ফুটবল ফিরছে শীত মৌসুমে

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০১:০৯ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বর্ষাকাল এড়িয়ে ফুটবল ফিরিয়ে আনা হচ্ছে শীত মৌসুমে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দশম আসর শেষের পথে। সব কিছু ঠিক থাকলে ১৩ জানুয়ারি লিগের পর্দা নামবে। লিগের একাদশ আসর অক্টোবরে শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে প্রফেশনাল ফুটবল লিগ কমিটি। সেক্ষেত্রে নতুন মৌসুমের দলবদল কার্যক্রম শুরু হতে পারে আগস্টে।

২০০৭ সালে পেশাদার লিগ চালু হলেও দীর্ঘ ১০ বছরে ঘরোয়া মৌসুম নির্ধারণ করতে পারেনি বাফুফে। একেক মৌসুমে লিগ শুরু হয়েছে একেক মাসে। বছরের ১২ মাসের ৮ মাসেই লিগ শুরু নজির স্থাপন করেছে বাফুফে। ফেব্রুয়ারি, মে, জুন ও আগস্ট-এই চার মাসে এখনো লিগ মাঠে গড়ায়নি। না হলে তো প্রতি মাসেই লিগ শুরুর ইতিহাস লেখা থাকতো।

পেশাদার লিগের প্রথম আসর শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালের ২ মার্চ, শেষ হয় ১ আগস্ট। দ্বিতীয় আসর ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলে পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তৃতীয় আসর মাঠে গড়ায় ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর, শেষ হয় পরের বছর ৫ জানুয়ারি। চতুর্থ আসর ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে পরের বছর ২৭ জুন, পঞ্চম আসর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থকে ৩০ জুলাই।

ষষ্ঠ আসর ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে পরের বছর ৮ মে, সপ্তম আসর ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে পরের বছর ২৫ জুলাই, অষ্টম আসর ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ২০ আগস্ট এবং নবম আসর ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। চলমান দশম আসর শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই। ফিকশ্চার অনুযায়ী ১৩ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা এবারের লিগ।

৮ আসর পার করার পর বাফুফে একটা মৌসুম নির্ধারণ করেছিল। গত বছর মার্চে লিগ কমিটি ঘোষণা করেছিল ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম বলতে বোঝাবে ২০ মার্চ থেকে পরের বছর ১৯ মার্চ পর্যন্ত। লিগ কমিটির এ ঘোষণায় বিজ্ঞতার ছাপ ছিল না। যার নেতিবাচক ফল এবার পেয়েছে তারা।

ভরা বর্ষায় খেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ হয়েছিল ধানের চারা রোপণের খেত। কোথাও বলভাসা পানি, কোথাও কাদায় ভরপুর-এমন মাঠেই খেলা চালিয়েছে বাফুফে। আসলে লিগটা শেষ করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য, ভালো ফুটবলের জন্য নয়।

কাদা মাঠে না খেলেও উপায় ছিল না ক্লাবগুলোর। তাদের তো নিজস্ব মাঠই নেই। বাফুফে যেখানে নামিয়ে দেবে, সেখানেই খেলতে তারা বাধ্য। বাফুফের মতো লিগ শেষ করতে পারলে ক্লাব গুলোও খুশি। এমন অবস্থা থেকে পেশাদার লিগকে মুক্তি দিতেই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। বিলম্বে হলেও তাদের বোধোদয়টা হয়েছে।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘আমরা ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছি। খেলাটা শীতে আয়োজনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক কথাই বলেছে। আগস্টে আমরা দলবদল শুরু করবো। সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরে শুরু করবো লিগ। তাতে বৃষ্টি মৌসুমটা এড়ানো যাবে। এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছি। ৮ জানুয়ারি প্রফেশনাল লিগ কমিটির সভা আছে। সেখানে আমরা নতুন মৌসুমের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করবো।’

বিদায়ী মৌসুমে আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বাফুফে। স্বাধীনতা কাপ দিয়েই শেষ হবে চলমান মৌসুম। বাফুফে চাইছে লিগ শেষে বেশি বিরতি না দিয়ে স্বাধীনতা কাপ শুরু করতে। ‘আমরা লিগ শেষে বেশি দিন সময় নেবো না। জানুয়ারিতে স্বাধীনতা আয়োজনের মাধ্য মৌসুম শেষ করতে চাই’-বলেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ।

মৌসুম পরিবর্তন প্রসঙ্গে বাফুফের সিনিয়র সহ সভাপতি এবং প্রফেশনাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদীর বক্তব্য, ‘কাদামাঠে খেলতে কী কষ্ট, একজন ফুটবলার হিসেবে সেটা জানি। তাই আমরা ফুটবল মৌসুম পরিবর্তন করতে যাচ্ছি। প্রিমিয়ার লিগের মধ্যবর্তী দলবদলের সময়টা আন্তর্জাতিকভাবে মিলিয়ে করা হবে, যাতে বিদেশি ফুটবলার রেজিষ্ট্রেশনে কোনো ঝামেলা না হয়। লিগ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে শুরু করবো আমরা।’

এক নজরে ১০ টি পেশাদার লিগ

আসর 

শুরু

শেষ    

দল 

ম্যাচ      

চ্যাম্পিয়ন

প্রথম 

২.৩.২০০৭       

১.৮.২০০৭          

১১ 

১১০       

আবাহনী

দ্বিতীয়

১৩.৯.২০০৮     

১৭.২.২০০৯        

১১  

১১০    

আবাহনী

তৃতীয় 

২৫.১০.২০০৯    

৫.১.২০১০          

১৩       

১৫৬  

আবাহনী

চতুর্থ   

২৭.১২.২০১০    

২৭.৬.২০১১        

১২        

১৩২

শেখ জামাল

পঞ্চম                   

১.১.২০১২        

৩০.৭.২০১২        

১১        

১১০

আবাহনী    

ষষ্ঠ 

১৩.১১.২০১২     

৮.৫.২০১৩          

৯         

৭২ 

শেখ রাসেল

সপ্তম

২৭.১২.২০১৩    

২৫.৭.২০১৪        

১০  

১৩৫*      

শেখ জামাল

অস্টম 

২৭.৪.২০১৫

২০.৮.২০১৫        

১১   

১১০ 

শেখ জামাল

নবম 

২৪.৭.২০১৬      

৩১.১২.২০১৬       

১২    

১৩২    

আবাহনী

দশম 

২৮.৭.২০১৭        

চলমান    

১২   

১৩২

--------

* চিহ্নিত ৩ রাউন্ডের লিগ

আরআই/এমএমআর/পিআর