ফারইস্ট ইউনিভার্সিটি হবে আধুনিক শিক্ষার সূতিকাগার


প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ১৯ মার্চ ২০১৬

শেখ কবির হোসেন বহুগুণে গুণান্বিত একজন সাদা মনের মানুষ। ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টুঙ্গিপাড়ার সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন। তিনিও একজন সমাজসেবক ছিলেন। সমাজ সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক খান সাহেব উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি Bangladesh Legislative Assembly (MLA) মেম্বার ছিলেন। খান সাহেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জিটি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট, জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নানা রকম সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন শেখ কবির ।

টুঙ্গিপাড়া শেখ পরিবারের প্রবীণতম সদস্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম। আন্তরিক এ মানুষটি কর্মময় জীবনে শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষাসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিটা ক্ষেত্রেই রেখেছেন সফলতার স্বাক্ষর। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সবার পরিচিত মুখ শেখ কবির হোসেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি পেশাজীবন শুরু করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে। এরপর সোনালী ব্যাংক পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে চাকরি ত্যাগ করে স্বাধীন পেশা হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন এবং একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন সেক্টরে সুনাম অর্জন করেন। তিনি একজন সিআইপি (Commercial Important Person)।

১৯৭৫ সাল থেকে তিনি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেবামূলক সংগঠন লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল-এর সঙ্গে জড়িত হন। জেলা গভর্নর, কাউন্সিল চেয়ারপারসন এবং পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর (২০০৫-২০০৭) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল-এর সর্বোচ্চ পদক Ambassador of Goodwill খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।

এছাড়া সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি- (১) বাংলা ইয়ুথ ফোরাম কর্তৃক  ‘শের-এ-বাংলা গোল্ড মেডেল-২০০০’ এবং (২) দেশবন্ধু সি.আর. দাস রিসার্চ কাউন্সিল অন ‘মানব সেবা’ কর্তৃক ‘দেশ বন্ধু গোল্ড মেডেল’ প্রাপ্ত হয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়ায় তিনি বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেন খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন প্রাইমারি স্কুল, যা পরে হাইস্কুল এবং কলেজ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। শিক্ষার মান ও ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি গোপালগঞ্জ জেলায় অন্যতম স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার একান্ত প্রচেষ্টায় চিকিৎসা খাতে বহুল পরিচিত হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি সুনামের সঙ্গে সোনারবাংলা ইনসুরেন্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-এর একজন পরিচালক।

এছাড়াও শিক্ষানুরাগী গুণী এ মানুষটি ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি উচ্চশিক্ষা প্রসারে বেসরকারি উদ্যোগকে আরো সম্প্রসারিত এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বসেছিলেন তিনি। তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন জসীম উদ্দীন।

kabir

জাগো নিউজ : ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কেমন চলছে?
শেখ কবির হোসেন : দেশের উচ্চশিক্ষা প্রসারে সময়োপযোগী শিক্ষাদানের মহান ব্রত নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে ২০১৪ সালে সরকারের সকল নিয়ম পালন করে বনানীস্থ ’সি’ ব্লকের ১১নং সড়কের ৫০নং ভবনে কমার্শিয়ার প্লটে ভাড়ায় ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্বল্প সময়েই দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে সকলের আস্থা অর্জন করতে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সক্ষম হয়েছে।

জাগো নিউজ : এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত এবং কি কি বিষয় পড়ানো হয়?
শেখ কবির হোসেন : বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থী কলা, ব্যবসায় প্রসাশন, আইন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ের উপর পড়াশোনা করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি অনুষদের অধীনে ১৭টি বিষয়ে শিক্ষাদান করে আসছে।

