জমকালোভাবে ৯০ বছর পূর্তি উৎসব করবে মোহামেডান
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড প্রতিষ্ঠার ৯০ বছর পূর্তি উৎসব করবে এ বছর। রোববার মোহামেডানের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এই ঘোষণা দিয়েছেন ক্লাবটির সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ বুলু।
গত ৯ মার্চ ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হয় এবং ওই দিনই অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাৎক্ষণিক সভা। নির্বাচনের দুই মাস পর রোববারই প্রথম আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ সভা করলো মোহামেডানের পরিচালনা পর্ষদ। যে সভায় ক্লাবটি তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নির্ধারণ করে।
বৃটিশ আমলে (১৯৩৬ সালে) প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৯০ বছরে পদার্পণ করেছে মতিঝিল পাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। এ মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে এবং ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ক্লাবের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ।
সভার পর মতিঝিলের ক্লাব অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বরকত উল্লাহ বুলু এবং ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া।
৯০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রধান অতিথি করার পরিকল্পনা নিয়েছে মোহামেডান। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও সময় পেলে এ বছরের যে কোনো সময় এই অনুষ্ঠান করবে সাদা-কালোরা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই আয়োজনকে ঘিরে ক্লাবটি একটি বিশাল মিলনমেলা করতে চায়। যেখানে থাকবেন ক্লাবের দাতা সদস্য, স্থায়ী সদস্য, আজীবন সদস্য, সহযোগী সদস্য, শুভানুধ্যায়ীসহ অতীতের দেশী-বিদেশী তারকা খেলোয়াড় এবং মাঠ কাঁপানো সংগঠকরা।
ইউরোপীয় ক্লাবের আদলে ‘ফ্যান ক্লাব’ গঠন করে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা লাখো সমর্থককে একই সুতোয় বাঁধতে এবার আধুনিক ফুটবলের ছোঁয়া আনছে মোহামেডান।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় মোহামেডানের শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে। যেসব জেলায় ইতিমধ্যে কমিটি রয়েছে, সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। যেসব জেলায় কমিটি নেই, সেখানে স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী ও তরুণদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি দেওয়া হবে।
আগামী মৌসুমে শক্তিশালী দল গঠনের প্রত্যয়ের কথাও বলেছেন ক্লাব সভাপতি। এক সময় ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, সাঁতার, হ্যান্ডবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ প্রায় সব ডিসিপ্লিনেই দাপট ছিল সাদা-কালোদের। বর্তমানে মূলত ক্রিকেট, ফুটবল ও হকিতেই সীমাবদ্ধ তারা। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেছেন ক্লাব সভাপতি।
গত মৌসুমে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে পেশাদার যুগের প্রথম লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছিল মোহামেডান। চলতি মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের কাছে শিরোপা হারালেও, ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী মৌসুমে লিগ পুনরুদ্ধার করতে শক্তিশালী দল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্লাবের সভাপতি বলেছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ব্যালেন্সড দল গঠন করা হয়েছে। আগামী হকি লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো শক্তিশালী দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
সাভারে ক্লাবের যে ২৫ একর জমি আছে তা নিয়ে পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, ‘প্রজেক্টে গতি আনা হবে। আমরা একটা ডেভেলপমেন্ট কমিটি গঠন করতে যাচ্ছি। যে কমিটির চেয়ারম্যান হবেন মির্জা আব্বাস, যিনি এখন দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন আছেন। মোহামেডানের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন সাভারের ২৫ একর জমিতে নিজস্ব ভেন্যু ও একাডেমি নির্মাণ করা।’
বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়নে এবার কোমর বেঁধে নামছে মোহামেডানের নতুন কমিটি। পাশাপাশি, মতিঝিলে ক্লাবের বর্তমান নিজস্ব জমিটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পেছনে তৎকালীন গণপূর্ত মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদের নির্বাচিত সদস্য মির্জা আব্বাসের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাভার প্রজেক্ট দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই মির্জা আব্বাসকে মোহামেডানের ‘ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান’ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নবনির্বাচিত কমিটির এই কর্মপরিকল্পনা এবং আধুনিক ক্লাব কালচার ও নিজস্ব ভেন্যু গড়ার উদ্যোগ যদি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু মোহামেডান নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেই একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমর্থকরা আবার তাদের প্রিয় সাদা-কালো শিবিরকে স্বরূপে দেখার আশায় বুক বাঁধতেই পারে।
আরআই/আইএইচএস/