‘স্পেনের আরও একটি বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য আছে’

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ২০ জুন ২০১৮

স্পেনের সোনালি যুগের অন্যতম সদস্য তিনি। ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকে যে স্পেন একছেটিয়াভাবে শাসন করেছে, তার অন্যতম উপদানই ছিলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ডেভিড সিলভা। স্প্যানিশ কোনো ক্লাবে না খেলেও স্পেন জাতীয় দলে নিজের একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রয়েছেন তিনি। সোনালি প্রজন্মের অনেকেই বিদায় নিয়েছে ইতোমধ্যে। বাকি যারা আছেন তাদের মধ্যে ডেভিড সিলভা, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা অন্যতম।

হয়তোবা এবার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলছেন সিলভা; কিন্তু এই পড়ন্ত বয়সে এসেও তার পায়ের ধারটা কমেনি। স্পেনের অ্যাটাকিং হাফের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মিডফিল্ড ছেড়ে এখন তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয় উইংয়ে। সব মিলিয়ে অন্যসময়ের চেয়ে নতুন একটা পরিস্থিতি। তারওপর, প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র।

তবুও স্পেন ফুটবলার ডেভিড সিলভা মনে করছেন, তাদের সামর্থ্য আছে রাশিয়া থেকে আরও একটি বিশ্বকাপ জয় করে স্পেনকে উপহার দিতে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কার সঙ্গে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের পরিকল্পনা, লক্ষ্য, নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিক থেকে আগামী দিনের লক্ষ্য- সবই নিয়ে কথা বলেছেন সিলভা। সে সাক্ষাৎকারই তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য।

প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে খুব শিগগিরই অবসর নিচ্ছেন?
ডেভিড সিলভা : যোগ্যতা দিয়েই বলছি, রাশিয়া বিশ্বকাপে আগের তুলনায় আমি নিজেকে কিছুটা ফিট মনে করছি। অবশ্যই, আমার বয়স হয়েছে; কিন্তু আমি ফুরিয়ে যাইনি। এখনো অবসরের কথা ভাবছি না। সব সময় মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্তিশালী। তা না হলে এই বিশ্বকাপে আমাকে দেখা যেত না। যখনই মনে করবো, দলে কোনো অবদান রাখতে পারছি না, তখনই হাত উঁচু করে আমি সেটি বলে দেবো।

প্রশ্ন : স্পেন শুধুই জানে, তাদের প্রচলিত নিয়মে ফুটবল খেলতে, এই কথাটি কি সঠিক?
সিলভা : সেই ২০০৮ থেকে আমরা আমাদের খেলার ধারা পরিবর্তন করিনি। আপনি চাইলে দলের খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে পারবেন; কিন্তু খেলার ধারা পরিবর্তন সম্ভব নয়। আপনি যখন ভিন্ন ভিন্ন কোচের তত্ত্বাবধানে খেলবেন, তখন সেই পরিবর্তনের সাথেও মানিয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন : ১২ বছর আগে আপনার অভিষেকের মুহূর্তটা কীভাবে মনে রেখেছেন?
সিলভা : লুইস আরাগোনস (তখনকার স্পেন কোচ), তিনিই আসলে আমাকে সব কিছু দিয়েছেন। আমার বয়স যখন ২০ বছর, তখন তিনিই আমাকে দলে ডাকেন এবং কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই আমাকে দলে নেন। তিনিই আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন, কীভাবে আশেপাশে যা কিছু হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রন করে ভালো খেলা যায়। তিনিও আমার উপর অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন। তখনকার সময়ে তার অধীনে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছিলাম আমি; কিন্তু এখন আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায় আছি।

David-Silva

প্রশ্ন : ২০০৬ থেকে এখন পর্যন্ত ডেভিড সিলভার কোন পরিবর্তন আমরা দেখতে পেরেছি বলে মনে হয় আপনার?
সিলভা : অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি, আমি আগের চেয়ে বেশ ভালো ফুটবল খেলি। কারণ ফুটবলের প্রতিটা মুহূর্তই আসলে কিছু না কিছু অর্জন করার মতো। প্রতিটি খেলার নিজস্ব কিছু ছন্দ থাকে তাই আপনি যত খেলবেন তত শিখবেন। আমি অবশ্যই ২০১৮ সালের সিলভাকে বেশি পছন্দ করি, কারণ সে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞ। এই মানসিক শান্তিই কিন্তু আমার সাফল্যের মূলে এবং আমি ১২০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছি।

