দোকানদার ছাড়াই চলছে দোকান


প্রকাশিত: ০২:৪২ এএম, ২৯ মার্চ ২০১৬

দোকানের নাম ‘ভিন্ন রকম দোকান’। তবে এই দোকানে কোন দোকানদার নেই। এই দোকান গত দু`বছর যাবৎ দোকানদার ছাড়ায় কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। প্রতিটি পণ্যের গায়ে মূল্য সংযোজন করা রয়েছে। দোকান থেকে পছন্দের জিনিসপত্র ক্রয় করে দাম পরিশোধ করার জন্য রয়েছে একটি ক্যাশ বক্স।  

শুনে অবাক হচ্ছেন। এ রকম আজগুবি ব্যাপার কি এই দেশে সম্ভব?  হ্যাঁ, এমনটিই সম্ভব করেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের হামিদুর রহমান শিপন। তিনি পেশায় একজন হকার। কখনো বাসে, ট্রেনে চেপে আবার কখনো ফুটপাতে বসে গামছা, রুমাল, লুঙ্গি বিক্রি করে বেড়ান।

Shop

কেন এই পদ্ধতি ? জানতে চাইলে হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমি পেশায় মূলত হকার। শুধু দোকানে বসে থাকলে আমার পরিবারের খরচ জোগাতে পারব না। তাই ফুটপাতে রুমাল বিক্রি করে বেড়ায়। আর দোকান দিয়েছি কিন্তু সেই দোকানে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। কেন না দৈনিক সংসার চালানোর দোকান থেকে খরচ নাও উঠে আসতে পারে। তাই দোকান খুলে রেখে আমি ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে রুমাল বিক্রি করি। ক্রেতারা দোকানে এসে জিনিস পছন্দ হলে সেটা মূল্য তালিকা দেখে ক্রয় করে টাকা বাক্সে ফেলে রেখে চলে যান।

খোলা দোকানে চুরি হয় না? জানতে চাইলে হামিদুর রহমান জানান, আমি মানুষকে বিশ্বাস করি আর বিশ্বাসের উপর দোকান করেছি। দুই বছর ধরে এভাবেই দোকান চলছে। দৈনিক ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলেও সত্য দোকানের জিনিসপত্র কোনো দিন চুরি হয়নি। যেদিন যে জিনিসগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলোর টাকা তিনি বাক্সে পেয়েছেন। কোনদিনও হিসাবে টাকা কম পড়েনি।

Shop

তিনি আরও জানান, `আল্লাহর রহমতে আমার দোকান থেকে কেউ কোনো দিন কিছু চুরি করেনি কিংবা টাকা কম পাইনি। ব্যবসাও খারাপ না। মানুষজন নিজের ইচ্ছেমতো ক্রয় করে টাকা পরিশোধ করে যান। এভাবেই বেশ চলে যাচ্ছে। রাতে এসে টাকা নিয়ে দোকান বন্ধ করি এবং সকালে এসে খুলে মাল রেখে চলে যায়।  

এই দোকানে আসা ক্রেতা বাবু জানান, আমি এই দোকানের কথা শুনেছি তাই দেখতে আসলাম। তবে মনে হচ্ছে কিছু একটা কিনব। আমার জীবনে দেখা এটা একটা ব্যতিক্রমধর্মী দোকান। তবে দোকানদার মানুষকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করে তাই তার বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়া উচিৎ বলে মনে করি।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।