মেসি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য
বুধবার ছিল আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির ২৮তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষ্যে মেসি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল :
মেসির ছোটবেলার কোচ ছিলেন কার্লোস মার্কোনি। ছোটবেলায় লিও ভালোবাসতেন চকোলেট কুকি, `আলফাখোরেস`। মার্কোনি তাকে বলতেন, একটা গোল করলেই একটা চকোলেট কুকি দেবেন। চার গোল করলে চারটি কুকি। উচ্চতা কম বলে হেড করতে ভালোবাসতেন না মেসি। মার্কোনি তাকে বলতেন, হেডে গোল করলেই মিলবে দুটো কুকি। মেসি ডিফেন্ডার, গোলকিপারকে কাটিয়ে গোলের কাছে গিয়ে বল উঁচুতে মেরে হেড করতেন। তার পরে ইঙ্গিতে কোচকে বলতেন, দুটো কুকি রাখতে।
লিওনেল মেসির মাঝের নাম হল আন্দ্রেস। তার বাবা মা `আন্দ্রেস` রাখেন ইতালিয়ান পূর্বপুরুষের কথা ভেবে। তিন থেকে ছয় বছর টানা, প্রতিদিন তাকে নিতে হত ইঞ্জেকশন। হরমোন সমস্যার জন্য। এত লাজুক ছিলেন মেসি, স্পেনে এসে প্রথমে কথা বলতেন না। লা মাসিয়ায় তার সতীর্থরা ভেবেছিলেন, তিনি বোবা। ইতালিতে এক টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে, প্লে স্টেশন খেলার ফাঁকে জানা যায়, তিনি কথা বলতে পারেন।
তার বাবার সঙ্গে বার্সার ডিরেক্টরের প্রথম চুক্তি হয় এক রেস্তোরাঁর ন্যাপকিনে। সেটা আছে কি না, কেউ জানে না। মেসি এখনও তার রোসারিওর বন্ধুদের টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন।
এমনিতে কথা বলেন না। কিন্তু ২০০৯ সালে লা লিগা জিতে এত মদ্যপান করেছিলেন, মদের ঘোরে সমর্থকদের সামনে কাতালান ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। যে শহরে জন্মেছেন মেসি, বিশ্ব জুড়ে সেই শহরের সবচেয়ে পরিচিত মুখ তিনি নন, চে গুয়েভারা।
মেসির সঙ্গে রোসারিওর পুরোনো ক্লাব নিওয়েল ওল্ড বয়েজের ঝামেলা ছিল। ঝামেলা মেটে মেসি ক্লাবের ডর্মেটরি ও জিম বানানোর জন্য বিশাল অর্থ দেওয়ায়। ঝামেলা মেটার পরই ক্লাব মেসির ছেলের জন্য সদস্য কার্ডের ব্যবস্থা করে। রোসারিওর হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের জন্য ৬ লক্ষ ইউরো দেন মেসি। সেরেনা উইলিয়ামসের জন্য ইউনিসেফের এক প্রচারে মেসি অংশ নেন। স্কুলে না পড়া ছেলেমেয়েদের জন্য।
এনবিএ সুপারস্টার কোবে ব্রায়ান্টের সঙ্গে এক বিজ্ঞাপনে অংশ নেন তুরস্কের এয়ারলাইন্সের জন্য। রজার ফেদেরারের সঙ্গে জিলেটের বিজ্ঞাপন করেছেন তিনি।
মেসিকে ফুটবলে আনেন দাদি সেলিয়া। গোলের পরে বুকে ক্রস এঁকে মেসি আকাশের দিকে তাকান দাদির স্মৃতিতেই। বান্ধবী আন্তোনেইয়া বাদে মেসির সঙ্গে যে তরুণীর নাম যুক্ত হয়, তিনি আর্জন্টিনার বিখ্যাত মডেল লুসিয়ানা সালাজার। রোসারিওর মেয়ে মারারেনা লেমসের সঙ্গেও জড়িয়ে যায় মেসির নাম। যার সঙ্গে আলাপ হয় ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে। ২০০৯ সালে আন্তোনেইয়ার সঙ্গে প্রেমের কথা প্রকাশ্যে আনেন মেসি। এক টিভি শো তে।
জাপানি স্বর্ণব্যবসায়ী গিঞ্জা তাকানা মেসির বাঁ পায়ের মাপে ২৫ কেজির সোনার পা বানান। দাম হয় সাড়ে ৫২ লক্ষ ডলার। মেসির দুই কাজিন ভাই ম্যাক্সি ও ইমানুয়েল বিয়ানকুচি ফুটবল খেলেন। এবং সেটা ব্রাজিলের বাহিয়া ও ভাস্কো ক্লাবে।
মেসির রোসারিওর বাড়িতে কেউ থাকে না। কিন্তু বাড়িটা এখনও রেখে দিয়েছেন তারা। মা থাকেন শহরের এক অভিজাত এলাকায় পেন্টহাউসে। বাবা-মাকে এত ভালোবাসতেন, একবার জাতীয় টিমের প্র্যাক্টিস বুয়েনস আইরেসে করে তিন ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে আসেন রোসারিও ডিনার করতে। রাতে থেকে আবার সকালে বুয়েনস আইরেস যান প্র্যাক্টিসে।
নিজের ছোটবেলার শরীর খারাপের কথা ভেবে ২০০৭ সালে লিও মেসি ফাউন্ডেশন গড়েন। আর্জেন্তিনার গরীব শিশুদের চিকিত্সারর জন্য। তার ছেলে থিয়াগোর প্রথম জন্মদিনে ইউনিসেফের জন্য এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন মেসি। মেসির ছোটবেলার আদর্শ ছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো। আর ভালো লাগত জিদান, রিভালদো, রোনালদিনহোর খেলা।
মেসির ছেলেবেলার সবচেয়ে প্রিয় খাবার ছিল মিলানেসা লা নাপোলিতানা। চিজ ও টমেটো সস দিয়ে বীফ কাটলেট। মা সপ্তাহে অনেকদিন বানিয়ে দিতেন।
সুত্রঃ ওয়েবসাইট
আরটি/এমআর/আরআইপি/এলএ