আক্ষেপ বাংলাওয়াশের


প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ২৪ জুন ২০১৫

পারলেন না টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়েও বাংলাওয়াশের দেখা পেলো না বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে জয় পেয়ে সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল টাইগারদের। এই ম্যাচ জিতলেই ছিল বাংলাওয়াশের হাতছানি। কিন্তু সেই আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মাশরাফিদের।

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ধোনি-ধাওয়ানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭৭ রানে হার মানে টাইগাররা। ৩১৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৪৭ ওভারে ২৪০ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ভারতের দেওয়া ৩১৮ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৮ রানেই সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার তামিম ইকবাল (৫)। ধবল কুলকার্নির বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন এই ব্যাটসম্যান। তবে তামিমের বিদায়ের পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে একাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন সৌম্য। লিটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে প্রায় একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৫ চার আর ২ ছক্কায় ৪০ রান করে কুলকার্নির বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে অশ্বিনের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। এরপর মুশফিক আর লিটন ৫০ রানের জুটি গড়ে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে। তবে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে মুশফিক (২৪) আর লিটন (৩৪) আউট হলে আবার চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

পার্টটাইম বোলার রায়নার বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। লিটন দাস অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে আসেন। এরপর সাকিব দলীয় ১৭৮ রানে বিদায় নিলে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। রায়নার বলে কুলকার্নির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। এরপর সাব্বির এবং নাসির কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে সাব্বির দলীয় ১৯৭ রানে বিনির বলে বোল্ড হয়ে ফিরে আসলে শেষ হয়ে যায় টাইগারদের আশা।

এরপর অধিনায়ক মাশরাফি অশ্বিনের বলে বোল্ড হয়ে যান। চার ওভার পরেই অশ্বিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন বাংলাদেশের শেষ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান নাসির। রাইডুর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন নাসির। এরপর রুবেল হোসেন রায়নার বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট করতে নেমে মুস্তাফিজুর ৯ রানে রাইডুর বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাদে পড়লে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ভারতের পক্ষে রায়না ৪৫ রানে ৩টি উইকেট পান। এছাড়া অশ্বিন এবং কুলকার্নি ২টি করে উইকেট পান।

এর আগে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। ধোনি এবং ধাওয়ানের দুটি অর্ধশত, রাইডুর দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষদিকে রায়নার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩১৭ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ভারত। তবে সপ্তম ওভারে বাংলাদেশ প্রথম সাফল্য পায়। এদিনও দিনের শুরু করেন তরুণ মুস্তাফিজ। তার ভয়ংকর অস্ত্র কাটারে এবারো খেলতে ব্যর্থ হন রোহিত। ব্যাটের কানায় লেগে কিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন রোহিত শর্মা। গত দুই ম্যাচেও মুস্তাফিজের বলেই বলি হয়েছিলেন রোহিত।

মুস্তাফিজের পর বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ভারতের পোস্টার বয় বিরাট কোহলিকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। কোহলির বিদায়ের পর ধাওয়ান-ধোনির ব্যাটের উপর ভর করে এগিয়ে যেতে থাকে ভারত। মাত্র ১৭ ওভার ৩ বলেই শত রানের কোঠা পূর্ণ করে তারা।


২৭তম ওভারে বাংলাদেশের পক্ষে আঘাত হানলেন অধিনায়ক মাশরাফি। নাসিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শেখর ধাওয়ান। তবে এর আগে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশত। ৭৩ বলে ১০ চারে ৭৫ রান করেন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

এরপর ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি দলের হাল ধরেন। আম্বাতি রাইডুকে সঙ্গে নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান তিনি। তবে ৪৪তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে মাশরাফির বলে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন রাইডু। দুই ওভার পরেই আবার আঘাত হানেন মাশরাফি। তবে এই উইকেটে কৃতিত্ব অনেকটাই মুস্তাফিজুরের। সীমানা থেকে দৌড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তিনি। ৭৭ বলে ৬টি চার এবং ১টি ছক্কায় ৬৯ রান করেন ধোনি।

এরপর রায়নার ২১ বলে ৩৮ রানে তিনশত রানের কোঠায় পৌঁছে ভারত। ৪৯তম ওভারে রায়নাকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পান মুস্তাফিজ। এই উইকেটে তিন ম্যাচের সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে রায়ান হ্যারিসকে ছুলেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিস।

বাংলাদেশের পক্ষে অধিনায়ক মাশরাফি ৭৬ রানে ৩ উইকেট পান। মুস্তাফিজুর রহমান ৫৭ রানে পান ২ উইকেট।

আরটি/আরএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।