রাশিয়ায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবে খুদে ফুটবলার রাফি

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৮:৪৭ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

গর্বিত দম্পতিই বশির উদ্দিন রতন আর মেহবুবা রতন। নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জের এ দম্পতির ঘরটাই যেন আলোকিত করে যাচ্ছে গোলাম রাব্বি আর গোলাম রাফি।

মাহবুবা রতনের কোলজুড়ে রাব্বি-রাফি এসেছিল মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে। তখন কী বশির আর মেহবুবা রতন জানতেন ৩ মিনিটের ব্যবধানে পৃথিবীর আলো দেখা তাদের দুই ছেলে এক বছরের ব্যবধানে দেখবেন রাশিয়ার মতো দেশের আলো! কল্পনার বাইরে হলেও তাদের কাছে এখন এটাই সত্য। গত বছর রাশিয়া গিয়েছিল তাদের দুই যমজ ছেলের বড়জন রাব্বি, এবার যাচ্ছে তার ৩ মিনিটের ছোট রাফি।

জুনে রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। জুনেই দেশের বৃহত্তম দেশটির রাজধানী মস্কোতে বসছে ২১১ দেশের খুদে ফুটবলারদের নিয়ে ফেস্টিভ্যাল। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছে রাফি। একই অনুষ্ঠানে রাব্বি গিয়েছিল গত বছর। রাফির জন্য বাড়তি উপহার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বসে আরো ১১০টি দেশের খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যেকার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবে নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ হাজী আলম চান উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র গোলাম রাফি।

এই ফুটবল ফেস্টিভালে ২১১ দেশ থাকলেও খেলবে ৬৪ দেশের ফুটবলাররা। এ ৬৪ দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশও। ৭ জুন রাফিকে নিয়ে রাশিয়া যাবেন বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য হারুনুর রশিদ।

গত বছর রাব্বি যখন রাশিয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, তখন খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল তাদের বাসায়। এবারও তাই। ছেলেদের এমন অর্জনে বাবা-মা যেন খুশিতে আত্মহারা।

‘এটা কেবল আমার সুনাম নয়, সবার। পুরো দেশের হয়ে রাফি যাবে রাশিয়ায়। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই, যাতে ওখানে গিয়ে সে দেশের সম্মান রক্ষা করতে পারে। খবর জানার পর থেকেই ওর মা রাফিকে অনেক কিছু শেখাচ্ছেন। যেমন শিখিয়েছিলেন আগেরবার রাব্বিকে। আমি ওদের নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। আল্লাহ তারই ফল দিচ্ছেন আমাকে’-নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে জাগো নিউজকে বলছিলেন রাফির বাবা বশির উদ্দিন রতন।

কী করেন আপনি? রাফির বাবার জবাব, ‘কিছু করি না, বেকার। ২৮ বছর বিদেশে ছিলাম। প্রথম ৫ বছর মালয়েশিয়ায়, পরের ২৩ বছর সৌদি আরবে। যখন ছুটিতে আসতাম তখন অনেকে বলতেন, এবার দেশে থাকো। সন্তানদের প্রতি নজর দাও। ২৩ বছর থাকার পর ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আমি সৌদি থেকে একেবারে চলে এসেছি। আমার রাব্বি ও রাফি দুই জনই ভালো ফুটবল খেলে। এখন ওরাই আমার সব স্বপ্ন।’

বয়স কেবল ১২ বছর পার হয়েছে। এ বয়সের ছেলেরা পড়াশোনার চেয়ে বরং খেলাধুলাতে বেশি মগ্ন থাকে। রাব্বিরা দুই ভাইও তাই। রাফি রাশিয়ার জন্য মনোনীত হওয়ার পর ইংরেজি শিখছে তারই স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে, ‘আমি স্কুলের শান্তি ম্যাডামের কাছে ইংরেজি শিখছি। রাব্বিও আমাকে শেখাচ্ছে। ওতো রাশিয়া ঘুরে এসেছে। তাই অনেক কিছু জানে। রাশিয়া কেমন দেশ, ওখানকার মানুষ কেমন, আমাকে কী করতে হবে- এসব শিখছি রাব্বির কাছ থেকে’- প্রতিক্রিয়া গোলাম রাফির।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে দেখবা। কখনো ভেবেছিলে? ‘না। কখনো ভাবিনি। আমি ব্রাজিল বিশ্বকাপের খেলা টিভিতে দেখেছি। আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। এবার স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ দেখবো। জেনে অনেক ভালো লাগছে’-বলছিল ভাগ্যবান খুদে ফুটবলার রাফি।

আগেরবার যখন রাব্বি রাশিয়া গিয়েছিল তখন রাফির বায়না ছিল সেখান থেকে তার জন্য বুট, জার্সি আর ট্র্যাকস্যুট আনতে হবে। রাব্বি কী বুট-জার্সি আর ট্র্যাকস্যুট এনেছিল? ‘না। রাব্বি আমার জন্য ওসব আনতে পারেনি’-জবাব রাফির। এবার কী রাব্বি কিছু আনতে বলছে? ‘না’ উত্তর দিলো তার ৩ মিনিটের ছোট ভাই, ‘না, সে কিছু আনতে বলছে না। শুধু বলছে ভালো করে খেলবি।’

নির্বাচিত হওয়ার পর রাফি প্রতিদিন রাশিয়ার গল্প শোনে রাব্বির কাছে। তো রাব্বি কী কী বলছে রশিয়া নিয়ে? ‘রাব্বি বলছে সেখানে সব সময় খেয়াল করে চলতে। কারণ, ওখানে অনেক কিছু আমি বুঝবো না। যেমন রাত ১২টায় নাকি সকাল হয়। আবার সকালে থাকে রাত’-বাংলাদেশ আর রাশিয়ার সময়ের ব্যবধান বুঝাতে গিয়ে ছোট ভাইকে এসব বলেছে রাব্বি।

গত মার্চে উম্মুক্ত ট্রায়ালের মাধ্যমে রাফিকে বাছাই করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ২০০ খুদে ফুটবলার এ ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে থেকে রাফি নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ার এই খুদে ফুটবল ফেস্টিভালের জন্য।

আরআই/আইএইচএস/এমএস