‘মোহামেডানের সেই বাসটিকে অনেক মিস করি’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে এখন তিনটি বাস। এর মধ্যে নতুন দুটিতে করেই খেলোয়াড়দের অনুশীলনে, খেলার মাঠে আনা-নেয়া করা হয়। পুরনো বাসটি পড়ে আছে ক্লাবের মাঠের এক কোনে, অবহেলায়।

ক্লাবের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ পুরনো বাসটির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সেটা নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করেছেন। লিখেছেন- ‘৮০ এবং ৯০ দশকে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের বহনকারী সেই বাসটি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে ক্লাব প্রাঙ্গণে।’

জাগো নিউজ : হ্যালো, কায়সার হামিদ ভাই কেমন আছেন? দেখলাম মোহামেডানের পুরনো বাসটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। বাসটিকে অনেক মিস করছেন বুঝি?

কায়সার হামিদ : ভালো আছি। বাসটিকে মিস করছি বলেই তো ওটার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি। এই বাসের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আমার, অনেকের।

জাগো নিউজ : বাসটির প্রাণ নেই। নাহলে পুলকিত হতো এই ভেবে যে- কায়সার হামিদ আমার সাথে ছবি তুলেছে তাই না?

কায়সার হামিদ : বাসের প্রাণ না থাকলে কি হবে! দেখছেন আমার ওই পোস্টে কি পরিমান লাইক-কমেন্ট পড়েছে! শেয়ার হয়েছে। কেবল আমার নয়, অনেকের আবেগ জড়িয়ে আছে ওই বাসটির সাথে।

জাগো নিউজ : দেখলাম- ২২ ঘন্টায় ১১ শ’র বেশি লাইক, একশ’র বেশি কমেন্ট ও ৮ শেয়ার। কায়সার হামিদের পোস্ট বলে কথা।

কায়সার হামিদ: যদি সব কমেন্ট পড়েন দেখবেন কতজন কত ধরণের আবেগময় কথা লিখেছেন। আসলে মোহামেডান যেমন আবেগের এক নাম, তেমন অনেকের কাছে আবেগের এই বাসটি।

জাগো নিউজ : দীর্ঘ এক যুগ এই বাসে করে অনুশীলন মাঠে গিয়েছেন, খেলার মাঠে গিয়েছেন। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আপনার এই বাসের সাথে।

কায়সার হামিদ : মোহমেডানের সভাপতি ছিলেন তখন নারায়নগঞ্জের হাবিবুর রহমান। তিনি এই বাসটি ক্লাবকে উপহার দিয়েছিলেন খেলোয়াড়দের ব্যবহারের জন্য। অনেক বছর আগে তিনি খুন হয়েছেন। এত স্মৃতি বাসটি নিয়ে, কোনটি বলবো?

জাগো নিউজ : অনেক স্মৃতির মধ্যে থেকেই যদি দুই-একটি বলতেন।

কায়সার হামিদ : আমরা এই বাসে করে মাঠে যেতাম-আসতাম। যেদিন জিততাম সেদিন সমর্থকরা বাসটি ঘিরে মিছিল করতে করতে ক্লাব পর্যন্ত আসতো। আর ড্র করলে বা হারলে বাসের ওপর বৃষ্টির মতো ঠিল পড়তো, গ্লাস ভাঙতো।

জাগো নিউজ : হারার পর সবচেয়ে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ার কোনো ঘটনা মনে আছে?

কায়সার হামিদ : থাকবে না কেন? ১৯৮৫ সালে আবাহনীকে হারালাম ২-১ গোলে। পরের ম্যাচে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে ড্র করলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ম্যাচটি হেরে গেলাম ২-১ গোলে। ১ পয়েন্টের জন্য আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। ঘণ্টা দুয়েক ড্রেসিংরুমে অপেক্ষা করে বের হয়ে বাসে উঠেছিলাম। চারিদিক থেকে ঠিল পড়ছিল বাসে। মনে হয়েছিল বাস নিয়ে আর ক্লাব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো না।

জাগো নিউজ : ওই সময় তো মোহামেডানের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আরামবাগের কাছে দুই গোল খেয়েছিলেন কিভাবে?

কায়সার হামিদ : হ্যাঁ, ওই সময় মোহামেডানের রক্ষণভাগ শক্তিশালী ছিল। সেটা আমাকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু আরামবাগের বিপক্ষে আমি খেলিনি। কারণ, আগের ম্যাচে আবাহনী বিপক্ষে আমি আঘাত পেয়েছিলাম। কপালে বেশ কয়েকটি সেলাই ছিল। আমি খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোচ আমাকে খেলাননি আরামবাগের বিপক্ষে।

জাগো নিউজ : আপনাদের মতো বাসটির উপরও অনেক ধকল গেছে তখন।

কায়সার হামিদ : হ্যাঁ। হারলে বা ড্র করলেই সমর্থকদের লক্ষ্য হতো বাস। তখনতো সমর্থকরা অনেক ক্রেজি ছিল। হার তো পরের কথা, ড্র করলেই হামলার শিকার হতাম। এখন তো ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেও খেলোয়াড়রা নিরাপদে ক্লাবে ফিরতে পারে।

আরআই/আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]