ক) কলা অনুষদ : ১। বি.এ. (অনার্স) ইন ইংলিশ ২। এম.এ. ইন ইংলিশ ৩। বি.এ.(অনার্স) ইন ইসলামিক স্টাডিজ ৪। এম.এ. ইন ইসলামিক স্টাডিজ। আইন অনুষদ :  ১। ব্যাচেলার অব ল’ (অনার্স)  ২। মাস্টার্স অব ল’।
খ) ব্যবসায় অনুষদ : ১। বিবিএ ২। এমবিএ ৩। ইএমবিএ ৪। এমবিএ ইন প্রজেক্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভেল্যুয়েশন
গ) বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ : ১। বি.এস.সি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ২। বি.এস.সি ইন ইইই ৩। বি.এস.সি ইন সিএসই ৪। বি.এস.সি ইন সিভিল ৫। ব্যাচেলার অব আর্কিটেক্সার ৬। এম.এস.সি ইন ক্যামিস্ট্রি এবং ৭। এম.এস.সি ইন সয়েল ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট।

জাগো নিউজ : নিজস্ব ক্যাম্পাস নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা ?
শেখ কবির হোসেন : বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই আমার চিন্তায় ছিল যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করবো। কারণ বলতে পারেন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গুলোর একটা দুর্নাম আছে, কেউ সহজে স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে পারে না। এটা নিয়ে আপনারাও অনেক লেখালেখি করেছেন। আমরা শুরু থেকেই এটা নিয়ে চেষ্টা করেছি এবং সফলও হয়েছি। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মাত্র ২ বছরের মধ্যে ঢাকার উত্তরার ১৬/আই সেক্টরে ৩.৩২ বিঘা জমি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছে।

জাগো নিউজ : মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ইউনিভার্সিটিতে কি ধরনের সুযোগ সুবিধা আছে?
শেখ কবির হোসেন : শুরু থেকেই মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাদের জন্য ১০-১০০% পর্যন্ত ওয়েভারের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও আমরা মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিওটির পক্ষ থেকে বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। এর বাইরেও ৫% গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অধ্যয়নের ব্যবস্থা আমরা করেছি।

জাগো নিউজ : ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো কি মনে হয়?
শেখ কবির হোসেন : ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার বাইরে প্রযুক্তিগত জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সুযোগ করে দিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কোনো ছাত্রকে শিক্ষাজীবন শেষে যাতে বেকারত্বের অভিশাপ পোহাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সচেতন। আমার মনে হয় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা সঠিকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমরা প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে যেতে সক্ষম হবো।

kabir

জাগো নিউজ : নিজস্ব ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক-শিক্ষিকা আছে কিনা?
শেখ কবির হোসেন : স্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা করেছি। তেমনিভাবে সঠিক শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষক নিয়োগের বেলায় আমরা অত্যান্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছি। আমাদের নিয়োগ কমিটির ম্যাধ্যমে ইউজিসির যথাযথ নিয়ম মেনে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। আর এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় আমাদের ৯৫% এর বেশি স্থায়ী শিক্ষক যারা সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণার সঙ্গে জড়িত আছে।

জাগো নিউজ : দেশে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও আপনি কেন ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন?
শেখ কবির হোসেন : দেখুন সমাজের মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করতে আমার একধরনের তৃপ্তি কাজ করে। বলতে পারেন এটা আমার নেশা। আমি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি, হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি, কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। এজন্য আমার মনে একটা অপূর্ণতা ছিল একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে।

আমি সবসময় ভাবতাম আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আবার যেগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কতটাই বা মানসম্মত শিক্ষাদান করতে পারছে? প্রতি বছর অনেক ছাত্র-ছাত্রী সুযোগের অভাবে দেশের বাইরে পড়া-লেখা করার জন্য চলে যায়। এসব চিন্তাভাবনা থেকেই মূলত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ। আমি ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে আধুনিক শিক্ষার সূতিকাগার হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে ভবিষ্যতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা দেশ-বিদেশে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে সুনাম অর্জন করতে পারে।  

আমি মনে করি দেশে উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার জন্য সরকারকে উন্নত বিশ্বের মানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নীতিমালা প্রনয়ণ করতে হবে।

জাগো নিউজ : ধন্যবাদ আপনাকে।
শেখ কবির হোসেন : জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।

জেইউ/এসএইচএস/এআরএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :