বিএনপিতে প্রতিযোগিতা আছে, কোন্দল নেই

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সদস্য। সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আহ্বায়ক ঢাকা কলেজ ছাত্রদল। সাবেক সভাপতি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল। সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। ঠাকুরগাঁওয়ের এ রাজনীতিক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। সেজন্য নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁ-৩ (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) আসনে চালিয়ে যাচ্ছেন সাংগঠনিক প্রচারণাও।

২০২৩ সালের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কামাল আনোয়ার তার নির্বাচনী আসন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাগো নিউজকে। পাশাপাশি বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা, বিগত দুই জাতীয় নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।

জাগো নিউজ: রাজনীতিতে কেন এলেন? শুরুটা কেমন ছিল?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের সামসাময়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, আরও সময়োপযোগী এবং বৈশ্বিক সারিতে দেখার স্বপ্ন দেখি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম দরকার। তাই রাজনীতিতে আসা।

রাজনীতির হাতেখড়ি ১৯৯১ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ সবুজ চত্বরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। এইচএসসির প্রথম বর্ষেই ছাত্রদলের আদর্শকে বিলিয়ে দিতে কলেজের প্রায় সব ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে পরিচিত হই। কলেজ চত্বরের প্রায় প্রতিটি প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হই। ছাত্রছাত্রীদের অধিকারের ব্যাপারে কথা বলা ছিল নিত্যদিনের কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে পাঠাগার সম্পাদক হই।

jagonews24

জাগো নিউজ: আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনুপ্রেরণা এবং চ্যালেঞ্জ কী?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনুপ্রেরণা ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি’ জিয়াউর রহমান, ‘দেশনেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া, ‘দেশনায়ক’ তারেক রহমান এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চ্যালেঞ্জ হলো—প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে লক্ষ্য পৌঁছানো।

জাগো নিউজ: ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি, সাংগঠনিকভাবে কতটুকু শক্ত অবস্থানে আছে দল? সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করতে আপনার ভূমিকা কী?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: দেশে ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও বিএনপি সবচেয়ে সুসংগঠিত। প্রিয় নেতা তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সারাদেশে ওয়ার্ড, উপজেলা, পৌর, জেলা, এরপর কেন্দ্রীয় কমিটি—প্রতিনিয়ত গঠন-পুনর্গঠন হচ্ছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি যুবদল ফরিদপুর বিভাগীয় টিমে কাজ করছি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে গিয়ে সবাইকে নিয়ে মিটিং করে ইউনিটগুলো গঠন-পুনর্গঠন করছি।

জাগো নিউজ: দলীয় কোন্দল নিয়ে নানান আলোচনা আছে। বিএনপির আজকের এ অবস্থার জন্য কোন্দলকেও দায়ী করা হয়, কী বলবেন?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: বিএনপিতে প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু কোন্দল নেই। আমরা সবাই বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থাশীল।

জাগো নিউজ: দল হিসেবে বিএনপি যতটা বৃহৎ, আন্দোলন-সংগ্রামে এখন তার প্রতিফলন দেখা যায় না, কেন?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: আসলে সারাবিশ্বের সবকিছুই যেমন পরিবর্তন হয়েছে তেমনি চিরাচরিত আন্দোলন-সংগ্রামের কৌশলও পরিবর্তন হয়েছে। বিএনপি প্রায় একযুগ ধরে দেশের জনগণের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছে। কিন্তু বিএনপি আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি। ইনশাল্লাহ বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

জাগো নিউজ: বিএনপিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন নেই বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে এবং কার্যালয়ে তালা দিতেও দেখা যায়। আসলেই কি ত্যাগীরা অবমূল্যায়নের শিকার?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: ত্যাগ ছাড়া রাজনীতিতে রাজনৈতিক পথ পাড়ি দেওয়া যায় না। বিশ্বাস করি এ পর্যন্ত যারা নেতা হয়েছেন, তারা সবাই ত্যাগী। এখন পর্যন্ত রাজপথে যারাই আছেন, তারা সবাই কম-বেশি ত্যাগী। রাজনৈতিক আঁকা-বাঁকা পথে কেউ আগে কেউ পরে পথ পাড়ি দিয়ে থাকেন।

jagonews24

জাগো নিউজ: শোনা যাচ্ছে, নেতৃত্বে তারুণ্যকে সামনে আনার কথা ভাবছে বিএনপি। এর ফল কেমন হতে পারে?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: তরুণ নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই। ইনশাল্লাহ এ নেতৃত্বেই আওয়ামী দুঃশাসনের পতন হবে।

জাগো নিউজ: ২০১৪ সালের দশম নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়েও ভরাডুবি হয়েছে। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটুকু প্রস্তুত?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন হয়েছে প্রহসনমূলক। তখন জনগণের ভোটের প্রতিফলন হয়নি। দ্বাদশ নির্বাচন যদি ফ্রি-ফেয়ার (অবাধ ও সুষ্ঠু) হয়, তাহলে জনগণের রায় বিএনপির পক্ষে হবে ইনশাল্লাহ। বিএনপি আন্দোলন এবং নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুত।

জাগো নিউজ: মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী আসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

কামাল আনোয়ার আহাম্মদ: ঠাকুরগাঁ-৩ আসনে আমি একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। ওই আসনের জনগণ সবসময় অবহেলিত। স্বাধীনতার পর থেকে যারাই এ আসনে এমপি হয়েছেন, তারা কেউই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না, ফলে বরাবরই বাজেটের বাইরে তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি তারা। আমি দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির পথ পাড়ি দিয়ে এখন যুবদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আছি।

বিএনপির মনোনয়নে যদি জনগণ আমার পক্ষে রায় দেন, তাহলে সেখানে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইপিজেড, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান, কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেএইচ/এইচএ/এএসএম

আসলে সারাবিশ্বের সবকিছুই যেমন পরিবর্তন হয়েছে তেমনি চিরাচরিত আন্দোলন-সংগ্রামের কৌশলও পরিবর্তন হয়েছে। বিএনপি প্রায় একযুগ ধরে দেশের জনগণের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছে। কিন্তু বিএনপি আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি। ইনশাল্লাহ বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পৌঁছাবে

ত্যাগ ছাড়া রাজনীতিতে রাজনৈতিক পথ পাড়ি দেওয়া যায় না। বিশ্বাস করি এ পর্যন্ত যারা নেতা হয়েছেন, তারা সবাই ত্যাগী। এখন পর্যন্ত রাজপথে যারাই আছেন, তারা সবাই কম-বেশি ত্যাগী। রাজনৈতিক আঁকা-বাঁকা পথে কেউ আগে কেউ পরে পথ পাড়ি দিয়ে থাকেন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]