ডিএনসিসির অভিযানে ৬১৪ মামলা

আবু সালেহ সায়াদাত
আবু সালেহ সায়াদাত আবু সালেহ সায়াদাত , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৪ পিএম, ০৯ মার্চ ২০১৯

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মোট ৬১৪টি মামলা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলার মধ্যে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী মামলা হয়েছে ২৯০টি। অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুযায়ী মামলা হয়েছে ২৯৫টি। অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে এক কোট ১৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১২ অনুযায়ী মোট মামলা হয়েছে ১৬টি। এসব মামলায় ছয় লাখ ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী মামলা হয়েছে ১০টি। এসব মামলায় তিন লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলার সংখ্যা তিনটি। সবমিলিয়ে গত দুই বছর চার মাসে অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৬১৪টি মামলা করেছে ডিএনসিসি । অর্থদণ্ড আদায় করেছে এক কোটি ৭৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকা।

নামফলক-সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিতে নিশ্চুপ ডিএনসিসি

রাজধানীতে চলার পথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামফলক-সাইবোর্ডে বাংলা লেখা চোখে পড়ত এক সময়। তবে বর্তমানে বাংলা লেখা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। ২০১৮ সালের শুরুতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও নানা পদক্ষেপ নিলেও বর্তমানে নিশ্চুপ হয়ে আছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে চলতি বছরের দুই মাস অতিবাহিত হলেও, এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামফলক-সাইনবোর্ড এখন খুব বেশি বাংলায় দেখা যাচ্ছে না।

এসব অভিযানের সময় অনেক দোকান ও প্রতিষ্ঠান তাদের নামফলক-সাইনবোর্ড নিজ উদ্যোগেই বাংলায় লিখে নিয়েছিল।কিন্তু দীর্ঘদিন এ ধরনের কোনো অভিযান না থাকায়, নামফলক বা সাইনবোর্ড অনেকগুলো ইংরেজিতে থেকে গেছে।

গত বছরের শুরুর দিকে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মেয়র বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই ও রিহ্যাবের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি বাংলায় প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এফবিসিসিআই সভাপতি ও রিহ্যাব সভাপতিকে পৃথক চিঠি দেন।

হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৯৬/২০১৪ নম্বর রিট পিটিশনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী, সব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হাইকোর্টের আদেশটি ডিএনসিসি'র আওতাধীন এলাকায় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়।

DNCC-2

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের শুরুতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ডিএনসিসি'র আওতাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানের (দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত) নামফলক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইত্যাদি বাংলায় লেখা হয়নি, তা অবিলম্বে নিজ উদ্যোগে অপসারণ করে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া ব্যাপক মাইকিং, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ প্রেরণসহ ডিএনসিসি’র ওয়েবসাইট ও ফেসবুকেও গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

ফলে পরবর্তীতে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি নিজ উদ্যোগে যথাযথভাবে বাংলায় লিখে প্রতিস্থাপন করে। তবে হাইকোর্টের আদেশ ও গণবিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়ন না করার অপরাধে ডিএনসিসি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আর্থিক দণ্ডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামফলক, সাইনবোর্ড ইত্যাদি অপসারণ করে। কিন্তু বর্তমানে এমন অভিযান আর পরিচালনা করছে না ডিএনসিসি।

রাজধানীর মিরপুর, গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের নামফলক-সাইনবোর্ড বাংলায় লেখেনি।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি’র সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বনানী ও গুলশান এলাকায় অভিযানের পর অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছিল। তবে গুলশান, বনানীর বাইরে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের নামফলক-সাইনবোর্ড বাংলায় লেখা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডিএনসিসি’র সচিব রবীন্দ্র বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, অভিযান ও জরিমানা করার ফলে অনেকেই সচেতন হয়েছেন। অনেকেই নিজ উদ্যোগে সাইনবোর্ড-নামফলক-ব্যানার ইতোমধ্যে বাংলায় লিখিয়ে নিয়েছেন। আমরা অনেকটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। তবে এ বিষয়ে সবাইকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

রাজধানীর রামপুরার এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, একসময় সিটি কর্পোরেশনের অভিযানের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে তাদের দোকানের নামফলক-সাইনবোর্ড বাংলা করে নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযান পরিচালনা না করায়, বর্তমানে অনেকেই এখন ইংরেজি নামফলক রেখে দিয়েছেন। তাই বাংলা সাইনবোর্ড নিশ্চিতে আবারও অভিযান পরিচালনা করা উচিত।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, নামফলক-সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সর্বশেষ অভিযান পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ৫৪টি মামলার পাশাপাশি, ছয় লাখ ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এএস/এমএসএইচ/এমএআর/এমকেএইচ