তারুণ্যকে আমরা স্বপ্ন দেখাতে পারি নাই

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭ | আপডেট: ০৬:০৪ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭
তারুণ্যকে আমরা স্বপ্ন দেখাতে পারি নাই
ছবি : মাহবুব আলম

ড. আতিউর রহমান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। ১৯৫১ সালে জামালপুর জেলার দিঘপাইত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ওই গ্রামের একটি স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। গ্রামের বাজার থেকে ১৫০ টাকা সাহায্য নিয়ে ক্যাডেট কলেজে পড়তে আসা ড. আতিউর রহমান আজও সে ঋণের কথা ভোলেননি। এমন ঋণের কথা স্মরণে রেখেই সব সময় সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

ক্যাডেট কলেজ থেকে ঢাকা বিভাগে পঞ্চম স্থান অধিকার করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। এরপর পিএইচডি গবেষণা করেন ইংল্যান্ড থেকে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে প্ল্যানিং অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় তিন দশক ধরে রিসার্চ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে। ২০০০ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগে অধ্যাপনা করছেন তিনি।

উন্নয়ন, মানবিক উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু। তিন পর্বের ধারাবাহিকের শেষটি আজ প্রকাশিত হলো।

জাগো নিউজ : সফলতার সিঁড়ি বেয়ে অর্জনের শিখরে। জীবনকে এ বেলায় কতটুকু উপভোগ করছেন?

ড. আতিউর রহমান : জীবনে আমি অত্যন্ত সফল। আমার জীবনকথা কমবেশি সবাই জানেন। যে পরিবেশ ও পরিবারে আমার জন্ম সেখান থেকে সর্বোচ্চ একজন স্কুলশিক্ষক হতে পারতাম। অথচ সৃষ্টিকর্তা আমাকে কত সম্মান দিয়েছেন।

সৃষ্টিকর্তা সহায় ছিলেন এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন বলেই এ জায়গায় আসতে পেরেছি।

জাগো নিউজ : মানুষের মধ্যেই আছেন। সাধারণ মানুষকে পেলেন?

ড. আতিউর রহমান : সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলতে পারা বড় আনন্দের। এ আনন্দ আমি খুব কাছে থেকে অনুভব করেছি, এখনও করছি। এ দেশের মানুষ বড় আশাবাদী ও উদ্যমী। সবাই একসঙ্গে হাঁটতে চায়। শুধু হাঁটার রাস্তাটি পরিস্কার করে রাখতে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে আমি আমার শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহ দিয়ে থাকি।

জাগো নিউজ : শিক্ষার্থীরা তা কিভাবে নিয়ে থাকেন?

ড. আতিউর রহমান : সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে শিক্ষার্থীরা অনেক ইতিবাচক। তারা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। শিক্ষার্থীদের সে স্বপ্নে সাধারণ মানুষের স্বপ্নও বুনন হয় বলে আমি মনে করি। কোনো একদিন সুপ্ত স্বপ্নের বিস্ফোরণ ঘটবে- এটা আমার বিশ্বাস।

আমি এটাও মনে করি, স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্র তৈরির দায়িত্ব সরকারেরই। যারা রাষ্ট্র, সমাজের নিয়ন্ত্রক তাদের ওপরেই সব নির্ভর করে।

জাগো নিউজ : অর্জনের সিঁড়িতে আপনার মতো অনেকেই পা রেখেছেন বা রাখতে চান। কেউ সফল হন, কেউ হন না। তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?

ড. আতিউর রহমান : যেকোনো কাজেই লেগে থাকতে হয়। জীবনে হতাশার কোনো জায়গা নেই। এক সিঁড়িতে পা পিছলে গেলেই শেষ নয়। ঘুরে দাঁড়িয়ে ফের পা রাখতে হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলব, যে বিষয়েই পড়ো না কেন, তাতে পুরো দখল থাকতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে কোনো ফাঁকি চলে না। আমার সৌভাগ্য আমি ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এমন সুযোগ সকলের জন্য করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

Atiur

জাগো নিউজ : এখন তো শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন?

ড. আতিউর রহমান : আমি ছোট বেলায় যে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি, বৃষ্টি হলে সেখানে পানি পড়ত। বৃষ্টির সময় এক জায়গায় জড়োসড়ো হয়ে থাকতে হতো। কিন্তু ভালো শিক্ষক পেয়েছিলাম।

আগে ভালো অবকাঠামো ছিল না। তবে ভালো শিক্ষক ছিল। কিন্তু এখন ভালো অবকাঠামো হচ্ছে, কিন্তু ভালো শিক্ষক মিলছে না। এ কারণেই শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাইলে সবার আগে শিক্ষকের মানোন্নয়ন করতে হবে।

জাগো নিউজ : তারুণ্য নিয়ে কী বলবেন?

ড. আতিউর রহমান : তারুণ্যই আমাদের বড় স্বপ্ন। তাদের ওপর ভর করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

জাগো নিউজ : তারুণ্যেই আবার ধ্বংস!

ড. আতিউর রহমান : তারুণ্যকে আমরা স্বপ্ন দেখাতে পারি নাই। বাংলাদেশের স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তারুণ্যের স্বপ্নে প্রবেশ করাতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শই হতে পারে তারুণ্যের আদর্শ।

জাগো নিউজ : জীবনে কোনো হতাশা আছে?

ড. আতিউর রহমান : না। জীবনে যা চেয়েছি, তাই পেয়েছি। স্বপ্নের প্রায় সবই হাতের নাগালে ছিল আমার। বেশির ভাগই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

জাগো নিউজ : জীবনের শেষ বেলায় কী করতে চান?

ড. আতিউর রহমান : বাংলাদেশ, দেশের মানুষের সাফল্যের গল্প বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকে বক্তব্য দিতে গিয়েও আমি মানুষের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছি।

সাধারণ মানুষের মাঝেই থাকতে চাই। যে শিক্ষা জীবনে অর্জন করেছি, তা স্বাপ্নিক তরুণদের মাঝে বিতরণ করতে চাই। ১০ স্বাপ্নিক তরুণকেও পেলে আমার জীবন সার্থক।

এএসএস/এমএআর/পিআর

জীবনে হতাশার কোনো জায়গা নেই। এক সিঁড়িতে পা পিছলে গেলেই শেষ নয়। ঘুরে দাঁড়িয়ে ফের পা রাখতে হয়