আইন প্রণয়নে অংশ নেয়া একমাত্র নারী এমপির কথা

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ০৮ মার্চ ২০১৮

চলমান দশম জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচন করে ২২ জন এমপি সংসদে এসেছেন। এছাড়া রয়েছেন ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি।কিন্তু এসব নারীদের কেউই তেমন একটা আইন প্রণয়নে অংশ নেন না। শুধু ব্যতিক্রম শিক্ষাবিদ রওশন আরা মান্নান। জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের এ এমপি প্রথমবারের মতো সংসদে গিয়ে নিয়মিত আইন পাসের কাজে জড়িত।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে পাঁচটি অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হয়। এর মধ্যে ১৩টি বিল জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রস্তাব দেন তিনি। সাতটি বিলের দফাওয়ারি সংশোধনী আনেন রওশন। সংসদে সরকারি দলের এমপিরাও প্রস্তাবিত আইনের ওপর সংশোধনী আনতে পারেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা তা করেন না।

জাগো নিউজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমপি রওশন আরা মান্নান বলেন, আমি সারারাত স্টাডি করি। নিজেই লেখাপড়া করি, নিজেই বলি। অন্য নারীরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। তারা যে যার মতো টাকা কামাই করছে। কিন্তু আমার কিছু নেই। লেখাপড়া করেই আমার জীবন কেটে গেল।

‘৩২ বছর শিক্ষকতার পর আমি শেষ বয়সে সংসদের যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এ সময়টুকু মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু অন্যদের পড়ালেখার সময় নেই। ব্যস্ত থাকেন অনেকে। আমি সংসদে নিজের কোনো কথা বলি না। সামাজিক সমস্যা, ভূমি দখল, ব্যাংক লুটপাট নিয়ে কথা বলি।

তিনি বলেন, নারীরা এখন অনেক অগ্রসর হয়েছেন। সংসদের সংরক্ষিত আসন তুলে দেয়ার পরিবেশ এখনও বাংলাদেশে হয়নি। কারণ নারীরা পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। কিছু আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা দরকার। সরাসরি নির্বাচনে আসার ব্যবস্থা করলে সবাই কিন্তু আসতে পারবে না সংসদে।

‘সরাসরি নির্বাচনে আসতে হলে এ দেশে হয়ত বিখ্যাত হতে হবে অথবা কুখ্যাত। মাঝামাঝি যারা, তারা পারবে না। সুতরাং আমাদের সিট বাড়িয়ে অর্ধেক দেয়া হোক। নারীরা অনেক এগিয়ে গেলেও ভোটে অংশ নিয়ে সংসদে যাওয়ার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।’

অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ১৯৪৮ সালের ৩ জানুয়ারি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা টিসার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীও তিনি। এছাড়া অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সংগঠক হিসেবেও পুরস্কার পেয়েছেন।

এইচএস/এমআরএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :