আবারও ভিজিএফ কার্যক্রম চালু করতে হবে

মামুন আব্দুল্লাহ
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭ | আপডেট: ০৫:৪০ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৭
আবারও ভিজিএফ কার্যক্রম চালু করতে হবে

আ হ ম মুস্তফা কামাল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মুস্তফা কামাল এখন পর্যন্ত তিনবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলার (দক্ষিণ) আহ্বায়কেরও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় অভিজ্ঞ গাণনিক এ রাজনীতিকের। কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে দেশে চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া, জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন, এসডিজির বাস্তবায়নসহ সামষ্টিক অর্থনীতির নানা বিষয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুন আব্দুল্লাহদুই পর্বের ধারাবাহিকের শেষটি আজ প্রকাশিত হলো।

জাগো নিউজ : ট্যাক্স নিয়ে সম্প্রতি অনেক কথা হচ্ছে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতে সরকারের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

আ হ ম মুস্তফা কামাল : প্রতি বছর বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বাস্তবায়ন হয় না। এজন্য এবার ২০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকলেও সমস্যা হবে না। ধরে নেন এবার ২০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বাকিটা হবে। সমস্যা কী?

জাগো নিউজ : আগে অর্থ সঙ্কট ছিল না, এখন অর্থ সঙ্কটে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। একটা পার্থক্য তো থেকেই যাচ্ছে…

mustofa

আ হ ম মুস্তফা কামাল : অর্থ কাগজে-কলমে দিয়ে রাখলাম, বাস্তবে পেলাম না। এটা কেমন হলো? আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করি। এক বছরে আমাদের উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়ে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, এর একটি হিসাব তৈরি করা হয়।

এখন ওই টাকা যদি ভ্যাট থেকে না আসে আমরা সেটা বন্ড থেকে আনতে পারি। আমরা দেশীয় বা অভ্যন্তরীণ খাত থেকেও ঋণ নিতে পারি। তাহলে তো সমস্যা থাকে না। এছাড়া সরকারের সক্ষমতার জায়গাও বাড়বে। নতুন নতুন খাত তৈরি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হবে, শিল্পও ভালো হবে।

মালয়েশিয়ায় মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৬০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এটা নতুন। ধারণা করা হচ্ছে এ সংখ্যা এক লাখে ছাড়াবে। এভাবে আমাদের নতুন নতুন খাত তৈরি হতে পারে। আপনি যে ২০ হাজার কোটি টাকার কথা বলেছেন, এসব খাত থেকেও তা চলে আসতে পারে। ফলে সরকারের এ মুহূর্তে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

জাগো নিউজ : চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর আরও কার্যকর করতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

আ হ ম মুস্তফা কামাল : বন্দরে পণ্য ওঠা-নামায় আগের চেয়ে সময় কম লাগছে। আমি নিজে যখন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম তখন এর চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগত। সে হিসাবে এখন কম সময় লাগে। তবে আমাদের পরিকল্পনা আছে, আমরা চট্টগ্রামে নতুন নতুন পোর্ট তৈরি করব। মংলা পোর্ট এখনও আমরা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারিনি। সোনাদিয়া, পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর হবে। বিদ্যমান যেগুলো আছে সেগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

জাগো নিউজ : এর মানে পরিকল্পনা অনুসারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

আ হ ম মুস্তফা কামাল : না এগুলো বাদ দিয়েই বলছি। এসব সুবিধা থাকলে আমরা ১২ শতাংশে উঠে যেতাম। আমাদের ক্যালকুলেশনে এসব প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

kamal

জাগো নিউজ : সম্প্রতি চালের দাম অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে বন্যা হচ্ছে। চালের দাম আরও বাড়বে কি না?

আ হ ম মুস্তফা কামাল : বন্যায় আক্রান্তরা নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে আছেন। তাদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা আছে। কিন্তু বৃষ্টি, বন্যা হলে আমাদের করার কিছুই থাকে না, এগুলো তো বন্ধ করা যাবে না। তবে সরকারকে দেখতে হবে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে কি না, তারা কষ্টে রয়েছেন কি না? বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

যেভাবেই হোক বাজারকে সহনশীল অবস্থায় রাখতে হবে। এজন্য সরকার কাজও করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা চালের দাম কমানোর জন্য ইমপোর্ট ডিউটি (আমদানি শুল্ক) উঠিয়ে দিয়েছি। ফলে আমরা আশা করছি বাজারে চালের দাম কমবে। সরকার টু সরকার (জি টু জি)চাল আমদানি করা হচ্ছে।

খাবার নেই বলে দেশের কোনো মানুষ না খেয়ে আছে- এমন ঘটনা তো নেই। টাকা নেই, খাবার কিনতে পারছেন না- এমন কোনো খবর আছে কি? পাওয়া যাবে না। হ্যাঁ, থাকতে পারে কিন্তু এমন ঘটনা রেয়ার (দুর্লভ)। কারণ মানুষের কাছে ডিসপোজেবল ইনকাম রয়েছে। সেটা সরকার বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। আগে খাদ্যসামগ্রি দেয়া হতো এখন সরাসরি টাকা দেয়া হচ্ছে।

জাগো নিউজ : কিন্তু দ্রব্যমূল্য তো কমছে না…

আ হ ম মুস্তফা কামাল : আমার মনে হয়, আবারও ভিজিএফের (অতি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রম) ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কারণ মানুষ এ উদ্যোগে উপকৃত হয়েছে, তারা এ সেবা আবার পেতে চান। এটি চালু হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাজারে দাম বাড়ানোর প্রবণতা কমে যাবে। যদিও সব ব্যবসায়ী সমান না। ভিজিএফ কার্যক্রমে ফিরে যেতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জাগো নিউজ : সামনে কোরবানি ঈদ। ইতোমধ্যে পশুর দাম মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিত্যপণ্যের পাশাপাশি কোরবানি ঈদে অতি ব্যবহার্য লবণের দামও অত্যন্ত বেশি। কেন?

আ হ ম মুস্তফা কামাল : গরু-ছাগল লালন পালনে খামারির খরচ বেড়ে গেছে। লাভের মুখ না দেখলে তো কেউ গরু পালবেন না। লবণের দামও সহনীয় পর্যায়ে আছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমার কিংবা থাইল্যান্ডের দিকে তাকান। তাদের তুলনায় আমাদের দেশে লবণের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম হাজী বাবরু মিয়া এবং মাতা সায়েরা খাতুন। ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান একত্রে) চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতিভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছিলেন ‘লোটাস’ উপাধি। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় নিজ এলাকা কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৯ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা- ১০ নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯-১৩ সময়কালে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির মতো পদও অলঙ্কৃত করেন।

তিনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি’র সহ-সভাপতি মনোনীত হন। ২০১৪ সালের ১ জুলাই সংস্থাটির নির্বাচিত সভাপতিও হন। আইসিসির নিয়ম-কানুনের অপব্যবহারের প্রতিবাদে ওই পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেন। এ কারণে দেশে-বিদেশে প্রশংসাও পান। দশম সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ভূমিকা রয়েছে তার।

এমএ/এমএআর/আরআইপি

খাবার নেই বলে দেশের কোনো মানুষ না খেয়ে আছে- এমন ঘটনা তো নেই