মা-বাবার সেবাসহ নানা শর্তে প্রবেশনের রায় ভাসছে প্রশংসায়

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২০

জমিজমা বিরোধ নিয়ে মারামারি, মাদক সেবন-বিক্রিসহ বিভিন্ন ধরনের লঘু অপরাধের মামলায় সম্প্রতি দেশের আদালতে প্রবেশন (পরীক্ষাকাল) দিয়ে কিছু রায় ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে অপরাধী বা আসামিকে শোধরানোর জন্য কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে মা-বাবার সেবা করা, সন্তানদের দেখাশোনা করা, ধর্মীয় আচার-অনুশাসন মেনে চলা, গাছ লাগানো, বাল্যবিয়ে ও মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো ইত্যাদি। মানবিক গঠনমূলক এমন শর্তে প্রবেশন দিয়ে ঘোষিত এসব রায় ভাসছে প্রশংসায়। আইনবিদরা বলছেন, আদালতের এমন উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। এতে সমাজে অপরাধে প্রবণতা কমবে। কল্যাণ আসবে পরিবার ও সমাজে।

কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, আইনে যা আছে বিচার সব সময় সে মোতাবেক করলেই হয় না। বিচারটা করতে হবে সুষ্ঠুভাবে সার্বিক দিক বিবেচনায়, যেন সমাজটা উপকৃত হয়। খুব গুরুতর অপরাধ ছাড়া কিছু মামলা আছে, যেগুলোয় শোধরানোর সুযোগ থাকে, সেগুলোতে অপরাধীকে শোধরানোর সুযোগ হিসেবে প্রবেশন দিলে, আদালতের দেয়া শর্ত যদি আসামি যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে একদিকে যেমন কারাগারের ওপর বন্দির চাপ কমবে, তেমনি অপরাধী নিজেকে শোধরাতে পারে। এটা ভীষণ ইতিবাচক এবং ব্যাপকভাবে এর প্রচলন হওয়া দরকার।

মায়ের সেবাসহ ৩ শর্তে সাজাপ্রাপ্ত মতি মাতবর থাকবেন পরিবারের সঙ্গে
প্রবেশন দিয়ে ঘোষিত রায়ের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে গত ৮ নভেম্বর দেয়া এক আদেশ। সেদিন ইয়াবা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মতি মাতবরকে বৃদ্ধ মায়ের সেবাযত্ন করাসহ তিন শর্তে প্রবেশনে পরিবারের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। যা দেশের ইতিহাসে প্রবেশন আইনে হাইকোর্টের দেয়া দ্বিতীয় রায়। আদালত দেড় বছরের জন্য প্রবেশন মঞ্জুর করেন মতি মাতবরের।

তাকে দেয়া শর্তগুলো হলো—৭৫ বছর বয়সী মায়ের যত্ন নিতে হবে; সন্তানের লেখাপড়া ও দেখাশোনা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন না।

দেড় বছরের জন্য তাকে একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে বলেও আদেশ দেন আদালত।

ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মতি মাতবরসহ দুজনের নামে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা করে পুলিশ। বিচার শেষে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুইজনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামির আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালের ১ জুলাই হাইকোর্টে রিভিশন করেন মতি। রিভিশন শুনানির জন্য ৯ জুলাই জামিন পান তিনি। যেহেতু মতির অপরাধে জড়িত হওয়ার আর কোনো রেকর্ড নেই, এটিই প্রথম অপরাধ; তাই প্রবেশন অধ্যাদেশ, ১৯৬০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী তিনি প্রবেশন চেয়ে রিভিশন করেন।

jagonews24

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আমাদের দেশে এই জুরিসপ্রুডেন্স খুব বেশি এগোয়নি। লঘু সাজায়ও একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। অথচ উন্নত বিশ্বে বড় সাজা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচার-আচরণ, গুণাবলী বিবেচনায় তাকে প্রবেশনে রাখা হয়। আসামি যেন নিজেকে শুধরে নিতে পারেন, সেই সুযোগটা তাকে দেয়া হয়।

মাদক মামলার আসামির ‘সাজা’ বৃক্ষরোপণ, বাবা-মায়ের সেবা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গত ১০ নভেম্বর হাসান আলী সরদার (২৫) নামে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রবেশন পান। সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে পাঁচ শর্তে বাড়িতে প্রবেশনে পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেন।

শর্তগুলো হলো—আসামি কোনো ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না; কোনো খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে মিশবেন না; প্রবেশনকালে ১০টি বৃক্ষরোপণ করতে হবে; মা-বাবার সেবা করতে হবে এবং সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে। প্রচারণায় কী কী করতে হবে তাও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

শর্তগুলো ভঙ্গ করলে তাকে আবারও কারাগারে যেতে হবে বলে আদেশ দেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামি শর্ত মানছেন কি-না তা তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় সাতক্ষীরা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশনাল অফিসারকে। তিন মাস পর পর সমাজসেবা প্রবেশনাল অফিসারকে আদালতে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেয়ার আদেশ দেয়া হয়।

