দেশে ফিরে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা যে এখন কেমন, সেটা এক আল্লাহ আর ক্রিকেটাররাছাড়া কেউ বলতে পারবে না। যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা হয়ে এসেছেন, তা কোনো মানুষ দুঃস্বপ্নেও দেখতে চাইবেন না।

একজন বন্দুকধারী একের পর এক পাখির মত গুলি করে মানুষ মারছে, আর নিজে নিজে সেটা লাইভ করে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিচ্ছে- এর চেয়ে ভয়ঙ্কর পৃথিবীর ইতিহাসে আর ঘটেছে কি না সন্দেহ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেরও সেই মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে তারা মসজিদের সামনেও পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে, মাত্র ৫ মিনিট বিলম্বে যাওয়ার কারণে প্রাণে বেঁচে যান ক্রিকেটাররা।

সেই অবস্থার মুখোমুখি হলে যে কারোরই মুর্চা যাওয়ার কথা। ক্রিকেটাররা নিজেদের শান্ত রেখে পাশ্ববর্তী হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে চলে যান টিম হোটেলে। কিন্তু তাদের মধ্যে যে মানসিক অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটা থেকে তো রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ৫ মিনিটের হেরফের হলে মৃতদেহের সংখ্যায় যোগ হয়ে যেতে পারতো আরও ১০-১২ জনের নাম।

Riyad

ক্রাইস্টচার্চের ওই ঘটনার পর দ্রুতততার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে বিসিবি এবং বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সময় আজ ভোর ৫টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ক্রিকেটাররা এবং রাত ১০টা ৪২ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছায় টিম বাংলাদেশ।

বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানেই মিডিয়ার মুখোমুখি হন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেখানে তিনি নিজেদেরকে খুব ভাগ্যবান বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু এতটুকু বলতে চাই, আমরা খুব ভাগ্যবান যে, এখন এখানে বসে আছি। আপনাদের সবার দোয়া, দেশবাসির দোয়া, বাবা-মা, পরিবার-পরিজন, আমরা আল্লাহর রহমতে এখানে এসে পৌঁছাতে পেরেছি।’

সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এটা বর্ণনা করতে পারবো না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি এখন। আমরা কি দেখেছি, এটা আসলে বিশ্বাস করার মত না।’

এ ধরণের ঘটনা নিউজিল্যান্ডের মত দেশে ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বলেন, ‘এ ঘটনা আসলে খুবই অনাকাংখিত। এটা কারোরই কাম্য নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের দলের সবাই, সারারাত আমরা ঠিকমত ঘুমাতেও পারিনি। যখন রুমের মধ্যে ছিলাম, তখন শুধু একটা কথা চিন্তা হচ্ছিল, যে আমরা কতটুকু ভাগ্যবান। সবচেয়ে বড় কথা, নিউজিল্যান্ডের মত দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে- এটা খুব আনএক্সপেক্টেড।’

ঘটনার পরপরই বোর্ডের সঙ্গে কথা হয় ক্রিকেটারদের। এরপর বিসিবির তড়িৎ তৎপরতার কারণে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন ক্রিকেটাররা। রিয়াদ বলেন, ‘তারপর বোর্ডের সাথে আমাদের যোগাযোগ হলো, ওনারা তাড়াতাড়িই আমাদের ফেরার ব্যবস্থা করলেন। এ জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ। পাপন ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ। কারণ ওনার সঙ্গে কথা হলো এবং উনি আমাদের আশ্বস্থ করলেন যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন। এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। একই সঙ্গে দেশবাসির কাছে আবেদন থাকবে, তারা যেন আমাদের জন্য সব সময় দোয়া করেন এবং এই মানসিক অবস্থা থেকে যেন আমরা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসতে পারি।’

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]