বাংলাদেশ সাফের আয়োজক হতে পারলে খেলা তিন ভেন্যুতে
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনেরতম আসর হওয়ার কথা ছিল গত বছর। তা পিছিয়ে আনা হয়েছে ২০২৬-এ। যদিও এখনো ভেন্যু ঠিক হয়নি। এমনকি ঠিক কোনো মাসে হবে তাও চূড়ান্ত না। স্বাগতিক হওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোর কাছে থেকে আবেদন নেওয়াও শুরু হয়নি। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন খুব করে চাইছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ফুটবল প্রতিযোগিতা ৮ বছর পর আবার আয়োজন করতে। ২০১৮ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশ সাফ আয়োজন করেছিল। পরের দুটি আসর বসেছিল মালদ্বীপ ও ভারতে।
বাংলাদেশ যদি সাফের আয়োজক হতে পারে তাহলে বাফুফের পরিকল্পনা তিনটি ভেন্যুতে খেলা চালানোর। সরকার থেকে এরই মধ্যে বাফুফেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে দিয়েছে ব্যবহারের জন্য। সোমবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাফুফে পরিদর্শন করেছেন। সেখানেও তিনি বলেছেন, এই দুটি স্টেডিয়াম ফুটবলের জন্য শর্ত সাপেক্ষে দিয়ে দেওয়ার কথা।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সাফ আয়োজনে তাদের আগ্রহের কথা, ‘সাফ নিয়ে আমরা প্রস্তুত। সাফ খুব সম্ভবত বাংলাদেশেই হবে। আমরা উইন্ডো নিয়েও এখন একটু বিবেচনা করছি। তবে যদি সাফ আয়োজন করতে চাই, তাহলে আমাদের নিজস্ব ইচ্ছা হলো পুরো দেশে খেলাটা ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাইবো কমপক্ষে তিনটা ভেন্যু যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি। ঢাকা ও বাইরের দুটি ভেন্যু নিয়ে আমরা ভাবছি। আমি মনে করি, সাফটা তাহলে জাঁকজমক হবে এবং আয়োজক হিসেবে দেখাতে পারবো যে, আমরা একটা ভালো টুর্নামেন্ট হোস্ট করতে পারি। এটা নিয়ে আলোচনা চলমান। যখন এ বিষয়ে আরো অগ্রগতি হবে অবশ্যই আপনাদের জানিয়ে দেবো।’
মার্চের শেষ দিনে বাংলাদেশের এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। তার আগে বাংলাদেশ কোনো দেশের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলতে পারবে কিনা তা নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি, ‘আমাদের মার্চ উইন্ডো আছে। সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে আমরা কার কার সাথে খেলতে পারি এবং সেই সাথে মালদ্বীপ থেকে যে আমন্ত্রণ এসেছে, খুব কিছু দিনের মধ্যেই তাদেরকে রিপ্লাই দিতে হবে।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং তার আগে ফিফা ফ্রেন্ডলির বিষয়গুলো নিয়ে বাফুফে সভাপতি আরো বলেছেন, ‘আমরা মার্চ উইন্ডো নিয়ে নানা চেষ্টা করছি। একটা বা দুইটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে চাই। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে আমাদের কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষ হবে। ফ্রেন্ডলির জন্য এখনও আমরা টিম চূড়ান্ত করি নাই। হোম বা অ্যাওয়ে খেলব কিনা তাও আমরা চূড়ান্ত করি নাই।’
সাফ আয়োজনে ভারত আরেকটা ইস্যু হতে পারে। এমনিতেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে একটা টানাপোড়েন চলছে। এ বছর বাংলাদেশ সাফ আয়োজন করলে ভারতের না আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বাফুফে সভাপতিও মনে করেন, এটা একটা বড় প্রশ্ন। তবে তিনি মনে করেন না যে, ফুটবলে এমন কিছু হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না ফুটবলে অন্য কোনো বিবেচনা আমরা কখনো রাখি। এই তো গত নভেম্বর মাসেও আমাদের প্রতিবেশী দেশটি ঢাকায় খেলে গিয়েছে। গত মার্চে আমরা গিয়েছিলাম খেলতে। আমি মনে করি ধারণাপ্রসূত কোনো প্রশ্ন ফুটবলের ক্ষেত্রে সমীচীন হবে না। আমি বিশ্বাস করি, ফুটবল ফুটবলের মতোই চলে। আর অল ফুটবল প্লেয়ার্স ফুটবলের সাথে খেলবে।’
তাবিথ আউয়ালের কাছে প্রশ্ন ছিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাকে নিয়েও। আগামী মার্চেই শেষ হয়ে যাবে ক্যাবরেরার চুক্তির মেয়াদ। এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতির বক্তব্য, ‘সকল সিদ্ধান্ত বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে হয়। আমরা ন্যাশনাল টিমস কমিটির মিটিং এখনো করতে পারিনি। সভা করলেই কোচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তারপর আপনারাও জেনে যাবেন।’
আরআই/এমএমআর