২ বলে ২ নিতে পারলো না দিল্লি, নায়ক হতে গিয়ে ‘ভিলেন’ মিলার
ম্যাচটা জিতলে নিশ্চিতভাবেই নায়ক হতেন ডেভিড মিলার। আইপিএলে বুধবার ২১১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের। প্রসিধ কৃষ্ণার ওভারে চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণটা ২ বলে ২ রানে নিয়ে আসেন মিলার। হাতে তখনও ৩ উইকেট।
কিন্তু পঞ্চম বলটি ডিপ স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে এক রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি মিলার। সিঙ্গেল প্রত্যাখ্যান করে ফিরিয়ে দেন অপরপ্রান্তে থাকা কুলদিপ যাদবকে। কুলদিপ লোয়ার অর্ডার ব্যাটার, মিলার হয়তো ভরসা করতে পারেননি।
সেটিই শেষ পর্যন্ত বড় আফসোসের কারণ হয়েছে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দিল্লি যে গুজরাট টাইটান্সের কাছে হেরেছে মাত্র ১ রানেই!
আগের বলে ইচ্ছেকৃতভাবে সিঙ্গেলস না নিয়ে শেষ বলে কৃষ্ণার খাটো লেংথের স্লোয়ার ব্যাটেই লাগাতে পারেননি মিলার। মরিয়া হয়ে প্রান্ত বদল করতে গিয়ে রানআউট হন।
শেষ ওভারের পঞ্চম বলে মিলার রান না নেওয়ার পর কী ভেবেছিলেন গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল? ম্যাচ শেষে গিলের উত্তর, ‘(ভেবেছিলাম) জয়ের সুযোগ আছে আমাদের।’
শেষ বলটা কেমন হবে, সেটাও পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গিল, ‘ইয়র্কার নাকি স্লোয়ার—আমরা এ নিয়ে আলাপ করেছি। উইকেটের আচরণ দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিই ভালো স্লোয়ার বলে বাউন্ডারি মারা কঠিন হবে।’
৩ ছক্কা ও ৩ চারে ২০ বলে ৪১ রানে অপরাজিতই থেকে যান মিলার। বিফলে গেছে তার এই মারকুটে ইনিংসটি।
ভারতের কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার মনে করছেন, কুলদিপকে স্ট্রাইক দেওয়া উচিত ছিল মিলারের। তবে এজন্য মিলারকে দোষী করতেও রাজি নন। গাভাস্কারের মতে, ‘তার (কুলদিপকে) স্ট্রাইক দেওয়া উচিত ছিল। অবশ্য ম্যাচ শেষে এমন অনেক কথাই বলা যায়। তবে আসল কথা হলো, আগের ওভারগুলোতে এবং ওই ওভারেও সে (মিলার) যেভাবে খেলছিলেন, তাতে তার বিশ্বাস ছিল যে, সে নিজেই ম্যাচ জেতাতে পারবে। তাই আপনি তাকে দোষ দিতে পারেন না। নিজের সামর্থ্যের ওপর তার ভরসা ছিল, কিন্তু দিন শেষে সেটি সফল হয়নি। কারণ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলটি ছিল এককথায় দুর্দান্ত।’
ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন অবশ্য সরাসরিই মিলারের পক্ষে দাঁড়ালেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মিলার ভেবেছিল যে শেষ বল থেকে অন্তত ১ রান সে নিশ্চিতভাবেই নিতে পারবে। তা না হলে বল সীমানার বাইরে পাঠাবে। কারণ, বল উড়িয়ে মারার সামর্থ্য তার দুর্দান্ত।’
এমএমআর