বৈশাখকে রাঙাতে ব্যস্ত রূপগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা


প্রকাশিত: ০৩:১০ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৬

বৈশাখকে বরণ করতে বৈশাখী মেলায় নিজেদের মাটির তৈরি জিনিসপত্রের পসরা সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রূপগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা মৃশিল্পীরা। মেলার চাহিদা মেটাতে মৃৎশিল্পীরা তাদের মাটির তৈরি জিনিসপত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে পরিবারের সকলকে নিয়ে দিন-রাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল দক্ষিণ পালপাড়া গিয়ে দেখা যায়, বৈশাখী মেলায় নিজেদের হাতের তৈরি মাটির বিভিন্ন জিনিসপত্রের পসরা সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাল পাড়ার ২৬টি পরিবার। কেউ বা মাটি দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের হাড়ি পাতিল তৈরির কাজে ব্যস্ত , কেউবা বিভিন্ন ধরনের পশু, পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতি তৈরিতে ব্যস্ত, কেউবা তুলি নিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে রংরের কাজে ব্যস্ত , কেউ আবার কাঁচা মাটির খেলনাগুলো রোদে শুকাতে ব্যস্ত। এভাবে বৈশাখী মেলাকে ঘিরে পরিবারের স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে এ কাজে। অনেকে অন্য কাজ পেলে মৌসুমের এ কাজে তাদের বাবা মাকে সাহায্য করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় পাল পাড়ার উপেন্দ্র বাবুর সঙ্গে। দরজায় কড়া নাড়তেই উপেন্দ্র বাবু পাল বলেন, বাপু কথা বলার সময় নেই। বৈশাখ এসেছে কাজ করতে হবে। পাল পাড়ার সবাই এখন ব্যস্ত দুটো খেলনা বেশি তৈরি করতে। দেখে যান, এখানে কেউ খাল থেকে কাদা তুলছেন, কেউ চাকতিতে কাদা বসিয়ে হাড়ি পাতিল তৈরি করছেন। পাশাপাশি এসব খেলনা পাতিল ডিজাইন করা, রং করা, রোদে শুকানো, আগুনে পোড়ানোসহ ইত্যাদি কাজে সবাই এখন ব্যস্ত।  

এ এলাকার উপেন্দ্র পাল, বজেকৃষ্ণপাল, চিওরঞ্জন পাল, গুরুচরণ পাল, শেফালী পাল, কল্যানী রানী পাল, কাজলী রানী পালের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় কাদামাটি হয়ে উঠে এক শিল্প । এবারের বৈশাখে বিভিন্ন মেলায় এ মাটির দ্রব্যাদি সরবরাহ করবেন তারা। এছাড়া এলাকার মৃিশল্পীদের উৎপাদিত নানা ধরনের মাটির পণ্য ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করেন তারা।

এলাকার মৃৎশিল্পী উপেন্দ্র পাল জানান, আমরা এ বছর হরিণ, গরু, ঘোড়া, হাতি, খরগোশ, উট পাখি, হাঁস, বক, টিয়া, গণ্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী তৈরি করেছি।

rupgonj

একই এলাকার বজেকৃষ্ণ পাল বলেন, আমরা এ বছর লোহার কড়াই, ডালপিড়া, ডখি, স্বর্ণের পাতিল, ঢুলা, মগ, কারি বল, জগ, লবণ বাটি, শানকি (বাসন), কাপ-পিরিচ ও তরকারির বাটি তৈরি করেছি। এছাড়া নতুন ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক মানের ফিরনি সেট।

এ বছর নতুনভাবে বাজারে থাকবে মাটির সাধারণ ও ফলের টপ। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে আসন্ন বৈশাখে নতুন ডিজাইনে কয়েলদানি, মোমদানি, ঘটি, ফুলদানি ক্রেতাদের আলাদাভাবে আকৃষ্ট করবে। ফিরনি সেট ছাড়াও আলাদা বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়েছে মাটির প্লেট, গ্লাস, জগ, মগ, কাপ-পিরিচ, কারিবল ও তরকারির বাটি। রাসায়নিক কোনো পদার্থ ছাড়াই তৈরি করা হয় মাটির এসব পণ্য। পণ্যের রং করা হয় প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া গাছের কষসহ বিভিন্ন জাতের রংয়ে।

পাল পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যরা রাত-দিন পরিশ্রম করেও কাজ শেষ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে।

বজেকৃষ্ণ পাল জানান, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রেখে সময়োপযোগী করে তুলতে পেরেছি। তাই তাদের পণ্য এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন দেশে সুনাম রয়েছে। মাটির পণ্যে যেভাবে নতুনত্ব আসে এক সময় পুতুল, কলস, বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলনা, রসের হাঁড়িসহ গ্রাম-বাংলার ঘরে ব্যবহার উপযোগী নানা ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরি হতো। পর্যায় ক্রমে একই কাঁচামালে তৈরি হতে থাকে মোমদানি, অ্যাশট্রে ফুলদানি ইত্যাদি।

২০০১ সাল থেকে চিত্ত রঞ্জন পাল নতুন করে তৈরি শুরু করেন ডিনার সেট, মোমদানি, অ্যাশট্রে, ফুলদানি, কয়েলদানি, টি সেট, ল্যাম্পসেট, মাটির মালা, ব্রেসলেট, কানের দুলসহ আকর্ষণীয় মাটির শোপিস।

এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।