হাসপাতালে খালেদার প্রথম ঈদ, যেসব খাবার পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১১ পিএম, ০৪ জুন ২০১৯

>> ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে পারবেন
>> খালেদার খাবার তৈরি হবে চিকিৎসকের পরামর্শে
>> একই খাবার পাবেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ঈদ করেছিলেন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে। তবে জীবনে এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ঈদ করবেন তিনি।

এ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়াকে দেয়া হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। এসবই ঢাকা কেন্দ্রীয় (কেরানীগঞ্জ) কারাগারের কারারক্ষীদের তৈরি। তবে অন্যান্য কয়েদির মতো নয়, তার খাবার তৈরি হবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডায়েট চার্ট অনুযায়ী।

খালেদার দুপুরের মেন্যুতে থাকবে ভাত অথবা পোলাও। তিনি এই দুইটির মধ্যে যেটি খেতে চান সেটি আগে থেকে কারাগারে জানিয়ে দিতে পারবেন। ভাত অথবা পোলাও যাই অর্ডার করুক না কেন এগুলোর সঙ্গে পাবেন ডিম, রুই মাছ, মাংস আর আলুর দম।

রাতে থাকছে পোলাও। সঙ্গে গরু অথবা খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন, পান-সুপারি এবং কোমল পানীয়।

এসব মেন্যুর বাইরে খালেদা জিয়া অন্য কোনো খাবার খেতে চাইলে কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারবেন। তবে সেই আইটেম তাকে দিতে বাধ্য নয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারা সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশেষ কোনো আইটেম তৈরির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি খালেদা। এছাড়াও তিনি চাইলে ঈদে পরিবারের সদস্যদের তৈরি খাবার খেতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই কারা কর্তৃপক্ষকে খাবারের বিষয়ে জানাতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম জাগো নিউজকে বলেন, একজন বন্দির মতো খালেদা জিয়া কারা জেল কোড অনুযায়ী খাবার পাবেন। ঈদের দিন অনুমতি সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। সেদিন তারা বেগম জিয়ার জন্য খাবারও নিয়ে আসতে পারবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেসব খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে খেতে দেবে।

এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা ঘোষণার দিন থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ছিলেন তিনি। সেখানে একটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করেন। তবে গত ২৫ মার্চ আর্থাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধির কারণে তাকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন।

কারাগারে প্রথম থেকেই আদালতের অনুমতি নিয়ে খালেদার সঙ্গে থাকছেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে খালেদার গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছেন ফাতেমা। কারাগারে খালেদার সঙ্গে একই সেলে থাকার পর এবার একই কেবিনে থাকছেন ফাতেমা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদার পাশাপাশি একই খাবার পাবেন তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। ফাতেমার পরিবারের লোকজনও তার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যেতে পারবেন।

খালেদা জিয়ার কারাবাস এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর তিনি মোট চারবার গ্রেফতার হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। তবে তখন তাকে বেশি দিন বন্দি থাকতে হয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে ৩৭২ দিন ছিলেন।

এর আগে এ ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে নেয়া হলে খালেদাকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ১ মাস ২ দিন পর তাকে ৮ নভেম্বর আবারও কারাগারে নেয়া হয়। সর্বশেষ মার্চে তাকে তৃতীয়দফা এখানে ভর্তি করা হয়, তবে কারাবন্দি খালেদার হাসপাতালে ঈদ উদযাপন এবারই প্রথম।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সর্বশেষ ২৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। তিনি মোটামুটি সুস্থ। এমনকি তিনি রোজা রাখছেন। খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে। নিয়মিত ইনসুলিন নিচ্ছেন।

এআর/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :