বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পেস বোলিং অলরাউন্ডার চান হাবিবুল বাশার

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৪৫ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২৬

মেহেদী হাসান মিরাজ তো অধিনায়কই। আইনি জটিলতা ও ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে ভবিষ্যতে আবার দলে ফিরতে পারেন সাকিব আল হাসানও। তখন বাংলাদেশ দলে থাকবেন দুইজন অলরাউন্ডার। তবে দুজনই মূলত ব্যাটসম্যান কাম স্পিনার, একজন ডানহাতি, অন্যজন বাঁহাতি; পার্থক্য এটুকুই। কিন্তু আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, সেখানে কি তাহলে বাংলাদেশ দলে কোনো পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকবে না?

ঘরের মাঠ শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিব ইনজুরিতে ছিটকে পড়লেও দলে রাখা হয়েছে চারজন খাঁটি পেসার। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান। পরে যদি হাসান মাহমুদ ও তানজিম সাকিবও যোগ দেন, তাহলে পেসারের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জন। কিন্তু তাদের মধ্যে একজনও পেস বোলিং অলরাউন্ডার নন। এতে মনে হচ্ছে আপাতত টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় পেস বোলিং অলরাউন্ডারের জায়গা নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কতটা ঠিক হবে?

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অবশ্যই স্কোয়াডে বাড়তি পেসার রাখা হবে, কারণ সেখানকার বেশির ভাগ উইকেটই দ্রুতগতির ও বাউন্সি। সেখানে স্কোয়াডে পাঁচজন পেসার থাকাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এখন যে ছয়জন পেসারের কথা ভাবা হচ্ছে, তাদের মধ্যে কেউই পেস বোলিং অলরাউন্ডার নন। তাহলে কি বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও পেস বোলিং অলরাউন্ডার ছাড়াই খেলতে যাবে? দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে সাইফউদ্দীনের মতো মিডিয়াম পেসারের কার্যকারিতাই বা কতটা—এ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

ঘরের মাঠ শেরেবাংলার ধীরগতির পিচে কি সাইফউদ্দীনকে দলে রাখা যেত না, এমন প্রশ্নও উঠছে।

এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন সরাসরি খেলোয়াড় নির্বাচন বা দল সাজানো নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন,
‘আমি খেলোয়াড় নির্বাচন বা দল সাজানো নিয়ে কথা বলব না। তবে আমার মনে হয়, আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই আমাদের দল গঠন ও কম্বিনেশন তৈরির পরিকল্পনা করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলা হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানকার উইকেট তুলনামূলক দ্রুত ও বাউন্সি। তাই পেস বোলারের আধিক্য থাকাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি আমাদের পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকাও খুব দরকার। আমার খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট মানেই শুধু ধুন্ধুমার গতি আর বিপজ্জনক বাউন্স নয়। সেখানে বল ব্যাটে আসে সুন্দর গতি ও উচ্চতায়। তাই শুধু গতির ওপর নির্ভর করা বোলাররা সব সময় সুবিধা করতে পারেন না। তুলনামূলক কম গতির মিডিয়াম পেসার বা পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভাবনায় আমরা সাইফউদ্দীন ও রিপন মণ্ডলের কথাও ভাবতে পারি।’

বর্তমানে বিসিবির হেড অব ডেভেলপমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাবিবুল বাশারের মতে, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠন, ক্রিকেটার নির্বাচন ও পরিকল্পনার ছক এখন থেকেই তৈরি করা দরকার। তার ভাষায়, ‘হাতে এখনও প্রায় এক বছর সময় আছে। তাই আগামী ছয় মাস আমাদের পরীক্ষার সময়। এই সময়ের মধ্যেই দলের গঠন ও কম্বিনেশন চূড়ান্ত করা উচিত। দলে কতজন ব্যাটার থাকবে, কয়জন পেসার ও স্পিনার খেলবে, আর কতজন অলরাউন্ডার থাকবে—এসব ঠিক করে ফেলতে হবে। অলরাউন্ডারদের মধ্যেও স্পিনিং অলরাউন্ডার ও পেস বোলিং অলরাউন্ডারের বিষয়টি নির্ধারণ করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই আমাদের দলে অন্তত একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকুক। এতে শুধু পেস বোলিং বিভাগেই বৈচিত্র আসবে না, লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংও শক্তিশালী ও দীর্ঘ হবে।’

হাবিবুল বাশারের মতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াড মোটামুটি ঠিক করে ফেলা উচিত। এরপরের ছয় মাস সেই দলটিকে একসঙ্গে খেলিয়ে সমন্বয় গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। ‘তাহলে ক্রিকেটাররা নিজেদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে, দলের রসায়নও ভালো হবে। এতে ভালো খেলার সম্ভাবনা বাড়বে। না হলে এক সিরিজে একজন, আরেক সিরিজে অন্যজন—এভাবে চলতে থাকলে দেখা যাবে বিশ্বকাপ চলে এসেছে, কিন্তু আমাদের কম্বিনেশনই তৈরি হয়নি। তাই এখন থেকেই সম্ভাব্য স্কোয়াড মাথায় রেখে দল সাজানো দরকার।’

এআরবি/আইএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।