৭০ বছরের আ.লীগ, কেমন আছে শেখ হাসিনায়?

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ২০ জুন ২০১৯

২৩ জুন প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরে পা রাখছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগ’। বাংলাদেশ সৃষ্টির নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণমানুষের রাজনীতিতে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে। অংশীদারিত্বের রাজনীতিতে সমালোচনার জন্ম দিলেও আওয়ামী লীগই এখন বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগকে এখন কেমন দেখছেন? জানতে চাওয়া হয় বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের কাছে।

এ বিশ্লেষক বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিশেষ প্রেক্ষাপটে এবং আদর্শের ভিত্তিতে। আওয়ামী লীগ আদর্শচ্যুত হয়েছে আগের জায়গা থেকে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দলটি গণমানুষের দল, সেটাও তো অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে বারবার হোঁচট খেয়ে দলটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন যতটুকু শক্তিশালী, তা যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ঈর্ষণীয়।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। সে সময় আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমান একে অপরের পরিপূরক বনে যায়। যেমন পরিপূরক হয় স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধুর নাম।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সাল। ঘাতকরা ওইদিন শুধু জাতির জনকের জীবনের প্রদীপই নিভিয়ে দেয়নি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও গাদ্দারি করে। ’৭৫-এর পর সামরিক ফরমান আর ধর্মান্ধতার ছায়ায় রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে পাকিস্তানি ভাবধারায়। এমনই ক্রান্তিকালে দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত থাকার পর জীবনবাজি রেখে বাবার হাতে গড়া দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেই দলের সভাপতির দায়িত্ব পান। যদিও তিনি দেশে ফেরার আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ সময় দল ভেঙেছে কয়েকবার, দল ছেড়ে অন্য দলে ভিড়েছেন অনেকেই।

প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানবন্দরে নেমেই শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছু নেই।’ প্রায় চার দশকে নেতৃত্বে থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ হারিয়েছে অনেক কিছু, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যার ভয়ঙ্কর উদাহরণ।’

দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রের সিঁড়ি মাড়িয়ে শেখ হাসিনাই আজ আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি। দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশকেও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী এবং গণমুখী। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাই পেয়েছে তৃণমূলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু বাঙালির আবেগ ধারণ করেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা করেন। একটি দল জন্মের দুই দশকের মাথায় একটি দেশ প্রতিষ্ঠা দিতে পারা, এরই নাম আওয়ামী লীগ।

অধ্যাপক আরেফিন বলেন, আওয়ামী লীগে দীর্ঘকাল নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বিশেষ অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। দলের মধ্যেও তিনি নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়, যার বিকল্প নেই বললেই চলে।

অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশেষ পরিবর্তনও এসেছে। যদিও তারা (আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ) বলে থাকেন বাস্তবতার নিরিখেই এ পরিবর্তন। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের মতো দলের সঙ্গে আপস করে বাস্তবতা আর আদর্শের মধ্যে ভারসাম্য কতটুকু রক্ষা করা যায়, তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়! যে ‘আপস’ আমরা শেখ হাসিনার সময়ই দেখতে পেলাম!

এএসএস/এমএআর/এমকেএইচ