নামাজ পড়া ও এতিমদের খাওয়ানোর শর্তে এক বছরের প্রবেশন
ফেনীতে মাদক মামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর এনায়েত পাটোয়ারী (৫৩) নামে আসামি এক বছরের জন্য প্রবেশন পান। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসাইন আসামির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণার পর আট শর্তে তাকে প্রবেশন দেন।

শর্তগুলো হচ্ছে- আসামি কখনো মাদক গ্রহণ, পরিবহন ও বিক্রি করবেন না; মাদকবিরোধী জনমত ও আন্দোলন এবং জনসচেতনতায় ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করবেন ও ভূমিকা রাখবেন; জীবিত মাকে দেখাশোনা ও পর্যাপ্ত ভরণ-পোষণ দেবেন; প্রবেশনকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর দুটি সিনেমা দেখবেন এবং দেশপ্রেমের বিষয় মানুষকে অনুপ্রাণিত করবেন; নিজ বাড়ির আঙিনায় তিনটি ফলজ গাছ ও তার গ্রামের মাঝে ৩০টি বনজ গাছ রোপণ করে প্রবেশন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানাবেন; ফেনী সদর উপজেলার যে কোনো একটি এতিমখানায় ২০ জন এতিমকে একদিনের খাবার সরবরাহ করে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন; আসামি সংশোধিত হওয়ার নিমিত্তে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন এবং উপরোক্ত বিষয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিমাসে একবার দেখা করে শর্তসমূহের অগ্রগতি জানাবেন।

jagonews24

প্রবেশন পাওয়া মতি মাতবর

এছাড়া প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে তার নির্দেশিত মতে আসামি নিজেকে পরিচালিত করার চেষ্টা করবেন বলে আদেশ দেন আদালত।

দুই আসামির সাজা ৫টি করে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ
গত ১২ নভেম্বর মাগুরা শহরের পারলা এলাকার বাহারুল মল্লিক ও আরিফ আহমেদ নামে দুজনকে মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করলেও তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে কিছু শর্তে এক বছরের প্রবেশন দেন আদালত। শর্তগুলো হলো- আসামিদ্বয় প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রত্যেকে বাড়িতে গিয়ে এক বছরের মধ্যে পাঁচটি করে ফলদ ও বনজ গাছ লাগাবেন এবং সেই গাছের পরিচর্যা করবেন। পাশাপাশি মন্দ লোকের সংস্পর্শ পরিত্যাগসহ সবসময় সদাচরণ করবেন। প্রবেশনকালে শর্তের কোনো প্রকার ব্যত্যয় হলে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বুলবুল ইসলাম।

মামলার বাদীকে বনজ ও ফলদ গাছ দেবেন আসামি, প্রচারণা চালাবেন বাল্যবিয়ে রোধে
জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় করা মামলায় একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রীসহ চারজনকে গত ২৪ নভেম্বর এক মাসের কারাদণ্ড দেন সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহারের আদালত। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবেশন আইনে কয়েকটি শর্তে আদালত তাদের বাড়িতে থেকে সংশোধনের সুযোগ দেন।

এসব শর্ত হলো—মাদকবিরোধী প্রচারণায় অংশগ্রহণ; আসামি কর্তৃক বাদীকে ১০টি বনজ ও ১০টি ফলদসহ মোট ২০টি গাছ প্রদান; বাল্যবিয়ে রোধে প্রচারণা, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং কারও সঙ্গে কোনো ঝগড়া না করা।

শর্ত যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি-না সে সংক্রান্ত রিপোর্ট তিন মাস পর প্রবেশন অফিসারকে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেন, এই শর্তের বিঘ্ন ঘটালে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হবে।

আসামিরা হলেন—সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের মহিষাডাঙ্গা গ্রামের গৌতম গাইন, মমতা গাইন, লতিকা মণ্ডল ও উর্মিলা গাইন।

jagonews24

জেলা জজ আদালত ফেনী

প্রবেশনের অন্যান্য রায়
এছাড়া প্রতিবেশীকে মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গত ২ জানুয়ারি আবদুস সামাদ নামে এক আসামিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে তাকে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে ১১ শর্তে বাড়িতে থাকার জন্য প্রবেশন দেয়া হয়

এর আগে রাজশাহীতে ২০১৮ সালে বিভিন্ন মামলায় কারাদণ্ডিত ১২ জনকে বাড়িতে থেকে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে প্রবেশন দেন আদালত। গত বছরের ১০ এপ্রিল সুনামগঞ্জে এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকেও কারাগারের বদলে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ দিয়ে প্রবেশন দেয়া হয়।

