সিরিজ জিততে সেই স্পিন পিচে ফেরা নয়, এবার সাহস দেখাবে বাংলাদেশ!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ শেরে বাংলায় যতগুলো ম্যাচ জিতেছে, তার বেশির ভাগই স্লো, লো আর খানিক স্পিন সহায়ক ট্র্যাক তৈরি করে। তাই বলে শেরে বাংলায় টাইগাররা কখনো পেসারদের জোরে জেতেনি—এমন নয়। এই তো সেদিন ১১ মার্চ এই মাঠেই বল হাতে আগুন ঝরিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়েছেন নাহিদ রানা।

আবার শেরে বাংলায় টাইগারদের উত্তাল উইলোবাজিতেও জেতার বেশ রেকর্ড আছে। তা জানতে খুব পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। এই গত বছর ২৩ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে শেষ ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ ১৭৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে ব্যাটারদের হাত ধরে।

সে ম্যাচ দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর সাইফ হাসান ১০০-এর ওপরে স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে প্রথম সেশনেই বাংলাদেশকে জয়ের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেন। সৌম্য সরকার (৮৬ বলে ৯১) আর সাইফ হাসান (৭২ বলে ৮০) ক্যারিবীয় বোলারদের তুলোধুনো করে উইকেটের চারদিকে ধুন্ধুমার শট খেলে ১৭৬ রানের বিরাট ওপেনিং জুটি গড়ে দেন।

ওই দুর্দান্ত জুটির ওপর দাঁড়িয়ে প্রায় তিনশোর কাছাকাছি (২৯৬) স্কোর গড়ে বাংলাদেশ পায় ১৭৯ রানের বিশাল জয়।

আগামীকাল ১৪ মার্চ সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী লড়াইয়ে কারা বাংলাদেশের ভাগ্য গড়ে দেবেন—বোলার, নাকি ব্যাটাররা? উত্তর জানতে হলে সবার আগে দেখতে হবে কেমন উইকেটে খেলা হয়।

বাংলাদেশ সিরিজ জিততে কোন ধরনের পিচ বেছে নেবে—ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি, স্পোর্টিং নাকি স্পিনিং ট্র্যাক? পাশাপাশি শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কম্বিনেশন কেমন হবে? পাকিস্তানকে হারাতে এই আবারও তিন পেসার, দুই স্পিনার, ছয় ব্যাটার ফর্মুলাই বহাল থাকবে? নাকি সিরিজ জিততে মরিয়া বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে স্পিন ফ্রেন্ডলি পিচ বেছে নিয়ে ৩ পেসারের বদলে ৩ স্পিনার নিয়ে নেমে পড়বে?

এমন প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেটের চরিত্র বদলের বিপক্ষে। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, ‘খেলার ফল যাই হোক, পক্ষে যাক না যাক, বাংলাদেশ আগের দুই ম্যাচে যেমন পিচে খেলেছে, সেই ধরনের উইকেটেই খেলতে চায়। এখন থেকে এই ধরনের স্পোর্টিং, না হয় খানিক বাউন্সি পিচেই খেলা হবে।’

আশরাফুলের কথায় টিম ম্যানেজমেন্টের মনোভাবই ফুটে উঠেছে। তাদের একটাই কথা—উইকেটের আদল বা চরিত্র কোনোভাবেই পাল্টে ফেলা যাবে না। তার মানে উইকেট যেমন আছে তেমনই থাকবে। বাংলাদেশ স্পোর্টিং উইকেটেই খেলতে চাচ্ছে।

কালকের ম্যাচেই প্রমাণ হয়েছে, স্পোর্টিং ও খানিক ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি কন্ডিশনে বাংলাদেশের বোলারদের যেমন সামর্থ্যে কমতি আছে, একই সমস্যা ব্যাটারদেরও। তারা ভালো উইকেটেও ভালো ব্যাটিং, মানে স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেন না। শেষ কথা হচ্ছে, মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। প্রথম ম্যাচে টার্গেট কম থাকায় খেলা হাতে চলে এসেছিল। জিততে হলে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার ইচ্ছা, সাহস ও উদ্যম থাকতে হবে।

উইকেটের চরিত্র না পাল্টালে হয়তো দলের ফরমেশন বা কম্বিনেশন একই থাকবে। ওই ৩ পেসার, ২ স্পিনার আর ৬ ব্যাটার ফর্মুলা বহাল থাকবে। তবে একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। ওপেনার সাইফ হাসান দুই ম্যাচেই সুবিধা করতে পারেননি। শুধু রান কম করাই নয়, খেলার ধরন আর আউট হওয়ার ধরনও চোখে লেগেছে।

সাইফের জায়গায় সৌম্য সরকারের শেষ ম্যাচ খেলার একটা প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে তানজিদ তামিমের সঙ্গে সৌম্যকে আবার ওপেন করতে দেখা যেতে পারে।

একইভাবে তিন ফাস্ট বোলার তাসকিন, মোস্তাফিজ এবং নাহিদ রানার মধ্যে একজনকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। কাকে বিশ্রামে রাখা হবে. সেটাই দেখার। তবে ধরেই নেওয়া যায় আগামীকাল ১৪ মার্চের শেষ ম্যাচে সৌম্যর সঙ্গে বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শরিফুল ইসলামও দলে ফিরছেন।

এআরবি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।