ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টকে আলোকবর্তিকা ভাবছেন মাশরাফি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

মাঝের সময়টা ভালোই কাটছিল। ২০১৫ ‘র বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। তারপর ওয়ানডেতে ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মত তিন পরাশক্তির সাথে ওয়ানডে সিরিজ বিজয়। এ তো গেল, একদিনের সীমিত ওভারের ফরম্যাটের কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে গত বছরের আগস্ট অবধি ১০ মাসের মধ্যে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয় জানান দিচ্ছিলো, টাইগাররা জাতে উঠে গেছে। কিন্তু হঠাৎ আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি; তিন ফরম্যাটেই চরমভাবে পর্যুদস্ত হয়ে ফেরত আসা।

হার-জিত খেলারই অংশ। দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে উপমহাদেশের তিন দল ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কারও খাবি খাবার রেকর্ড আছে। সেখানে বাংলাদেশের হার অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু হারের ধরণটা চোখে লেগেছে। আর পারফরম্যান্সও ছিল খুব বেশি রকমের খারাপ। লাল-সবুজ সমর্থকদের উন্মুখ অপেক্ষা, প্রিয় দল আবার ছন্দ ফিরে পাবে।

নিজেদের ফিরে পাবার অনুকূল মঞ্চ তৈরি। শুধু সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। বেশি কিছু করতে হবে না। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কার সাথে তিন জাতি আসরে চ্যাম্পিয়ন হলেই আবার হারানো আত্মবিশ্বাস আসবে ফিরে।

খারাপ সময়ে একটি সাফল্যই আলোয় ফেরার বড় রসদ। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে মিরপুরের শেরে বাংলায় অনুষ্ঠেয় তিন জাতি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেই হয়ত সেই রসদ মিলবে। শুধু ভক্ত ও সমর্থকরাই নন। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভাবনাও তেমন। টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়কও মনে প্রাণে চাচ্ছেন, ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি জিততে।

মাশরাফির দৃঢ় বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলে আবার সাফল্যের পথ খুঁজে পাবে বাংলাদেশ। তাই তো আসন্ন টুর্নামেন্টটা জিততে মুখিয়ে আছেন তিনি। টাইগার অধিনায়ক মঙ্গলবার শেরে বাংলার একাডেমি মাঠে দাঁড়িয়ে বলেন, 'আমাদের প্ল্যান অবশ্যই ত্রিদেশীয় আসরের শিরোপা জেতা। আমাদের জন্য ত্রিদেশীয় সিরিজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর সবাই আপসেট। আমরা যদি এটা জিততে পারি, তাহলে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যেতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় চরম নাজেহাল হবার পর একটা ধ্বস নেমেছে। তা ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। তবে ব্যক্তি জীবনে অনেক চরাই-উৎরাই পার করা মাশরাফির আত্ববিশ্বাসী উচ্চারণ, ‘আমার মনে হয় না, কঠিন কিছু হবে। বিশেষ করে ওয়ানডেতে। কারণ একটা সিরিজ দিয়ে সব কিছু বিবেচনা করা যায় না। নিউজিল্যান্ডেও ৩-০তে হেরে এসেছিলাম। কিন্তু এ রকম চাপে পড়িনি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিটি ফরম্যাটে বাজে খেলেছি। আমাদের এখন মূল করনীয় হলো, মাঠে সব ডিপার্টমেন্টে ঠিক কাজগুলো করা।'

দল নির্বাচনে নির্বাচকরাই শেষ কথা। তারপরও মাশরাফির কথা শুনে মনে হলো দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর হাবিবুল বাশার সুমনের সাথে খালেদ মাহমুদ ও অন্যরা বসে দল সাজাবেন। তার আর সাকিবের মতামতও নেয়া হবে।

দল নিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘নির্বাচকরা বসে আলোচনা করে দল দেন। আমিও পরামর্শ দিবো। একদম যে পরামর্শ দিবো না, তা নয়। এখন যেহেতু কোচ নেই, সুজন ভাই এবং অন্যেরা আছে; তারা নির্বাচকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে দল দিবেন। এখন ৩২-৩৩ জন অনুশীলন করছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে (নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে)।’

নিজে পেসার বলেই শুধু নয়, অধিনায়ক মাশরাফির বিশ্বাস ও উপলব্ধি-টিম বাংলাদেশের গত তিন চার বছরের সাফল্যে পেস বোলারদেরও একটা বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু মাঝে বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট একদমই সুবিধা করতে পারেনি।

তাই ঘরের মাঠে তিন জাতি আসরে পেসারদের কাছ থেকে আবার ভালো নৈপুন্যের আশায় টাইগার দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘গত তিন-সাড়ে তিন বছরে জেতা ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন যে পেসাররা ভালো করেছে। আবার হেরে যাওয়া ম্যাচগুলো দেখলে দেখবেন যে, ওইখানেও অতোটাই খারাপ ছিলো। আমাদের ধারাবাহিকতাটা যথাযথভাবে নেই। টানা ৯-১০ ম্যাচ ভালো করলে, এ রকম ধারাবাহিকতা থাকলে, হয়তো আমাদের সুযোগ বেশি থাকবে। যে ম্যাচগুলো জিতেছি, সেখানে যেমন পরিবেশ ছিলো; মাঠে যদি সেটা তৈরি করতে পারি, আসলে আমার মনে হয় পেসাররা আবার ভালো করবে।’

এআরবি/এমএমআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :