মিরপুরে জমেনি ঈদ বাজার

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৫:১১ পিএম, ২৬ মে ২০১৮

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মিরপুরে শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে বেচাকেনা শুরু হলেও জমে উঠেনি ঈদ বাজার। শনিবার মিরপুরে বুটিক পল্লীসহ শপিং কমপ্লেক্সগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঈদ কালেকশনে দোকান সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এর ওপর দেয়া হচ্ছে নানা লোভনীয় অফার। তবে বিরূপ আবওয়ার কারণে মিরপুরে ঈদ মার্কেট এখনো জমে উঠেনি। পাশাপাাশি দেশীয় পোশাকের চাইতে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি হওয়ায় বাজার না জমে উঠার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ঈদের কেনাকাটা সারতে মিরপুরবাসী এখন আর দূরে যান না। কারণ নামকরা সব বুটিক হাউসের শাখা এখন মিরপুরে রয়েছে। বুটিক হাউসের পাশাপাশি মিরপুরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি শপিং কমপ্লেক্স। আর তরুণ প্রজন্মের জন্য লাইফস্টাইল স্টোরের মধ্যে আছে-আড়ং, আম্বার, এক্সটাসি, লা রিভ, টেক্সমার্ট ও স্মাটেক্সের শো-রুম।

mipur

বিক্রেতারা জানান, বিক্রি শুরু হলেও ঈদের বাজার এখনো জমেনি। তবে ২০ রমজানের পর থেকে পুরোদমে জমে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিপুরপুরে প্রায় শতাধিক বুটিক হাউসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা আসছেন। কেউ কেউ কাপড় দেখে চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজেদের পছন্দমতো পোশাক ক্রয় করছেন। এ ছাড়া ফুটপাথে বসা অস্থায়ী দোকান থেকেও বাছাই করে কেনাকাটা সারছেন অনেকেই।

মিরপুরের বুটিকপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, অরজিনাল ১০ নম্বর থেকে শুরু করে গোল চক্কর হয়ে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত একশর বেশি বুটিক ও ফ্যাশন হাউস নতুন পোশাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেশি পোশাকের জন্য ‘নায়রী’তে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এখানে ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যামব্রয়ডারি কাজের শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে। আরও আছে পাঞ্জাবি ও কিডস আইটেম।

mipur

এ ছাড়া দেশি ফ্যাশন হাউসের মধ্যে মিরপুর-২ নম্বরে ‘কে-ক্রাফট’, ‘নবরূপা’ ‘বাংলার মেলা’ পালকি, কিংসুক প্রথমা, টি-২, নকশীতে ছিল ক্রেতাদের উপস্থিতি। বিশেষ করে ক্রেতারা এসব জায়গায় শাড়ি, সুতির সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি ও ঘর সাজানোর সামগ্রী কিনছেন। ঈদকে সামনে রেখে এসব দোকানে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে।

পালকির এক বিক্রয় প্রতিনিধি জাগো নিউজকে বলেন, আগের তুলনায় মিরপুরে জনবসতি বেড়েছে। আর ঘরের কাছে ভালোমানের পোশাক পেয়ে এখানেই ঈদের কেনাকাটা সারছেন মিরপুরবাসী। এতে পরিশ্রম ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে।

সনি সিনেমা হলের বিপরীতে রেড ক্রিসেন্ট সিটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্যাশন হাউস। এরমধ্যে অন্যতম আড়ং। রুচিশীল ক্রেতাদের কাছে বরাবরই ঈদের কেনাকাটায় আড়ং পছন্দের শীর্ষে।

mipur

আড়ংয়ের কর্মীরা জানান, ঈদের পোশাক বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পল্লবী থেকে আড়ংয়ে আসা ক্রেতা নাজনীন হক জানান, আগে আড়ংয়ের পোশাক কিনতে আসাদ গেটে যেতে হতো। এখন মিরপুরেই কেনাকাটা সারেন।

তরুণ-তরুণীর কাছে ফ্যাশন হাউস ‘লা রিভ’-এর পোশাকও বেশ পছন্দের। পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাক নিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকে লা রিভে ভিড় করতে দেখা গেছে।

মিরপুর বুটিক হাউস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আশরাফ জাগো নিউজকে বলেন, বিরূপ আবওয়ার কারণে অনেকে ঘর থেকে বের না হওয়ায় কয়েকদিন কেনা-বেচা কম ছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে।

mipur

তিনি বলেন, মিরপুরে কেনাকাটা করেন সাধারণত মধ্যবিত্ত পরিবার। ক্রেতা শ্রেণি এবং গরমকে মাথায় রেখে সুতি কাপড়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এবার ঈদের পোশাক তৈরি করা হয়েছে।

তবে এবারের ঈদে দেশি পোশাকের চাইতে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। এছাড়া মিরপুরে বড় ব্যান্ডের দোকান চলে আসায় বুটিকের দোকানে বিক্রি কমে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এমএইচএম/এএইচ/এমএস