেন।

জাগো নিউজ : সাম্প্রতিক সময়ে গুম-খুনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। বিএনপিও গুম হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ করার কথা বলেছে। এ বিষয়ে আপনাদের কী ভাবনা?

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম : মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে- এটা অপরাধ, এটা অন্যায়। এর বিচার রাষ্ট্রের যারা দায়িত্বে আছেন, তাদেরই করতে হবে। আমাদের দল মনে করে, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার করতে হবে। কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। আমাদের দেশে এখনও পরিপূর্ণ আইনের শাসন বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দেশে এ জাতীয় অপরাধগুলো ঘটছে। কখনও ব্যক্তিগত শত্রুরা নিয়ে মেরে ফেলছে, কখনও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কিছু করাপটেড ব্যক্তি অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ রকম ঘটনা ঘটাচ্ছে। দেখতে হবে যে, সেটা রাষ্ট্র করছে কি না?

ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম- এ দু’জনের কথা বার বার বলা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের জন্য ওই দুই ব্যক্তি এমন কোনো হুমকি নয় যে তাদের গুম করে না ফেললে শেখ হাসিনা নিরাপদ থাকতে পারত না। আবার দেখবেন, আওয়ামী লীগের যে সকল নেতারা নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন- সে রকম একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডও আওয়ামী লীগের আমলে হয়নি। অপরাধ যে আওয়ামী লীগের আমলে হচ্ছে না, সেটা বলা যাবে না। সে অপরাধগুলোর কোনো কোনোটার শাস্তি হচ্ছে।

আমাদের ফরহাদ মজহার হারিয়ে গেলেন, দেখা গেল তিনি হারাননি। সালাহ উদ্দিন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি হলো, মামলা হলো। দেখা গেল তিনি ভারতের শিলং-এ। আবার হারিছ চৌধুরী হারিয়ে গেলেন। দেখা গেল তিনি আসামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বড় বড় অনেক ঘটনা অপহরণ দেখানোর চেষ্টা করেছে বিএনপি। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন হয়েছে, আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে।

‘অধিকার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান জানাল, ৬৫ জন লোককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে শাপলা চত্বরে। বিদেশ থেকে অ্যাওয়ার্ডও পেল তারা। পরে দেখা গেল, তারা (অধিকার) যাদের কথা বলেছে, তাদের অনেকেই মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন অথবা মাদরাসায় ছাত্র হিসেবে পড়ালেখা করছেন। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক অগ্রযাত্রা ব্যহত করার জন্য একটা পাল্টা ব্লেইম দিয়ে যতটুকু না ঘটনা এর চেয়ে রটনা দিয়ে এগুলো করা হচ্ছে। আমাদের দেশে তো গোয়েবলসিয় থিওরি প্রচারণা যত বেশি চলে তত বেশি অভিযুক্ত করার সুযোগ হয়।

জাগো নিউজ : বিভিন্ন সময়ে সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আইনি বিরোধ দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা কী থাকবে?

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম : আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখনই অবিচারের শিকার হবেন তখনই তাদের পাশে দাঁড়াব, আইনি সহায়তা দেব। গ্রাম থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব থাকবে ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেয়া। একই সঙ্গে দলের ব্যানার ব্যবহার করে বা দলের পদবি ব্যবহার করে কেউ যাতে অন্যায় বা অবিচার করতে না পারেন কিংবা বিরোধী দলের কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কেউ যাতে হয়রানি করতে না পারেন- এসব বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখব। এজন্য আমি প্রতিটি জেলার আইন বিষয়ক সম্পাদকদের সঙ্গে বসব। যে দেশটি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে, সে দেশের কোনো নাগরিক যেন অবিচারের শিকার না হন, আইনি মার-প্যাচে বিপন্ন না হন, সেজন্য তাদের পাশে আমরা দাঁড়াব।

জাগো নিউজ : সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী-মনস্ক দুই আইনজীবী সংগঠন বিলুপ্ত করে একটি সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইন-অঙ্গনে সংগঠনটির অবস্থান শক্তিশালী হবে কি?

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম : দুটি সংগঠন যদিও একই আদর্শে বিশ্বাসী, একই নেতায় বিশ্বাসী, তারপরও নেতৃত্বকে ঘিরে দুটি সংগঠনের বিরোধ প্রায়শই থাকত। কখনও প্রকাশ্যে, কখনও মনস্তাত্বিক। এ দুটি সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আইনজীবীদের ঐক্য দৃঢ় হবে। নিজেদের ভেতরে বিরোধ কমে যাবে, আমাদের শক্তি সঞ্চিত হবে। আইন-অঙ্গন ও আইনজীবী ফোরামে অতীতে যে বিপন্ন অবস্থা ছিল, আমি মনে করি সে অবস্থা আর থাকবে না। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিতের জন্য অনেক বেশি সুপথ প্রশস্ত হবে।

জাগো নিউজ : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে কেন ভোট দেবে?

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম : আমরা মনে করি, আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ নেই। বাসস্থানের অভাবে কেউ রাস্তায় থাকে না। বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাচ্ছে না, কোথাও লঙ্গরখানা খুলতে হচ্ছে না, কোনো শিশু টাকার অভাবে বই কিনতে না পেরে পড়তে পারছে না- এমন কোনো অবস্থা নেই। গ্রামীণ জনপদে আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া পৌঁছেনি এ কথা কেউ বলতে পারবে না। এখন গ্রামে টেলিভিশন চলছে, ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে মানুষ তথ্য পাচ্ছে। নাগরিক অধিকার থেকে মানুষ যা যা পেতে পারে তা পাচ্ছে। আমাদের দেশ ভারতের চেয়ে বেশি উন্নত হচ্ছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, দায় মুক্তির সংস্কৃতি থেকে আমাদের এখন বেরিয়ে আসতে হবে।

বিএনপি ২০০৬ সালে একটি আইন করেছিল। দায়মুক্তি আইন। সেখানে বলেছিল, আর্মি-র্যা ব কোনো কাজ করলে তাদের বিচার করা যাবে না। সেই দায়মুক্তির আইন তুলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ র্যা বের কোনো অফিসার কাউকে মারলে তার বিচার করা যাবে। এর উজ্জ্বল উদাহরণ নারায়ণগঞ্জের ছয়জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা ও একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করেছে আমাদের দল ক্ষমতায় এসে।

দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে না, বস্ত্রহীন হয়ে থাকতে হচ্ছে না, তার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধুনিকতা সে পাচ্ছে, তার সন্তান নিরাপদে স্কুলে যেতে পারছে- এ রকম অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অকল্পনীয় উন্নয়ন হয়েছে। নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতুর মতো সেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বিএনপি আন্দোলনের নামে সারাদেশকে একটা পেট্রোল চেম্বার বানিয়েছিল। বাচ্চারা পুড়ে কয়লা হয়ে যাচ্ছিল, স্কুলে যেতে পারত না। বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে আসত না। তাদের সেই সন্ত্রাসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ কিন্তু প্রতিশোধ নিতে যায়নি। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, এ রাষ্ট্রের মানুষের জন্য আওয়ামী লীগ যা করেছে তাতে মানুষ এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে।

এইউএ/এমএআর/পিআর

আইনানুগভাবে বৈধ সংগঠনগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]