ধানে চিটা হওয়ায় দিশেহারা নওগাঁর কৃষক


প্রকাশিত: ০৪:৫৯ এএম, ১০ এপ্রিল ২০১৬

নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় শত শত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান চিটা হয়ে গেছে। কোনো কিটনাশক দিয়েও ধান চিটা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে কৃষকরা দিশেহার হয়ে পড়েছেন।

অধিকাংশ কৃষকরা তাদের খরচের টাকাও ঘরে তুলতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তাই আছেন। কৃষকদের অভিযোগ, ধানের চিটা দেখা দেয়ার পর কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা এই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ও আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর অধিকাংশ ধানই জিরাশাইল। ধানও ভালো হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ১০/১২ দিন আগে রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা, আকনা, বাঁশবাড়ীয়া, দেউলিয়া, খাসগড়, নলদিঘী, গোনা, বহলা, পিরপাড়া এবং আত্রাই উপজেলার নওদুল, বাঁকা, নইদিঘী, জামগ্রাম, তিলাবাদুড়ী, জালুপোঁয়াতা, কয়সা, চাপড়া, লহিপুরসহ আরও ১২/১৫টি গ্রামের মাঠে ধানের শীষের গোড়ায় কাল দাগ দেখা দেয়। এ ঘটনায় কৃষকরা প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কিটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে জমিতে কিটনাশক স্প্রে করেও ধান রক্ষা করতে পারেনি। এরপর কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সহযোগিতা পাননি কৃষকরা। এতে শত শত বিঘা জমির ধান চিটা হয়ে গেছে।

বড়গাছা গ্রামের বিশ্বজিত কুমার প্রা. জানান, তাদের ৫০ বিঘার মধ্যে প্রথমে হঠাৎ করে সপ্তাহ খানেক আগে ৪/৫ বিঘা জমিতে ধান গাছের শীষের গোড়ায় কাল দাগ দেখা দেয়। এরপর বাজার থেকে বিভিন্ন কিটনাশক দেয়া হলেও কোনো লাভ হয়নি। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মাঠে এসে কৃষকদের কোনো পরামর্শ দেননি। এতে দ্রুত এই রোগ ছড়িয়ে যায়। বর্তমানে তাদের ১৫/১৬ বিঘা জমির অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

আকনা গ্রামের সাজেদুর রহমান জানান, সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। বেশির ভাগ ধানই চিটা হয়ে গেছে। এতে তাদের খরচের কোনো টাকা ঘরে উঠবে না। আগামীতে পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তাই আছেন।

Naogaon-Paddy

জামগ্রাম গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের গ্রামের মাঠেও ধানের জমিতে ব্যাপক চিটা দেখা দিয়েছে। অজপাড়া গ্রাম হওয়ায় কোনো কৃষি কর্মকর্তা আসেন না এলাকায়।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, গত বছর বন্যা হওয়ায় মাটিতে পলি পড়ে। মাটি উর্বর ছিল। যে কৃষকরা জমিতে বেশি সার দিয়েছেন তাদের জমিতে ধান চিটা হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পর কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে এ ঘটনায় কোনো রিপোর্ট করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এই কৃষিবিদ।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন জানান, গত দেড় সপ্তাহ আগে এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আত্রাই উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে মনোয়ারী এলাকায় ২শ’ হেক্টর জমিতে ধানের চিটা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের ব্যাপক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে। এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন।

মনোয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ধান চিটা হওয়ায় এলাকায় অধিকাংশ কৃষক তাদের ধান ও খরচের টাকা ঘরে তুলতে পারবে না। কৃষকরা কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় এই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁর প্রধান ফসল ধান। ধান চাষে কৃষকদের কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে। এ ব্যাপারে ওই দুই উপজেলার কৃষি অফিস বিষয়টি তাকে জানায় নি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আব্বাস আলী/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।