ক্রিকেটারদের নৈতিকতা ফেরাতে ‘সাইকোলজিস্ট’ আনছে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০১৮

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে সফল ক্ষেত্র ক্রিকেট। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাফল্য-ব্যর্থতাই বর্তমানে দেশের ক্রীড়াজগতের প্রধান বিজ্ঞাপন; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কলঙ্কের দাগ লাগা শুরু করেছে এই ক্রিকেটে। প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় দলের ‘ট্যাগ’ থাকলেই ক্রিকেটারদের জন্য মিলে যায় অপকর্মের লাইসেন্স?

এমন অভিযোগের বিপক্ষে জোর গলায় কথা বলতে চাইলে অনেক কিছুই বলা যাবে; কিন্তু জাতীয় দলের কতিপয় ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনার কারণে অভিযোগের পক্ষের যুক্তিও বেশ শক্ত। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে রুবেল হোসেন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের আগে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত জীবনের ঝামেলার নেতিবাচকভাবে খবরে এসেছে ক্রিকেটারদের নাম।

যার ফলে কলুষিত হয়েছে ক্রিকেট দলের সুনামও। এমতাবস্থায় ক্রিকেটারদের নৈতিকতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই পরিকল্পনার হিসেবে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন বা খেলার পাশাপাশি অন্যসব সামলানোর বিশেষ ট্রেনিং দেয়ার জন্য একজন ‘সাইকোলজিস্ট’ আনার কথাও ভাবছে বিসিবি।

বৃহস্পতিবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বুধবার সন্ধ্যায় পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে ফেরা পাপন বৃহস্পতিবার দুপুরেই হাজির হন হোম অব ক্রিকেটে। এসেই ঘোষণা করেন, আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড। কথা বলেন ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক বিষয়াদির নিয়েও।

পাপন বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমাদের বলার বেশি কিছু নেই। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে আমরা সর্বোচ্চ তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারি। এর বেশি কি করব বলেন? তবে তাদের এসব ব্যাপারে ট্রেনিং দেয়ার জন্য আমরা একজন সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ) নিয়ে আসার কথা ভাবছি। যে কিনা প্লেয়ার এসব ব্যাপারে ট্রেনিং দেবে। আমরা তো আমাদের ক্যাম্পে শুধু খেলায় জেতার ব্যাপারে ট্রেনিং করাই। এখন ওই নৈতিকতার বিষয়ে কিছু করা যায় কি না, সেটা নিয়েও কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ ব্যাপারে যোগাযোগ শুরু করে দেবে।’

এ সময় বিসিবি সভাপতি জানিয়ে দেন শুধু বোর্ডের তরফ থেকে দৌড়ঝাঁপ করলেই হবে না, খেলোয়াড়দেরও নিজেদের অবস্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আর এটি শুধু মুখে মুখেই নয়, রীতিমতো নিয়ম করেই বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে বোর্ড। খেলা চলাকালীন, খেলা না থাকলে খেলোয়াড়দের জন্য গাইডলাইন তৈরি করতে যাচ্ছে বিসিবি।

বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘নৈতিকতার বিষয়ে খেলোয়াড়দের সাথেও বসতে হবে। তাদের জানানো হবে যে, তারা কি কি করতে পারবে, কোন বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেমন আজকেও একটা প্রস্তাব এল যে, যখন দল ট্যুরে থাকবে তখন খেলোয়াড়দের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে কথা হয়েছে কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা এ ব্যাপারে আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করছি। খেলোয়াড়রা কি কি করতে পারবে, কি কি করতে পারবে না- সে ব্যাপারে একটা তালিকা করে সবাইকে সই করাবো। সবকিছুর পরে ওদের নিজেদেরই ভালো হতে হবে আসলে। জোর করে তো কাউকে ভাল করানো যায় না। ওরা নিজেরা ভাল না হলে আমাদের কিছু করা নেই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।’

নৈতিকতার বিষয় নিয়ে দলের পঞ্চপাণ্ডব বা পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা যায় না। কিন্তু উঠতি বয়সের তরুণ খেলোয়াড়রা সাফল্য পেয়ে খ্যাতির চূড়ায় উঠলেই শুরু হয় বিপথে যাওয়া। তাদেরকে ঠিক পথে রাখতে বিসিবির সাইকোলজিস্ট আনার সিদ্ধান্ত যে খুবই কার্যকরী একটি ব্যাপার হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এসএএস/আইএইচএস/জেআইএম