প্রশ্ন : কোন পরিবর্তনটি তখনকার সময়ের জাতীয় দলের সাথে সম্পর্কিত?
সিলভা : আসলে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। খেলোয়াড় এবং কোচের পরিবর্তন। সে সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তনের উপযোগী করে খাপ খাওয়াতে হয়েছে।

প্রশ্ন : এই বিশ্বকাপ থেকে কি আশা করেন? অলৌকিক কিছু ঘটবে নাকি, ব্যক্তিগত যোগ্যতা দিয়ে কিছু পাবেন?
সিলভা : আসলে আমাদের এখন যা দরকার, সেটিই করবো। কারণ আমি ১২ বছর যাবৎ জাতীয় দলে খেলছি এবং আমার অসাধারণ ক্যারিয়ার রয়েছে। আমি ভাগ্যবান যে, বিশ্বকাপ জয়ের একটি অংশ ছিলাম এবং আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি। আমার কোনো অভিযোগ নেই। রাশিয়ার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলছি, আমি মনে করি আমাদের সেরা কিছু খেলোয়াড় আছে এবং আমাদের আরো একটি বিশ্বকাপ যেতার সামর্থ্য আছে। আমরা সেভাবেই খেলবো, অবশ্যই সেটা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে; ব্যক্তিগতভাবে নয়।

প্রশ্ন : এটাই কি আপনার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে?
সিলভা : আপনি কি আমাকে আরো একটি বিশ্বকাপে দেখতে চান? আমি এখন দলের সাথে খুবই ভালো সময় কাটাচ্ছি; কিন্তু মনে হয় না, আমি আরো একটি বিশ্বকাপ খেলতে পারবো।

প্রশ্ন : আপনার পজিশনে একজন ফুটবলারের কতটুকু প্রয়োজনীয়তা বা অবদান আছে?
সিলভা : আমরা জানি, ফরোয়ার্ডে আমাদের জন্য স্পেস কম। আমাদের অবশ্যই গোল করতে হবে। আপনাকে অবশ্যই গোল করানোর জন্য সাহায্য করতে হবে দলের অন্য খেলোয়াড়দের। এই বিশ্বকাপে প্রতিটি মুহূর্ত দলে অবদান রাখার মত।

David-Silva

প্রশ্ন : উইংগার হিসেবে খেলাটা আপনার ক্যারিয়ারে কি পরিবর্তন এনেছিল?
সিলভা : উইংগার হিসেবে খেলা আমার জন্য সহজ। কারণ এখানে মাত্র দুটি অপশন থাকে।

প্রশ্ন : এই বছরটা আপনার জন্য খুবই কঠিন গেছে। এটি কি আপনাকে আরো শক্তিশালী করবে?
সিলভা : আমি আসলে মানসিকভাবে সব সময় অনেক শক্তিশালী এবং এটাই আসলে জীবনকে ভিন্নভাবে দেখতে সাহায্য করে। আসলে আমার চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস আমার জীবনে জায়গা করে নিয়েছে।

প্রশ্ন : কোন ধরনের পরিবর্তন বোঝাতে চাচ্ছেন?
সিলভা : কিছু কিছু বিষয় আসলে পরিবর্তন হয়। পরিবার, বন্ধু এগুলি আমার কাছে আগের থেকে গুরুত্ব বহন করে।

প্রশ্ন : গার্দিওলা কীভাবে আপনার খেলার ধারায় পরিবর্তন এনেছে?
সিলভা : আমাকে এখন শারীরিকভাবে অনেক চেষ্টা করতে হয়। আমি এখন আগের চেয়ে মাঝের দিকে বেশি খেলি এবং পেপ আমাকে ম্যাচের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করেন।

প্রশ্ন : ম্যানচেস্টার সিটির বেশিরভাগ খেলোয়াড় বিশ্বকাপে খেলছে, আপনার কাছে কী মনে হচ্ছে?
সিলভা : ভালো। আমার মনে হয়, সঠিক কাজই করছি। পেপ আমাদের দলকে এমনভাবে পরিবর্তন করছেন, যা আমাদের প্রতিপক্ষকে বেশি ভাবাতে শুরু করেছে।

প্রশ্ন : দলের জন্য কোন ফরোয়ার্ডের খেলাটা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?
সিলভা : আসলে আপনাকে দলের সাথে খাপ খাওয়াতে হবে। কস্তা ভালো একটি জায়গায় খেলছে। আসপাস এবং রদ্রিগো তারাও বল গ্রহণ করার মত এবং তারা দুজনেই সম্পূর্ণ আলাদা নাম্বার নাইন। তারা প্রত্যেকেই অসাধারণ খেলোয়াড়।

আরআর/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]