ব্যতিক্রমী এসব রায়ে আইনজীবীরা যা বলছেন
আইনসম্মত এসব রায়কে স্বাগত জানিয়ে আইনজীবীরা বলেন, এ ধরনের রায়ের মাধ্যমে আসামিদের জেলখানার দাগী অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে বাঁচার সুযোগ মিলছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রবেশনে পরিবারের সঙ্গে থেকে সংশোধনের সুযোগ, এটা সব দেশেই আছে। আমাদের দেশেও আছে। এখানে লঘুদণ্ডের ক্ষেত্রে আদালত যদি প্রবেশন আইনের ব্যবহার করেন, তাহলে একদিকে যেমন জেলখানার ওপর বন্দিদের চাপ কমবে, তেমনি দাগী অপরাধীদের কাছে গিয়ে চরিত্র আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা থেকেও আসামিরা রেহাই পাবেন। গুরুতর অপরাধ ছাড়া ছোট অপরাধের ক্ষেত্রে এবং কেউ প্রথম অপরাধ করেছে, এমন ক্ষেত্রে আসামিকে জেলে না রেখে শর্তসাপেক্ষে পরিবারের সঙ্গে রেখে সংশোধনের সুযোগ দেয়ার রায় খুবই ইতিবাচক।

এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সমাজে বা পরিবারে আসামিদেরও দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বটা যেন সে পালন করতে পারে, সেজন্য কতগুলো সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়ে বা শর্তসাপেক্ষে একটা সুযোগ দেয়া যায়। শর্তগুলো যদি সে যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে এটা সে জেলে না গিয়েও থাকতে পারে। এটা একদিক থেকে তার পরিবারের জন্যই সুযোগ।

তিনি বলেন, প্রবেশন হতে পারে, একটা হলো খুব সিরিয়াস অপরাধ, খুনের মামলা ছাড়া কিছু কিছু মামলা আছে যেগুলোয় শোধরানোর সুযোগ থাকে। রিপিটেশন (পুনরায় অপরাধ) যেন না করে সেজন্য দেয়া হয়। যেন সে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারে এবং বুঝতে পারে সে আবার যদি এই অপরাধটি করে তাহলে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে আরও কঠোর সাজা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, আদালতের এ ধরনের রায়কে স্বাগত জানাই। এমন রায়ের মাধ্যমে ছোট ছোট অপরাধীরা সংশোধিত হওয়ার একটি উপায় পায়। তাতে আসামিরা পরিবারের সংস্পর্শে এসে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে জাগো নিউজকে বলেন, প্রবেশনের আইনটি অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশে আছে। প্রচার-প্রচারণা না থাকায় অনেকেই জানতেন না। তবে যারা আইন নিয়ে কাজ করেন তারা অবগত। প্রবেশনটি হচ্ছে যারা এর আগে কখনো কোনো অপরাধ করেননি, যারা স্বভাবগতভাবে অপরাধী নন তাদের সংশোধনের সুযোগ দেয়া। ছোট অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছরের নিচে সাজা হয়ে থাকে। খুন বা ধর্ষণের মতো অন্যান্য বড় অপরাধ তারা করেননি। দেখা যায় যে বিচার শুরু হলে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী প্রমাণ জুড়লে শাস্তি দেয়া যায়, কিন্তু প্রবেশন আইন অনুযায়ী আদালতের একটা অপশন আছে, কোনো আসামিকে যদি শর্ত দিয়ে তাকে আপাতত মুক্ত করে দেয়া যায়, সাজার মেয়াদ থেকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে, হয়তো বলা হয় যে—মা-বাবার সেবা, সন্তানকে মানুষ করতে হবে এবং শর্ত ভঙ্গ করলে আপনাকে আবার শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ধরনের গঠনমূলক রায়কে স্বাগত জানাই।

ব্যতিক্রমী আইনটিতে যা আছে
প্রয়োগের নজির তেমন না থাকলেও প্রবেশন অর্ডিন্যান্স আগে থেকেই আছে। দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০-এর ৪ ধারায় বলা আছে, যারা এর আগে কখনো দণ্ড পেয়েছে বলে প্রমাণিত নয় কিংবা দুই বছরের বেশি মেয়াদে কখনো দণ্ড পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে প্রবেশন ধারাটি প্রযোজ্য হতে পারে। আসামির বয়স, চরিত্র, পূর্ব ইতিহাস কিংবা শারীরিক অথবা মানসিক অবস্থা এবং অপরাধের ধরন বা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এই ধারা প্রয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদে কারাগারে না থেকে মুক্তভাবেই বিচরণ করতে পারবেন আসামি। তবে এই মেয়াদের মধ্যে তিনি আর কোনো অপরাধ করতে পারবেন না এবং তাকে সদাচরণ করতে হবে। এছাড়া বিচারক তাকে এই মেয়াদের জন্য বিভিন্ন শর্ত আরোপ করতে পারেন। শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে ফের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

এফএইচ/এইচএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]